গাজীপুরের জেলা প্রশাসক (ডিসি) এস এম তরিকুল ইসলাম জানান, জেলা প্রশাসনের পরিকল্পনা ও অর্থায়নে নির্দিষ্ট ডিজাইনের পাঁচটি বুথ শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল এবং কালীগঞ্জ, কাপাসিয়া, শ্রীপুর ও কালিয়াকৈর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে একটি করে বুথ স্থাপন করা হয়েছে।
শুক্রবার (১ মে) থেকে কালীগঞ্জে বুথের মাধ্যমে নমুনা সংগ্রহ শুরু হয়েছে। আগামী রবিবার (৩ মে) থেকে সব বুথ থেকে সেবা দেওয়া শুরু হবে।
কাপাসিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ইসমত আরা জানান, সংসদ সদস্য সিমিন হোসেন রিমির আর্থিক সহায়তায় কাপাসিয়া উপজেলার প্রত্যেক ইউনিয়নে একটি করে মোট ১১টি এবং জেলা প্রশাসনের পরিকল্পনা ও অর্থায়নে কাপাসিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে একটি ‘নমুনা সংগ্রহ বুথ’ স্থাপন করা হবে।
শ্রীপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা (আরএমও) ডা. ফাতেহ আকরাম বলেন, 'জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে একটি এবং শ্রীপুর পৌরসভার মেয়র আনিছুর রহমানের পক্ষ থেকে দেওয়া দুইটির বুথের মধ্যে একটি ১০ শয্যা বিশিষ্ট মা ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্রে এবং অপরটি রাজাবাড়ী উপ-স্বাস্থ্য কেন্দ্রে স্থাপন করা হয়েছে।’
কালীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. সাদেকুর রহমান আকন্দ বলেন, 'শুক্রবার (১ মে) সকালে বুথ স্থাপন করা হয়েছে। এখন থেকে আউটডোর ও জরুরি বিভাগে করোনা উপসর্গ নিয়ে আসা রোগীরা বুথ থেকে সেবা নিতে শুরু করেছেন।'
তিনি আরও বলেন, 'যিনি নমুনা সংগ্রহ করেন এবং যিনি দিতে যান দুজনের জন্যই কাজটা ঝুঁকিপূর্ণ। একজন টেকনিশিয়ান পিপিই পরে নমুনা নেন। প্রথম নমুনা নেওয়ার সময় সেই লোকটির যদি করোনা পজিটিভ হয়, তবে তার জীবাণুতে পিপিইটা আক্রান্ত হয়। পরে আবার অন্য একজন সুস্থ মানুষের নমুনা সংগ্রহ করতে গেলে তিনি সেখান থেকে আক্রান্ত হয়ে যাবেন। বুথের মাধ্যমে নমুনা নেওয়া হলে যিনি নমুনা নিচ্ছেন তিনি নিরাপদ, আবার যিনি দিচ্ছেন তিনিও নিরাপদ।'
গাজীপুরের সিভিল সার্জন ডা. খাইরুজ্জামান বলেন, 'আউটডোর ও জরুরি বিভাগে করোনা উপসর্গ নিয়ে আসা রোগীরা করোনাভাইরাস ‘নমুনা সংগ্রহ বুথ' থেকে সেবা নেবেন। সম্পূর্ণ কাঁচ দিয়ে ঘেরা এই বুথের মধ্যে একজন চিকিৎসক অবস্থান করবেন। সামনের সামান্য ফাঁকা জায়গা দিয়ে গ্লাভস পরিহিত ব্যক্তি হাত বের করে রোগীর রক্তচাপ নির্ণয় এবং থার্মাল ডিটেক্টরের মাধ্যমে শরীরের তাপমাত্রা পরীক্ষা করবেন। স্থাপন করা সাউন্ড সিস্টেমের মাধ্যমে চিকিৎসক ও বাইরে থাকা রোগীর মধ্যে কথোপকথন হবে। এ সময় কোনও রোগীর তাপমাত্রা করোনাভাইরাসের উপসর্গের সঙ্গে মিলে গেলে তাকে করোনা ওয়ার্ডের আইসোলেশনে পাঠানো হবে।’