মুমুরদিয়া ইউনিয়নের বর্ত্তিহাটা গ্রামের মনির উদ্দিন জানান, তার স্ত্রী কুলসুম আক্তারকে মঙ্গলবার সন্ধ্যায় ওই ক্লিনিকে ভর্তি করান। রাতে সিজারিয়ান অপারেশনের মাধ্যমে একটি ছেলে সন্তান জন্ম নেয়। বুধবার সকাল ১১টার দিকে বোরকা পরা এক নারী ক্লিনিকে তার আত্মীয়ের আল্ট্রাসনোগ্রাম করাবে বলে জানান। ক্লিনিকের ভেতরে ঢুকে কুলসুম আক্তারের বেডের পাশে গিয়ে বসেন তিনি। এরপর নানা কথা বলে তার সঙ্গে খাতির জমান। একপর্যায়ে শিশুটিকে কোলে নিয়ে মেঝেতে হাঁটাহাঁটি করে আবার মায়ের কোলে ফেরত দেন। কিছুক্ষণ পর কুলসুম আক্তারের এক আত্মীয়কে শিশুটির শরীর মুছিয়ে দেওয়ার জন্য একটি গামছা ভিজিয়ে আনতে বলেন। তখন ওই নারী নবজাতককে আবার কোলে নিয়ে ক্লিনিকের বারান্দার দিকে যান। এ ঘটনা নবজাতকের মা দেখলেও তিনি মনে করেছিলেন শরীর মুছতে তার সন্তানকে নিয়ে গেছেন ওই নারী। পরে নবজাতককে নিয়ে ওই নারী আর ফিরে না আসায় সবার টনক নড়ে।
মনির উদ্দিন জানান, এ ঘটনার সময় তিনি ক্লিনিকে ছিলেন না, তার আগে বাড়িতে গিয়েছিলেন।
রেনেসাঁ ক্লিনিকের পরিচালক মো. সাদেক মিয়া বলেন, ‘এ ধরনের ঘটনা দুঃখজনক। আমি ক্লিনিকের কর্মীদের জিজ্ঞাসাবাদ করছি। কর্তব্যে অবহেলা করায় দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। এ ঘটনায় আমি নিজেও মর্মাহত ও ক্ষমাপ্রার্থী।’
কটিয়াদী উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মো. তানভির বলেন, ‘কোনও ক্লিনিক থেকে নবজাতক চুরির ঘটনা গুরুতর অভিযোগ। এ বিষয়ে আমি একটি তদন্ত কমিটি করছি। তারা বিষয়টি তদন্ত করে দেখবেন। একইসঙ্গে কমিটির সুপারিশের ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
কটিয়াদী থানার ওসি এম এ জলিল বলেন, ‘প্রথমত ওই ক্লিনিকের অব্যবস্থাপনা ও নাজুক নিরাপত্তা ব্যবস্থার কারণেই নবজাতক চুরি সম্ভব হয়েছে। দ্বিতীয়ত কুলসুম আক্তারও দায়ী। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। নবজাতককে উদ্ধারে বিভিন্ন জায়গায় অভিযান চালাচ্ছে তারা।’