অবৈধভাবে বালু উত্তোলন-সংরক্ষণে পানির নিচে তিন হাজার একর জমি




পানির নিচে ফসলি জমিনরসিংদীর বেলাব উপজেলার বিন্নাবাইদ ইউনিয়নে আড়িয়াল খাঁ নদ থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন ও সংরক্ষণের ফলে ভরাট হয়ে গেছে খাল, বন্ধ হয়েছে স্লুইচ গেট। এ কারণে ইউনিয়নের পাঁচ গ্রামের শত শত কৃষকের প্রায় তিন হাজার একর ফসলি জমি পানিতে তলিয়ে গেছে। জলাবদ্ধতার কারণে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকরা ধানসহ অন্যান্য ফসল আবাদ করতে না পারার আশঙ্কায় রয়েছেন।

ভুক্তভোগী কৃষকরা জানান, সরকারি উদ্যোগে আড়িয়াল খাঁ নদের খনন কাজ চলমান। এ খনন কাজে উত্তোলন করা বালু নদের তীরেই ফেলা হচ্ছে। আর এসব বালু অবৈধভাবে উত্তোলন করে সংরক্ষণ ও বিক্রির মাধ্যমে লাভবান হচ্ছে স্থানীয় একাধিক চক্র ও জমির মালিক।

সরেজমিন গিয়ে দেখা গেছে, উপজেলার বিন্নাবাইদ ইউনিয়নের বেড়িবাধ বেষ্টিত গ্রাম চর ছায়েট, চর কাশিমনগর, চর লতিফপুর, রেজাই লতিফপুর, রাজা রামপুর এলাকার প্রভাবশালী একাধিক চক্র ও কিছু জমির মালিক অবৈধভাবে আড়িয়াল খাঁ নদ খননের এসব বালু উত্তোলন করছেন। সেই বালু সংরক্ষণে ভরাট হয়ে গেছে পানি নিষ্কাশনের খাল ও চর ছায়েট দক্ষিণ পাড়া স্লুইচ গেট। ফলে আড়িয়াল খাঁ নদ ও বৃষ্টির পানি নামতে পারছে না। এতে শত শত কৃষকের প্রায় তিন হাজার একর ফসলি জমি পানিতে তলিয়ে গেছে। ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে জমির ধান, কলা, আঁখ, অন্যান্য সবজিসহ বিভিন্ন ফসলাদি।

পানি নিষ্কাশন না হওয়ায় ফসলি জমির পাশাপাশি বাড়িঘর, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও সড়কেও পানি প্রবেশ করেছে। এতে জনজীবন ব্যাহত হচ্ছে। ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, জলাবদ্ধতার কারণে স্থানীয়রা ডায়রিয়া, চর্মরোগসহ নানা পানিবাহিত রোগে আক্রান্ত হচ্ছে। সমস্যা সমাধানের দাবিতে সম্প্রতি এলাকাবাসী পানিতে নেমে মানববন্ধন করেছেন।

এলাকাবাসীর অভিযোগ, স্থানীয় প্রশাসনের কাছে একাধিকবার পানি নিষ্কাশনের জন্য যোগাযোগ করা হলে মৌখিক আশ্বাসেই তা স্থির রয়েছে।

খাল দিয়ে নামছে না পানিবিন্নাবাইদ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. গোলাম মোস্তুফা গোলাপ বলেন, কিছু অসাধু বালু ব্যবসায়ী আড়িয়াল খাঁ নদ হতে বালু তুলে স্লুইচ গেট ও খাল বন্ধ করে ফেলেছে। এতে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। ফলে চরাঞ্চলের কয়েক হাজার একর জমির ফসল ক্ষতিগ্রস্ত হওয়াসহ হাজারো কৃষক নতুন ফসল আবাদে বাধাগ্রস্ত হচ্ছেন। এলাকার কৃষকদের বাঁচাতে আমি প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করছি।

তবে বালু ব্যবসায়ী বরজু মিয়া, খালেক মিয়া, আফতাব উদ্দীনের দাবি, স্লুইচ গেটের সামনে তাদের নিজস্ব জমি রয়েছে। তারা নিজ জমিতেই বালু ভরাট ও সংরক্ষণ করছেন। এ কারণে স্লুইচ গেট দিয়ে পানি না গেলে তাদের কিছু করার নেই বলেও জানিয়েছেন তারা।

চর ছায়েট গ্রামের ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক মো. দেলোয়ার হোসেন আসাদ এবং শামসুল হক বলেন, জলাবদ্ধতা সমস্যা সমাধানের জন্য আমরা বেলাব উপজেলা প্রশাসন ও উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যানকে অবহিত করেছি। তারা দুই-তিন দিনের মধ্যে পানি নিষ্কাশনের উদ্যোগ নেবেন বলে আশ্বাস দিলেও তা বাস্তবায়ন হয়নি।

যোগাযোগ করা হলে বেলাব উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শামীমা শরমিন বলেন, কমিটি গঠন করে সরেজমিনে ওই এলাকায় গিয়ে পানি নিষ্কাশনের উদ্যোগ নেওয়া হবে। অনিয়মতান্ত্রিকভাবে যদি কেউ বালু দিয়ে পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা বাধাগ্রস্ত করে থাকেন তবে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।