মানিকগঞ্জে কালীগঙ্গা থেকে অবৈধভাবে বালু তোলার অভিযোগ

নদী থেকে বালু তোলা হচ্ছেমানিকগঞ্জ সদর উপজেলার কালীগঙ্গা নদী থেকে ড্রেজার দিয়ে অবৈধভাবে বালু তুলে বিক্রি করার অভিযোগ পাওয়া গেছে। এতে নদী তীরবর্তী ফসলি জমি ভাঙনের মুখে পড়েছে। স্থানীয় প্রভাবশালীরা এ কাজ করছেন বলে জানা গেছে।

ভুক্তভোগী কয়েকজন কৃষকের অভিযোগ, সদর উপজেলার উত্তর পুটাইল গ্রামের সাইজুদ্দিন ড্রেজার দিয়ে নদীর বালু তুলে বিক্রি করেন। তার এ কাজের সঙ্গে পুটাইল ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) ৫ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য মো. নাজিমুদ্দিন সম্পৃক্ত।

ড্রেজার দিয়ে এভাবে বালু উত্তোলনের ফলে বিশাল গর্তের সৃষ্টি হয়ে আশপাশের ফসলি জমি ভেঙে যাওয়ার শঙ্কা রয়েছে। বাধা দিয়েও কোনও কাজ হচ্ছে না। উল্টো কৃষকদের হুমকি দেওয়া হচ্ছে।

সরেজমিনে দেখা গেছে, চর হিজলাইন মৌজায় নদীর তীরে ড্রেজার বসিয়ে বালু তুলে নিচু জমি ভরাট করা হচ্ছে।

চর বালিয়াবিল গ্রামের বাসিন্দা ওসমান গণি বলেন, যেখানে ড্রেজার দিয়ে বালু তোলা হচ্ছে, এর পাশেই তার ১২ শতাংশ জমি রয়েছে। এতে নদীর তীরে ভাঙন শুরু হওয়ায় তার জমিতেও ভাঙন দেখা দিয়েছে। বালু উত্তোলনে বাধা দেওয়ায় তাকে বালু ব্যবসায়ীরা হুমকি দিয়েছে।

হিজলাইন গ্রামের সুজন প্রামাণিক জানান, ড্রেজারের পাশে তারও ১২ শতাংশ জমি রয়েছে। বর্ষাকাল ছাড়া বাকি সময় সেখানে বিভিন্ন ফসলের আবাদ করেন। ড্রেজার দিয়ে বালু তোলার কারণে তার জমি ভাঙনের আশঙ্কায় রয়েছে।

উত্তর পুটাইল গ্রামের সাইজুদ্দিন ড্রেজার দিয়ে এসব বালু তুলছেন বলে জানান সেখানে কর্মরত এক শ্রমিক।

সংবাদ কর্মীদের উপিস্থতির খবর পেয়ে সেখানে উপস্থিত হন বালু ব্যবসায়ী সাইজুদ্দিন। তিনি এই প্রতিবেদককে বলেন, ড্রেজার দিয়ে বালু তুলে ইউপি সদস্য নাজিমুদ্দিনের জমিতে বালু ফেলা হচ্ছে। তার সহযোগিতায় সেখানে বালু তোলা হচ্ছে। এ বিষয়ে সংবাদ প্রকাশ না করার অনুরোধ করেন তিনি।

বালু তোলার সঙ্গে কোনও  সম্পৃক্ততা নেই বলে দাবি করে ইউপি সদস্য নাজিমুদ্দিন বলেন, তার নিজস্ব ২০ শতক নিচু জমিতে বালু ফেলা হচ্ছে। তিনি টাকা দিয়ে তিনি জমি ভরাট করছেন।

মানিকগঞ্জ সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মামুন সরকার বলেন, এ বিষয়ে সহকারী কমিশনারকে (ভূমি) সরেজমিনে খোঁজ নিয়ে যথাযথ ব্যবস্থা নিতে বলা হবে।