তিন দিনেও ইফতেখারের সন্ধান পাওয়া যায়নি, উদ্ধার অভিযান চলছে

ভবন কেটে উদ্ধার অভিযান চালানো হচ্ছে


নারায়ণগঞ্জের ১ নং বাবুরাইল তাঁতিপাড়া এলাকায় চারতলা ভবন ধসে পড়ার ঘটনায় এখনও উদ্ধার অভিযান চলছে। ঘটনার পর তিন দিন পেরিয়ে গেলেও এখনো উদ্ধার করা যায়নি নিখোঁজ ইফতেখার আলম ওয়াজেদকে। ফায়ার সার্ভিস কর্মীরা অত্যাধুনিক যন্ত্রপাতি ও ড্রিল মেশিন কাটার দিয়ে  ভবনের দেয়াল কেটে  এবং  সেচ যন্ত্র দিয়ে পানি নিষ্কাশন করে  ইফেতেখারের সন্ধান চালিয়ে যাচ্ছে।
নারায়ণগঞ্জ ফায়ার সার্ভিসের উপ-সহকারী পরিচালক আব্দুল্লাহ আল আরেফিন জানান,  ঘটনার পর থেকেই ফায়ার সার্ভিস ও ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরিরা উদ্ধার অভিযান শুরু করে।  নিখোঁজ শিশুর সন্ধানে গত দুই দিন ধরে তারা দিনরাত চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা এখন ভবন কেটে  দেয়াল সরিয়ে তল্লাশি চালাবে। কাটার মেশিন, ও ড্রিল মেশিন দিয়ে ভবনটি কেটে সরানো হচ্ছে ।
এদিকে দুই দিনেও শিশু ওয়াজেদের সন্ধান না পেয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন নিহতের পরিবার ও স্বজনরা। তারা  বলছেন,  ফায়ার সার্ভিস ও প্রশাসনের কর্তা ব্যক্তিরা সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন ধীরগতিতে। যে কারণে সময় নষ্ট হচ্ছে।  তাদের সন্তানের কি অবস্থা? তার ভাগ্যে কি ঘটেছে তারা কিছুই জানতে পারছেন না।
তারা সন্তানের অপেক্ষায় আছেন। সন্তান জীবিত হোক বা মৃত হোক তারা তাকে দেখতে চান।

ভাবনের সামনে পাহাড়া দিচ্ছে পুলিশ

এদিকে ভবন ধসে পড়ার ঘটনায়  গঠিত তদন্ত কমিটি কাজ শুরু করেছে। তদন্ত কমিটির আহ্বায়ক ও অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক রেহানা আক্তার জানান, ধসে পড়া ভবনটির রাজউক বা কোনও সংস্থার কাছে থেকে অনুমোদন নিয়ে নির্মাণ করা হয়েছিল কিনা, ভবনের নকশা প্রণয়ন করা হয়েছিল কিনা, ভবন নির্মাণে কোন কোন ইঞ্জিনিয়ার কাজ করেছে এসব বিষয়ে খোঁজ-খবর নেওয়া হচ্ছে।

তিনি আরও জানান, নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই তদন্ত প্রতিবেদন জেলা প্রশাসকের কাছে জমা দেওয়া হবে। 

অপরদিকে মঙ্গলবার সকালে নিহত কিশোর শোয়েবের মামা রিপন বাদী হয়ে ফতুল্লাহ মডেল থানায় ধসে পড়া ভবনের চার মালিকের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন।

বিষয়টি নিশ্চিত করে আজগর হোসেন ফতুল্লা মডেল থানার ইন্সপেক্টর মো. আজগর হোসেন জানান, নিহত শোয়েবের মামা রিপন হোসেন মামলাটি করেছেন। মামলায় ধসে পড়া বাড়ির চার মালিকের বিরুদ্ধে বিল্ডিং কোড না মেনে ভবন নির্মাণ ও অবহেলার অভিযোগ আনা হয়েছে। পুলিশ আসামিদের গ্রেফতারের চেষ্টা করছে।

তিনি আরও জানান, ভবন মালিকরা হলেন, আজহার হোসেন, শিউলি বেগম, বাবু, সুমন,। তারা সবাই ভাই-বোন। চার মালিকের মধ্যে দুই মালিক আজহার হোসেন ও বাবু মালয়েশিয়ায় প্রবাসী বলে জানা গেছে।
উল্লেখ্য গত রবিবার ৩ নভেম্বর বিকেল সাড়ে চারটায় ১ নং বাবুপাড়া এলাকার বড় বাড়িতে একটি চারতলা ভবন পাশের খালে ধসে পড়ে। ঘটনাস্থলে ৬ জন আটকা পড়ে। পরে স্থানীয় লোকজন ও ফায়ার সার্ভিস কর্মীরা ৫ জনকে উদ্ধার করে। তাদের মধ্যে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শোয়ায়েব নামে এক কিশোর মারা যায়। বাকিরা প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে বাসায় ফিরে গেছেন।