স্টপেজ থেকে নড়ছে না বাস, যাত্রীদের ক্ষোভ

ঢাকা-ময়মনসিংহ ও ঢাকা-টাঙ্গাইল সড়ক ঢাকা-ময়মনসিংহ ও ঢাকা-টাঙ্গাইল সড়কের গাজীপুরের অংশে কোনও যানজট নেই। মহাসড়কে মালবাহী ট্রাকসহ অন্যান্য গাড়ির চাপও কম। এরপর যাত্রীদের গন্তব্য পৌঁছাতে বিড়ম্বনায় পড়তে হচ্ছে। কারণ, যাত্রীর আশায় বাস চালকেরা প্রতি স্টপেজে দীর্ঘ সময় থেমে থাকছেন। এতে যাত্রীরা বিরক্ত হয়ে চালকদের প্রতি ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।

জয়দেবপুরের চান্দনা চৌরাস্তায় দাঁড়িয়ে থাকা ময়মনসিংহগামী শ্যামলী পরিবহনের যাত্রী ইসমাইল হোসেনের অভিযোগ, বাস চালকেরা যাত্রীর আশায় বসে থেকে অযথা সময় পার করে যাত্রীদের বিড়ম্বনায় ফেলছেন।

কালিয়াকৈরগামী ঠিকানা পরিবহনের যাত্রী গাজীপুর মহানগরের তারগাছ এলাকার পোশাক শ্রমিক সোনিয়া আক্তার জানান, অফিস ছুটি হয়েছে বৃহস্পতিবার। গত দুদিনে সবাই বাড়ি চলে গেছে। ভাবছিলাম দুদিন পরে গেলে একটু স্বস্তিতে বাড়ি ফিরতে পারবো। কিন্তু, সড়কে যাত্রী না থাকায় বাস চালকেরা যাত্রীর অপেক্ষায় বসে থেকে যাত্রীদের ১২টা বাজিয়ে দিয়েছে। এ গরমের মধ্যে ছেলে-মেয়ে নিয়ে বাসে বসে থেকে খুব বিরক্ত লাগছে।

ময়মনসিংহগামী ইসলাম পরিবহনের যাত্রী সফিকুল ইসলাম সূজন জানান, ছোটখাট লোকাল বাসগুলো মহাসড়কের ওপর দাঁড়িয়ে যাত্রী ওঠানামা করায় একটু যানজট হচ্ছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা শুধু যানজটের দিকে নজর না দিয়ে যদি দাঁড়িয়ে থাকা যানবাহনের দিকে একটু গুরুত্ব দিতো তাহলে যাত্রীরা বাসচালক ও হেলপারদের জিম্মিদশা থেকে একটু মুক্তি পেতো। মহাসড়কে যত্রতত্র লোকাল বাস দাঁড়িয়ে থেকে যান চলাচলে বিঘ্ন সৃষ্টি করছে। পুলিশ যদি আরও দায়িত্বশীলভাবে কাজ করতো, তাহলে দুর্ভোগ ছাড়াই এবার ঘরে ফিরতে পারতেন যাত্রীরা।’

শ্যামলী পরিবহনের চালক জসীম উদ্দিন বলেন, ‘দুদিন পরই ঈদ। আমরাও পরিবার নিয়ে ঈদ করতে চাই। মহাসড়কের কোথাও যানজট নেই, আবার যাত্রীর সংখ্যাও কম। খালি গাড়ি নিয়ে গেলে তেল খরচও উঠাতে পারব না। তাই যাত্রীর আশায় প্রতি স্টেশনে ১০-১৫ মিনিট অপেক্ষা করছি।’

ময়মনসিংহের ফুলবাড়ীয়াগামী আলম এশিয়া পরিবহনের চালক হুমায়ুন কবির জানান, এ সড়কের টঙ্গী, স্টেশন রোড, মিল গেট, চেরাগ আলী, কলেজ গেট, হোসেন মার্কেট, গাজীপুরা, তারগাছ, বড়বাড়ি, বোর্ড বাজার, হারিকেন ফ্যাক্টরি ও মালেকের বাড়িতে থেমে থেমে গাড়ি চলছে।  তবে এ যানজট সড়ক পরিস্থিতির জন্য নয়। যাত্রী না থাকায় বিভিন্ন স্টপেজে গাড়ি দাঁড় করিয়ে রাখার কারণে কিছুটা যানজট দেখা যাচ্ছে। 

চান্দনা চৌরাস্তায় দাঁড়িয়ে থাকা কালিয়াকৈরগামী রাজধানী পরিবহনের চালক কলিম উদ্দিন জানান, সড়কে যাত্রী না থাকায় আমরা স্টপেজে বাস দাঁড় করিয়ে যাত্রীর আশায় রয়েছি। গত দুদিনে দূরের যাত্রীরা চলে গেছেন। এখন সড়কে যানবাহনের চাপ বেশি, যাত্রীর চাপ কম। তাই যাত্রীরা বিরক্ত হলেও আমাদের কিছু করার নেই।   

গ্রামীন ট্রান্সপোর্টের চালক আব্দুল আজিজ জানান, সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত মাত্র চারবার আপ-ডাউন করেছি। সড়কে যাত্রী না থাকায় তেল খরচও ওঠাতে পারিনি। তাই যাত্রীর অপেক্ষায় থাকছি। গাড়ি একটু দেরিতে ছাড়ছি। এতে যাত্রীরা রাগ করলেও আমাদের কিছুই করার নেই।

মহাসড়কের সালনা হাইওয়ে ফাঁড়ির ইনচার্জ এ কে এম কাওসারের দাবি, মহাসড়কের কোনও অংশে যানজট নেই। যানজট ঠেকাতে সড়কের প্রত্যেকটি গুরুত্বপূর্ণ স্থানে পুলিশ মোতায়েন ও টহল পুলিশ রাখা হয়েছে। তারা সড়কের যানজটসহ সব ধরনের সমস্যা নিরসনে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। মহাসড়কে যানজট নেই, দুর্ঘটনাও নেই। স্টপেজে পাঁচ মিনিটের বেশি দাঁড়িয়ে থাকার কোনও সুযোগ নেই। বিষয়টি আমরা দেখবো।