কারখানার বিভিন্ন শাখায় কর্মরত অপারেটর, লাইনচিফ, ইনপুটম্যান কর্মীরা বলেন, 'আমরা ভিক্ষা চাই না, কাজের পারিশ্রমিক চাই। আমরা চলতি মাসসহ গত তিনমাস ধরে বেতন-ভাতা পাচ্ছি না। এ সময়ে ঘরেও খাবার নেই, বাড়িওয়ালারা বাড়ি ভাড়ার জন্য চাপ দিচ্ছেন। এলাকায় ত্রাণ দেওয়া হলেও বাইরের জেলার ভোটার হওয়ায় ত্রাণও পাচ্ছি না। এ অবস্থায় সন্তানাদি নিয়ে না খেয়ে মরার উপক্রম হয়েছে। গত কয়েকদিন ধরে বেতন ভাতার দাবি জানিয়ে আসছি। কিন্তু কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে বেতনের নিশ্চিয়তা পাচ্ছি না।'
বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল) স্থানীয় প্রভাবশালীদের মাধ্যমে বিক্ষোভকারী শ্রমিকদের হুমকি দেওয়া হয়েছে বলেও তাদের অভিযোগ। তারা বলেন, 'কারখানার ম্যানেজমেন্টের দায়িত্বে থাকা কয়েকজন শ্রমিকদের গালিগালাজ ও মারধর করেন। বিভিন্ন সময় দাবি উত্থাপন করলে চাকরিচ্যুতির ভয় দেখান।'
এসব বিষয়ে কারখানার উপ-মহাব্যবস্থাপক (ডিজিএম) এম ইদ্রিস আলী বলেন, 'দুপুরে কারখানার নীতি নির্ধারক মহলের লোকজন আসলে শ্রমিকেরা অবরোধ তুলে নেন। পরে কারখানার ভেতরে শ্রমিকদের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে। আগামী ২২ এপ্রিল শ্রমিকদের বেতন দেওয়ার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে। শ্রমিকদের নির্যাতন বা স্থানীয় প্রভাবশালীদের মাধ্যমে হুমকি ধামকি দেওয়ার বিষয়টি সঠিক নয়।'
অপরদিকে, মুলাইদ এলাকার হাসিন সোয়েটার কারখানার শ্রমিকেরা অভিযোগ করেন, গত কয়েকদিন আগে কারখানা কর্তৃপক্ষ তাদের বিকাশ হিসাব খুলতে বলেন। তারা সেই অনুযায়ী হিসাব খুলে কর্তৃপক্ষের কাছে জমা দেন। পরে বৃহস্পতিবার রাতে তাদের স্ব স্ব বিকাশ হিসাবে টাকা জমা হবে বলে কর্তৃপক্ষ জানিয়ে দেন। কিন্তু শুক্রবার সকালে বিকাশে টাকা না আসায় শ্রমিকেরা ৯টার দিকে কারখানার সামনে গিয়ে কারখানা বন্ধ এবং বিকাশ হিসাবে টাকা পাঠানো হয়েছে বলে নোটিশ দেখতে পান। ওই সময় কারখানায় কোনও কর্মকর্তা-কর্মচারী ছিলেন না বলে জানান শ্রমিকেরা। এ সময় শ্রমিকেরা সেখানেই বিক্ষোভ শুরু করেন।
গাজীপুর শিল্প পুলিশের পুলিশ সুপার (এসপি) সিদ্দিকুর রহমান বলেন, 'এমএইচসি অ্যাপারেলসের কর্তৃপক্ষের সঙ্গে শুক্রবার সকাল থেকে চেষ্টা করেও যোগাযোগ করা
সম্ভব হয়নি। স্থানীয় প্রভাবশালীদের মাধ্যমে শ্রমিকদের হুমকি ধামকি দেওয়ার অভিযোগগুলোর প্রমাণ পাওয়া গেছে। আমরা স্থানীয় পৌর কাউন্সিলরের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছি।'
পুলিশ সুপার বলেন, 'হাসিন সোয়েটারের শ্রমিকেরা কারখানার সামনে বিক্ষোভের একপর্যায়ে সকাল ১০টার দিকে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়ক অবরোধের চেষ্টা করেন। পরে শিল্প পুলিশ তাদের বাধা দিলে তারা পুলিশকে লক্ষ করে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করে। এসময় শিল্প পুলিশ বেশ কয়েক রাউন্ড কাঁদানে গ্যাস ছুড়ে শ্রমিকদের ছত্রভঙ্গ করে দেন।’