শেরপুরের কৃষকেরা ধান চাষের পূর্ব প্রস্তুতি হিসেবে আগেই ধানের চারার বীজতলা তৈরি করেন। বোরো ধান চাষের জন্য শীতের শুরু ডিস্বেবর মাসের প্রথম দিকে চাষিরা বীজতলা তৈরি শুরু করেন। কিন্তু, এ বছর শুরু থেকে শীতের তীব্রতা ও কুয়াশায় বীজতলা কোল্ড ইনজুরিতে পড়ে। এতে জেলার বিভিন্ন স্থানে বীজতলা ক্ষতিগ্রস্ত হয়। চারা কিনে চাষ করতে হলে কৃষকদের খরচ বেড়ে যাবে কয়েকগুন।
কৃষকরা জানান, অনেক চাষি একাধিকবার বীজতলা করলেও ভালো চারা জন্মেনি। কিন্তু, এখন আর বীজতলা তৈরির সুযোগ নেই। এখন বাজার থেকে বেশি দামে বোরো ধানের চারা কিনে চাষ করতে হবে। এতে তাদের খরচ বেড়ে যাবে দ্বিগুনেরও বেশি।
শেরপুর সদর উপজেলার বয়ড়াপরাণপুর গ্রামের কৃষক কাশেম আলী বলেন, ‘আড়াই শতাংশ জমিতে ৮ কেজি বোরো ধানের বীজতলা করেছেন। এতে খরচ হয়েছে আড়াই হাজার টাকা। কিন্তু, কুয়াশার কারণে বীজতলা বড় হচ্ছে না ও সাদা হয়ে যাচ্ছে।’
এ গ্রামের আরেক কৃষক মো. শাহিন বলেন, ‘দুই শতাংশ জমিতে ৫ কেজি ধানের বোরো ধানের বীজতলা করেছেন। খরচ হয়েছে ২ হাজার টাকা। কুয়াশার কারণে বীজতলা নষ্ট হয়ে যাচ্ছে।’
শেরপুর সদর উপজেলার বাজিতখিলা ইউনিয়নের সুলতানপুর গ্রামের কৃষক বাচ্চু মিয়া জানান, ‘আধাবিঘা জমিতে বোরো ধানের বীজতলা তৈরি করেছেন। কিন্তু, তীব্র শীত ও কুয়াশায় এবার বীজতলা ভালো হয়নি। চারা কিনে ধান লাগাতে হবে। ৩শ ৬০ টাকা কেজি দরে বীজ কিনে নিজের জমিতে ধান চাষের জন্য তিনি হাইব্রিড বীজতলা করেছিলেন।’
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর শেরপুরের উপ-পরিচালক মো. আশরাফ উদ্দিন বলেন, ‘চলতি বোরো মৌসুমে শেরপুর জেলায় ৯১ হাজার ৭৭৬ হেক্টর জমিতে বোরো ধান আবাদের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে। বোরো চাষের লক্ষ্যমাত্রা পূরণরে জন্য এবার ৫ হাজার ২শ ৫০ হেক্টর জমিতে বীজতলা তৈরি করা হয়েছে। এরমধ্যে ২শ হেক্টর বীজতলা আংশিক শীতে আক্রান্ত হয়েছে। কুয়াশা থেকে বীজতলা রক্ষায় কৃষকদের দিনের বেলা বীজতলা পলিথিন দিয়ে ঢেকে রাখা এবং এক থেকে দুই ইঞ্চি পানি দিয়ে বিকাল থেকে পুরো রাত ভিজিয়ে রেখে সকালে পানি বের করে দেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এছাড়াও কৃষকদের পাশাপাশি ইউনিয়ন উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তাদের সচেতন থাকতে বলা হয়েছে। যেসব স্থানে বীজতলায় সমস্যা দেখা দিয়েছে, সেসব স্থানে কীটনাশক প্রয়োগের পরামর্শও দেওয়া হয়েছে।’