করোনার হটস্পট নারায়ণগঞ্জে সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালের ১৫ চিকিৎসকসহ ৯০ স্বাস্থ্যকর্মী করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন। আক্রান্তদের অধিকাংশ আইসোলশনে আছেন। আবার কয়েকজন সুস্থ হয়ে বাড়িতে বিশ্রামে রয়েছেন। বিপুল সংখ্যক ডাক্তার ও নার্স করোনা আক্রান্তের জন্য রোগীদের তথ্য গোপন করে চিকিৎসা নেওয়া, সময়মতো চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের উপযুক্ত নিরাপত্তা সরঞ্জাম (পিপিই)সহ অন্যান্য সরঞ্জাম সরবরাহ না করাকেই দায়ী করছেন সংশ্লিষ্টরা।
এ ব্যাপারে নারায়ণগঞ্জ জেলা ক্লিনিক মালিক সমিতির সভাপতি ডা. শাহনেওয়াজ জানান, তথ্য গোপন করে চিকিৎসা নেওয়া রোগীর সংখ্যা খুব বেশি নয়। তবে যে রোগী জানেই না যে সে করোনায় আক্রান্ত, সেসব রোগীকে কীভাবে দায়ী করবো। আসলে এ মহামারি দুর্যোগের সময় সব চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীর নিরাপত্তার বিষয়টি সরকারকে নিশ্চিত করতে হবে। তাহলে চিকিৎসকদের আক্রান্তের পরিমাণ কমে আসবে। এতে একদিকে তাদের আক্রান্তের সংখ্যা কমে আসবে অন্যদিকে করোনা দুর্যোগ মোকাবিলায় আমাদের চিকিৎসকরা সাহসী ভূমিকা রাখতে পারবে।
তিনি সরকারি-বেসরকারি সব চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীকে উপযুক্ত পিপিই দিয়ে নিরাপত্তার বিষয়টি নিশ্চিত করার দাবি জানান।
এ ব্যাপারে নারায়ণগঞ্জ জেলা করোনা প্রতিরোধ কমিটির ফোকাল পারসন ও সদর উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. জাহিদুল ইসলাম জানান, প্রথম দিকে চিকিৎসকদের নিরাপত্তা পিপিই ও সরঞ্জাম সংকট থাকলেও এখন পর্যাপ্ত মজুত আছে। চাহিদা অনুযায়ী চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের সরবরাহ করা হচ্ছে। করোনা পাবলিক ট্রান্সমিশন হয়ে যাওয়ার কারণে এখন নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না কীভাবে করোনা ছড়িয়ে পড়ছে। তবে চিকিৎসকরা সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে রোগীদের সেবায় নিয়োজিত রয়েছেন।
নারায়ণগঞ্জের সিভিল সার্জন ইমতিয়াজ আহমেদ জানান, চিকিৎসকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পর্যাপ্ত পিপিই ও নিরাপত্তা সরঞ্জাম সরকার সরবরাহ করেছে। আশা করি সামনে এ আক্রান্তের সংখ্যা আরও কমে আসবে।