চালের মূল্য নিয়ে কিছু মিডিয়া অস্থিরতার খবর প্রচার করছে: কৃষিমন্ত্রী

01চালের বাজারে কোনও অস্থিরতা নেই বলে জানিয়েছেন কৃষিমন্ত্রী ড. আব্দুর রাজ্জাক। তিনি বলেন, ‘কিছু মিডিয়ায় পেঁয়াজের বাজারের পাশাপাশি চালের বাজারে অস্থিরতা বিরাজ করছে এমন খবর প্রচার করছে। চিকন চালের দাম কিছুটা বাড়লেও মোটা চালের দাম তেমন বাড়েনি। তাহলে চালের বাজারে অস্থিরতা কোথায়? মিডিয়ায় চালের মূল্যের অস্থিরতা নিয়ে কেন খবর প্রচার করছে তা ঠিক বুঝতে পারছি না। কৃষকরা যাতে ন্যায্যমূল্য পান তার জন্য আমন মৌসুমে ছয় লাখ টন ধান কৃষকদের কাছ থেকে কেনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।’
বৃহস্পতিবার (২৮ নভেম্বর) সকালে গাজীপুরে বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউটের বার্ষিক গবেষণা পর্যালোচনা কর্মশালা ২০১৮-২০১৯ এ যোগ দিতে গিয়ে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।
কৃষিমন্ত্রী বলেন, ‘দেশে যেকোনও পণ্যের মূল্য নির্ভর করে ডিমান্ড অ্যান্ড সাপ্লাইয়ের ওপর। অর্থাৎ কী পরিমাণ পণ্যের চাহিদা রয়েছে আর কী পরিমাণ পণ্য সরবরাহ হচ্ছে তার ওপর। দেশে পেঁয়াজের চাহিদার তুলনায় আমদানি কম হওয়ায় এবং মজুত কম থাকায় দাম নিয়ন্ত্রণ করা যাচ্ছে না। বাজারে পণ্য সরবরাহ কম হলে র্যারব, পুলিশ ও সেনাবাহিনী কোনও কিছু দিয়েই বাজার নিয়ন্ত্রণ সম্ভব নয়।’
কৃষিমন্ত্রী আরও বলেন, ‘আমাদের দেশ কৃষি প্রকৃতি নির্ভর। ইচ্ছা করলেই আমি নতুন জাত উদ্ভাবন করতে পারি না। গত বছর পেঁয়াজের হারভেস্টের সময় বৃষ্টিপাত হয়। এতে পেঁয়াজ নষ্ট হয়ে যায়। কৃষকরা ঘরে মজুত রাখতে পারেনি। এতে দেশে পেঁয়াজের ঘাটতি দেখা দিয়েছে। ভারত যে এভাবে পেঁয়াজের উপর নিষেধাজ্ঞা দেবে এটা আমরা বুঝতে পারিনি। এখানে হয়তো আমাদের ভুল থাকতে পারে। আগেই আমাদের এসেসমেন্ট করা দরকার ছিল। জরিপ করা দরকার ছিল যে দেশে কত টন পেঁয়াজ উৎপাদন হয়েছে। আমরা কতটা পেঁয়াজ আমদানি করবো্’
আমদানি হলেও পেঁয়াজের দাম না কমার বিষয়ে আব্দুর রাজ্জাক বলেন, ‘আমাদের প্রয়োজন লক্ষ টন, সেখানে আমদানি হয় পাঁচশ’ টন। এক্ষেত্রে আমাদের আরও সজাগ ও সচেতন হতে হবে।’
পরে কৃষিমন্ত্রী ব্রি অডিটরিয়ামে অনুষ্ঠিত বার্ষিক গবেষণা পর্যালোচনা কর্মশালায় যোগ দেন। ব্রি’র মহাপরিচালক মো. শাহজাহান কবিরের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এ কর্মশালায় কৃষি মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব ড. কমলা রঞ্জন দাস, বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের এমেরিটাস প্রফেসর ড. এমএ সাত্তার মন্ডল, বার্কের নির্বাহী চেয়ারম্যান ড. মো. কবির ইকরামুল হক, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের মহাপরিচালক ড. মো. আব্দুল মুঈদ বক্তব্য রাখেন।