শ্রীপুরে শহীদ মিনারে ভাঙচুর, দুর্বৃত্তদের বিচার দাবি

শহীদ মিনারে ভাঙচুর চালায় দুর্বৃত্তরাগাজীপুরের শ্রীপুরের কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে ভাঙচুরে ঘটনায় তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন স্থানীয়রা। অনলাইন ও অফলাইনে ঘটনার প্রতিক্রিয়া জানিয়ে তারা অবিলম্বে দোষীদের চিহ্নিত করে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জোর দাবি তুলেছেন।

জানা যায়, বুধবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে একদল যুবক শ্রীপুরের মুক্তিযোদ্ধা রহমত আলী সরকারি কলেজ ক্যাম্পাসে অবস্থিত শ্রীপুরের কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারটিতে ভাঙচুর চালায়। তবে এ নিয়ে তেমন কোনও প্রতিক্রিয়া না দেখালেও ঘটনার কিছুক্ষণ পর বেলা ১১টার দিকে কলেজের হিসাববিজ্ঞান বিভাগের প্রধান অধ্যাপক রুহুল আমীনের উদ্যোগে ব্যানারসহ একটি পরিচ্ছন্নতা অভিযান পরিচালিত হয়।

অধ্যাপক রুহুল আমীন সাংবাদিকদের বলেন, অনেক শিক্ষক ওইসময়ে কলেজে ছিলেন। ঘটনার সময় আমি শ্রীপুর পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ে ছিলাম। এ বিষয়ে জানতে হলে কলেজের অন্য শিক্ষকদের কাছে জানতে হবে। আমি এ বিষয়ে কিছুই জানি না।

এদিকে ঘটনায় জাড়িতদের শাস্তির দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় মুক্তিযোদ্ধারা। তারা শহীদ মিনারের নামফলকে ভাঙচুরের ঘটনায় নিন্দা জানান।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের বিভিন্ন আইডিতে মন্তব্যকারীদের মধ্যে শ্রীপুর নাগরিক অধিকার সংরক্ষণ পরিষদের আহবায়ক আনোয়ার হোসেন উল্লেখ করেন, মুজিববর্ষের শুরু ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের আগ মুহূর্তে নামফলকটি ভাঙচুর করে জাতিকে কলঙ্কিত করা হয়েছে।

শহীদ মিনারে ভাঙচুর চালায় দুর্বৃত্তরামোড়ল আলমগীর তার পোস্টে লিখেন, ‘জাতি আজ কলঙ্কিত, লজ্জার শেষ কোথায়? শহীদ মিনারে আঘাত কোনও দ্বন্দ্বের কারণে হতে পারে না। এ আঘাত জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তানদের বুকে আঘাতের শামিল। হামলাকারীরা স্বাধীনতার ঘোর বিরোধী অংশ বিশেষ।’

হুমায়ুন কবির উল্লেখ করেন ‘শহীদ মিনারে আঘাত করা মানে মুক্তিযুদ্ধকে অপমান করার শামিল’।

অপর এক পোস্টে এমডি বাবুল হোসেন লিখেন, ‘যেই কলেজে আইয়ুব খানের চরিত্রের প্রশংসা করতে শোনা যায়, সেই কলেজের শহীদ মিনারে ভাঙচুর করলে কি হবে?’

শ্রীপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) লিয়াকত আলী জানান, দোষীদের ধরতে আমাদের চেষ্টা চলছে।

সার্বিক বিষয়ে ইউএনও শামসুল আরেফিন জানান, কাজটি নিঃসন্দেহে খারাপ হয়েছে। যারা ভাঙচুর চালিয়েছে তাদের চিহ্নিত করে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।