জনবল সংকট ও ঋণের ভারে জর্জরিত মানিকগঞ্জ বিসিক শিল্পনগরী





বিসিক শিল্পনগরী, মানিকগঞ্জ মানিকগঞ্জে বিসিক (বাংলাদেশ ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প করপোরেশন) শিল্পনগরীতে জনবল সংকট প্রকট আকার ধারণ করেছে। সেইসঙ্গে বিভিন্ন ব্যাংক থেকে নেওয়া ঋণের ভারে জর্জরিত হয়ে পড়েছে শিল্পনগরীর অনেক প্রতিষ্ঠান। একসময় এখানে ৮০টি শিল্প-কারখানা থাকলেও নানা সংকটে এখন টিকে আছে মাত্র ২৪টি। এর মধ্যে আবার ৮টি বন্ধ আছে। বিসিক, মানিকগঞ্জ সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।
জানা যায়, ১৯৮৮ সালে শিল্পের মাধ্যমে উন্নয়নকে এগিয়ে নিতে প্রায় ১০.৪০ একর জমির ওপর মানিকগঞ্জে এই ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্পের যাত্রা শুরু হয়। শিল্পনগরীটি এখন চলছে অতিরিক্ত দায়িত্বে থাকা একজন কর্মকর্তা, একজন পিয়ন ও একজন পানির পাম্প চালক দিয়ে। অনুমোদিত হিসাবরক্ষকের পদটি ২০০৭ সাল থেকে শূন্য রয়েছে। দারোয়ানের পদটিও এক যুগের বেশি সময় ধরে খালি। হিসাবরক্ষক পদটি সম্প্রতি খালি হয়েছে।
৯৯৯৯৯অতিরিক্ত দায়িত্বে থাকা শিল্পনগরীর কর্মকর্তা মো. রবিউল আলম বলেন, ‘অফিসে জনবল সংকট থাকায় স্বাভাবিক কাজ করা সম্ভব হচ্ছে না। আমার দফতরের কম্পিউটারটিও এক বছর ধরে নষ্ট। জোড়াতালি দিয়ে কোনোমতে অফিসিয়াল কাজ চলছে।’ তিনি আরও বলেন, ‘শিল্পনগরীর ২৪টি প্রতিষ্ঠানের বেশিরভাগ ঋণের ভারে জর্জরিত। বন্ধ থাকা ৮টি ও আংশিক চালু থাকা প্রায় ৫টি প্রতিষ্ঠানের সম্পদের চেয়ে ঋণের পরিমাণ বেশি।’
এই কর্মকর্তা আরও জানান, নাগার গার্ডেন (প্রা.) লি. বিসিক থেকে ৪৫ হাজার বর্গফুট ভূমি বরাদ্দ নেয়। এর মধ্যে ৩১ হাজার ৫০ বর্গফুটের বিপরীতে বেসিক ব্যাংক, ঢাকার একটি শাখা থেকে ৩৫ কোটি টাকার ঋণ গ্রহণ করে। অথচ প্রতিষ্ঠানটির স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদ মিলিয়ে এর এক ভাগও হবে না।
বিসিক শিল্পনগরী, মানিকগঞ্জ এছাড়া মেসার্স রিফ্লেক্স (প্রা.) লি. নামের আরেকটি প্রতিষ্ঠান ঋণ খেলাপির দায়ে বন্ধ রয়েছে। ওই প্রতিষ্ঠানটি বিসিক থেকে ২৭ হাজার বর্গফুট জমি বরাদ্দ নিয়ে রূপালী ব্যাংক, ঢাকার একটি শাখা থেকে ১৭ কোটি ৮৩ লাখ টাকা ঋণ নেয়।
এদিকে, বাংলাদেশ অ্যাপারেল এক্সেসরিজ লি. নামের একটি প্রতিষ্ঠান ব্যাংক ঋণে দেউলিয়া হয়েছে। ৪ কোটি টাকা ঋণ পরিশোধ না করায় বেসিক ব্যাংক লি. এর গুলশান শাখা প্রতিষ্ঠানটির ৯ হাজার ৯শ’ বর্গফুট জমি নিলাম করেছে।
মামলা সংক্রান্ত তথ্যঅপরদিকে, এলবাট্রোস ফেব্রিক্স (প্রা.) লি. ব্যাংকে ৬ কোটি টাকা ঋণ পরিশোধ না করে পালিয়ে গেছে। আর বিসিক নগরীর ইয়ার্ন কনসার্ন লি. সোনালী ব্যাংক থেকে ৩ কোটি টাকা ঋণ নিয়ে তা পরিশোধ না করায় সেটিও দেউলিয়া হয়েছে।
বিসিকের ওই কর্মকর্তা আরও জানান, নতুন উদ্যোক্তা খোঁজা হচ্ছে। নতুন উদ্যোক্তা না হলে এই শিল্প টিকবে না।
মানিকগঞ্জ চেম্বারের পরিচালক শহিদুল ইসলাম সুজন বিসিকের কর্মকাণ্ড নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান, এমনিতে অনেক প্রতিষ্ঠান ঋণ নিয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে তাদের কারখানা বন্ধ করে দিয়েছে। এ রকম একটি সংকটময় পরিস্থিতির মুখে শিল্পনগরীর চাকাকে সচল করতে নতুন উদ্যোক্তা আনতে হবে। কিন্তু বিসিকের অসহযোগিতার কারণে নতুন উদ্যোক্তা বিনিয়োগ করতে ভরসা পাচ্ছে না।