জানা গেছে, ‘৭১ সালে ঘাটারচরের তৎকালীন ইপিয়ার সদস্য মজিবুর রহমান, গোলাম মোস্তাফা, মজিদ পালোয়ান ও আজিজ খানসহ কয়েকজন মুক্তিযুদ্ধে যান। এরপর ওই এলাকার রহমান মাতব্বর নামে এক ব্যক্তি টানপাড়া জামে মসজিদের পাশে এলাকার যুবকদের সঙ্গে বৈঠকে বসেন। সেখানে যুবকরা মুক্তিযুদ্ধে যাওয়ার জন্য তাদের নাম লেখান। এ খবর মুহূর্তের মধ্যে পৌঁছে যায় পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীদের কাছে। পরে ‘৭১ সালের ২৩ ও ২৪ নভেম্বর হানাদার বাহিনীর সহযোগীরা গ্রামে গ্রামে নজরদারি করতে থাকে। ২৫ নভেম্বর ভোর বেলা কেরানীগঞ্জের আটি ও ঢাকার হাজারীবাগের রাজাকারদের সহযোগিতায় হানাদার বাহিনী টানপাড়া, ভাওয়াল খান বাড়িসহ পুরো ঘাটারচর ঘিরে ফেলে। এসময় পাকিস্তানি বাহিনী গ্রামের পুরুষদের ধরে এনে খালপাড়ে জড়ো করে গুলি করে হত্যা করে। বাড়িঘরে আগুন ধরিয়ে দেয়। বর্বর এ হত্যাকাণ্ডে ৫৮ জন প্রাণ হারায়। বেশিরভাগ লাশই ঘাটারচরে গণকবর দেওয়া হয়।
আক্ষেপ করে তিনি জানান, পাকিস্তানি সেনাদের গুলিতে প্রাণ হারানো ৫৮ জনের পরিবারের নাম নেই শহীদ পরিবারের খাতায়।
শহীদ জহির উদ্দীনের স্ত্রী আয়েশা খাতুন (৭৮) বলেন, ‘পাকিস্তানি সেনাদের গুলিতে প্রাণ হারানো স্বামী জহির উদ্দীন ও তার ভাতিজার লাশ দু’টিকে চাদর দিয়ে ঢেকে রাখি। সেনারা চলে যাওয়ার পরে লাশ দু’টি ঘরের পাশেই দাফন করা হয়।’ স্বামী-স্বজন হারিয়েও তিনি শহীদ পরিবারের স্বীকৃতিটুকুও পাননি।
মুক্তিযোদ্ধা মজিদ পালোয়ান জানান,আটি ভাওয়াল খানবাড়ির ঢাকা জেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার মোজাফফর আহমেদ বাদী হয়ে ঘাটারচরের গণহত্যার ঘটনায় ২০০৭ সালে ১৭ ডিসেম্বর ঢাকার সিএমএম কোর্টে মানবতবিরোধী অপরাধে একটি মামলা করেছিলেন। এই মামলায় কাদের মোল্লাহ,মতিউর রহমান নিজামি, আলী আহসান মুজাহিদ ও কামরুজ্জামানসহ ১৩ জনকে এজাহার নামীয় এবং ৫০/৬০ জনকে অজ্ঞাত আসামি করা হয়েছিল। এই মামলায় শুধু কাদের মোল্লাকে অভিযুক্ত করে চার্জশিট দেওয়া হয়।
এদিকে, প্রতিবছরের মতো এবারও দিনটি যথাযোগ্য মর্যাদায় পালন করা হবে। আয়োজন করা হয়েছে নানা অনুষ্ঠানের।