চাচিকে হত্যার বর্ণনা দিলো ভাতিজা ও তার দুই সহযোগী

গ্রেফতার

গাজীপুরে গৃহবধূ রীনা আক্তারকে (৪৫) গলায় ফাঁস দিয়ে হত্যা ও তার স্বামী সিদ্দিক বেপারিকে (৫০) ধারালো অস্ত্রের আঘাতে আহত করা হয়। এ ঘটনার মূলহোতা হোসেন ওরফে আপনসহ (১৯) তার দুই সহযোগীকে গ্রেফতার করেছে র‌্যাব-১ সদস্যরা। শুক্রবার সন্ধ্যা সোয়া ৭টার দিকে ঢাকার আশুলিয়া থেকে তাদের গ্রেফতার করা হয়। র‌্যাব-১ পোড়াবাড়ি ক্যাম্পের কোম্পানি কমান্ডার লে. কমান্ডার আব্দুল্লাহ আল মামুন গ্রেফতারের কথা জানান।

গ্রেফতারকৃত ব্যক্তিরা হলো নিহতের ভাতিজা ভোলা সদর উপজেলার বঙ্গেরচর (নদীভাঙ্গা) গ্রামের মৃত আব্দুল হামিদ বেপারির ছেলে হোসেন ওরফে আপন (১৯), মাগুরার মহম্মদপুর উপজেলার নারায়ণপুর গ্রামের জহির রায়হানের ছেলে ঈমন রায়হান (১৮) ও ঢাকার সাভার উপজেলার ঝাউচর গ্রামের সিরাজুল ইসলামের ছেলে রাইসুল ইসলাম রিফাত (১৯)।

র‌্যাব-১ পোড়াবাড়ি ক্যাম্পের কোম্পানি কমান্ডার আব্দুল্লাহ আল মামুন জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে জানতে পারি হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে সরাসরি জড়িত রাইসুল ইসলাম রিফাত আশুলিয়ায় আত্মগোপন করে আছে। এরপর সেখানে অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেফতার করা হয়। তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে শুক্রবার দিবাগত রাত ২টায় মাগুরার মহম্মদপুর বাজার থেকে তার দুই সহযোগীকে গ্রেফতার করা হয়।

জিজ্ঞাসাবাদে তারা জানায়, তাদের পরিকল্পনা ছিল চাচা যখন ফজরের নামাজ পড়তে মসজিদে যাবে তখন চাচি রীনা আক্তারকে হত্যা করবে। পরে মসজিদ থেকে এলে চাচাকে হত্যা করবে। এরপর চাচাতো ভাই দেলোয়ারকে এবং সবশেষে তার বউকে তিনজন মিলে ধর্ষণের পর হত্যা করবে। এরপর বাসা থেকে টাকা ও স্বর্ণালংকার নিয়ে পালিয়ে যাবে। ডাকাতির টাকা দিয়ে ভাতিজা হোসেন একটি ফ্ল্যাট, একটি পিস্তল ও মোটরসাইকেল কিনবে। তার দুই সহযোগীও একটি পিস্তল ও একটি মোটরসাইকেল কিনবে। পরে তারা সন্ত্রাসী হয়ে যাবে।

উল্লেখ্য, গত ২ নভেম্বর (শনিবার) সন্ধ্যায় গাজীপুর সদর থানার বিলাসপুর এলাকায় দুই বন্ধুকে নিয়ে হোসেন তার চাচা সিদ্দিক বেপারির বাসায় বেড়াতে আসে। রাতে খাবার খেয়ে তারা বাসার ছাদে বসে হত্যার পরিকল্পনা করে। ৩ নভেম্বর (রবিবার) ভোরে চাচি রীনা আক্তারকে গলায় ফাঁস দিয়ে হত্যা করে। ঘটনা দেখে ফেলায় চাচার হাত-পা ও মুখ বেঁধে ধারালো অস্ত্র দিয়ে শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত করে। এরপর মারা গেছে ভেবে ঘরের মেঝেতে ফেলে রাখে। পরে আলমারি ভেঙে নগদ ৩০ লাখ টাকা ও বিপুল পরিমাণ স্বর্ণালংকার নেয় তারা। এরপর চাচাতো ভাই দেলোয়ারকে হত্যা করতে গেলে সিদ্দিক বেপারি সিঁড়ির কাছে গিয়ে চিৎকার শুরু করেন। তখন আশপাশের লোকজন ছুটে এলে তার পালিয়ে যায়।

সিদ্দিক বেপারি উত্তরার লেকভিউ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন।