স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত ৪ জানুয়ারি গভীর রাতে ওই এলাকায় আক্তারের রাইস মিলের তিন শ্রমিক- মিনার, মুকুল ও মমিনুলকে এক নারীসহ আটক করে স্থানীয়রা।এ সময় ষোলঘর ইউনিয়ন পরিষদের মহিলা মেম্বার ফিরোজা বেগম ওই নারীকে জিম্মায় নেন। পরে তাৎক্ষণিকভাবে সালিশ বসিয়ে তিন শ্রমিককে ১৮ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।
ষোলঘর ইউনিয়ন পরিষদের সংরক্ষিত আসনের সদস্য ফিরোজা বেগম বলেন, ‘বিষয়টি নিয়ে এলাকার শতাধিক লোকজন ভিড় করে। বাধ্য হয়ে নিজের এলাকার সমস্যা সমাধানে আমরা সালিশ করি। সালিশে ৮নং ওয়ার্ড সদস্য লিপটনও উপস্থিত ছিলেন। তিন শ্রমিকের কাছ থেকে স্থানীয়দের দাবির প্রেক্ষিতে ১৮ হাজার টাকা জরিমানা রাখি।’ চাঁদার টাকা ভালো কাজে ব্যয় করা হবে বলে জানান তিনি।
এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন,‘এ বিষয়ে পুলিশকে জানানো উচিত ছিল। কিন্তু আমরা জানাইনি। সেটা আমাদের ভুল হয়েছে। আমরা ক্ষমা চাচ্ছি।’
ফিরোজা বেগম আরও বলেন,‘অনেক পত্রিকায় প্রকাশ হয়েছে যে, তিন জন মিলে গৃহবধূকে ধর্ষণ করেছিল। কিন্তু, এটা সত্য নয়।ওই নারী গৃহবধূ না।’
এদিকে ষোলঘর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. আজিজুল ইসলাম বলেন, সালিশের বিষয়টি আমি জানতাম না। পরে জেনে সদস্যদের বকাঝকা করেছি। এছাড়া আমার আর কী করার আছে? আর বিষয়টি পুলিশকে জানিয়েছি। তবে, ওই মহিলা আমাদের ইউনিয়নের নয়। আর তিন শ্রমিকের বাড়ি উত্তরবঙ্গে। এ ঘটনার পর তারাও এলাকা ছেড়ে চলে গেছে।’
শ্রীনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হেদায়েতুল ইসলাম ভূঁইয়া বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘প্রাথমিক তদন্তে ধর্ষণের কোনও আলামত পাওয়া যায়নি। তিন শ্রমিক মিলে ওই মহিলাকে নিয়ে এসেছিল। তবে, তাদের কাউকে এলাকায় খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। আর সালিশ করে টাকা নেওয়ার সত্যতা পাওয়া গেছে। ইউপি সদস্য ফিরোজা বেগম টাকা নেওয়ার কথা স্বীকার করেছেন।’
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রহিমা আক্তার বলেন, বিষয়টি তদন্তাধীন রয়েছে। তদন্ত সাপেক্ষে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।