কিশোর নির্যাতনের ঘটনায় ১৩ জনের বিরুদ্ধে মামলা, গ্রেফতার ২

হাসপাতালে চিকিৎসাধীন নির্যাতানের শিকার কিশোর

গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জে চুরির অপবাদ দিয়ে হাত-পা বেঁধে কিশোর রফিকুলকে নির্যাতনের ঘটনায় ১৩ জনকে আসামি করে মামলা করা হয়েছে। এ ঘটনায় এজাহারভুক্ত দুই আসামি রানা ও আইজলকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। সোমবার (১৩ জানুয়ারি) ভোর রাতে সুন্দরগঞ্জ পৌর এলাকার ধুমাইটারি গ্রাম থেকে তাদের গ্রেফতার করা হয়। বিষয়টি নিশ্চিত করে সুন্দরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবদুল্লাহিল জামান।

এরআগে, রবিবার রাতে ১৩ জনকে আসামি করে নির্যাতনের শিকার কিশোরের বড় ভাই রফিকুল ইসলাম বাদী হয়ে সুন্দরগঞ্জ থানায় মামলা করেছেন। মামলায় সুন্দরগঞ্জ পৌরসভার সাবেক মেয়রের ছোট ভাই তনু প্রমাণিককে প্রধান আসামি করা হয়েছে।

গ্রেফতার রানা মিয়া (৩০) ধুমাইটারী গ্রামের বাবলু মিয়ার ছেলে ও আইজল মিয়া (৫০) একই গ্রামের আব্বাস আলীর ছেলে।

এ বিষয়ে কোনও কথা বলতে রাজি হননি মামলার প্রধান আসামি তনু প্রামাণিকসহ অভিযুক্তদের পরিবারের সদস্যরা।

সুন্দরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবদুল্লাহিল জামান বলেন, ‘চুরির অপবাদে কিশোরকে বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে নির্যাতনের ঘটনায় ১৩ জনের বিরুদ্ধে মামলা করেছে তার পরিবার। কিশোরকে নির্যাতনের ঘটনাটি পুলিশের আগে জানা ছিল না। রবিবার রাত ৮টার দিকে নির্যাতনের ঘটনার ভিডিও চিত্র ছড়িয়ে পড়ালে তারা ঘটনাটি জানতে পারে। এরপর কিশোরের পরিবারকে ডেকে এনে মামলা নেওয়া হয়। মামলার পর পরই অভিযান চালিয়ে দুইজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এছাড়া জড়িত অন্য আসামিদেরকে গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।

তিনি আর জানান, গ্রেফতার দুই আসামিকে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ শেষে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হবে। নির্যাতনের শিকার কিশোর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছে। তার পরিবারের লোকজনের নিরাপত্তায় পুলিশের নজরদারি রয়েছে।

সুন্দরগঞ্জ পৌর মেয়র আবদুল্লাহ আল মামুন বলেন, ‘চুরির অপবাদে দরিদ্র পরিবারের কিশোরকে আটকে রেখে হাত-পা বেঁধে নির্যাতনের ঘটনা অত্যন্ত দুঃখজনক। ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান তিনি।’

পুলিশ সুপার তৌহিদুল ইসলাম বলেন, ‘নির্যাতিতের পরিবারের কাছে থেকে মামলা নেওয়া হয়েছে। ঘটনায় অভিযুক্ত ১৩ আসামির মধ্যে এরইমধ্যে দুই জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। অন্য আসামিদেরও গ্রেফতারে তৎপরতা চলছে। নির্যাতনের ঘটনায় জড়িত কেউ ছাড় পাবে না।’