নারায়ণগঞ্জে কিট সংকটে ভোগান্তিতে রোগীরা

একজনের নমুনা নেওয়া হচ্ছেহটস্পট নারায়ণগঞ্জে প্রতিদিন করোনায় সংক্রমণের সংখ্যা বাড়ছে। বাড়ছে মৃতের সংখ্যাও। গত আড়াইমাসে নারায়ণগঞ্জে করোনায় আক্রান্ত হয়ে দুই জন ডাক্তার ও নার্সসহ ১০৮ জন মারা গেছেন। ভাইরাসটিতে আক্রান্ত হয়ে হাসাপাতাল ও নিজ নিজ বাড়িতে চিকিৎসাধীন রয়েছেন চার হাজার ৭৬৭ জন। এমন পরিস্থিতিতে গত ছয় দিন কিট সংকটের কারণে টেস্ট বন্ধ ছিল জেলার খানপুর তিনশ' শয্যা হাসাপাতালে। গত মঙ্গলবার (২৩ জুন) থেকে কিট সরবরাহ করায় আবার নমুনা সংগ্রহ ও পরীক্ষ শুরু হয়েছে। কিন্তু প্রয়োজনের তুলনায় পরীক্ষার হার কম হওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় রোগী ও সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা। 

তাদের প্রশ্ন, জেলার বেসরকারি গাজী পিসিআর ল্যাবে পাঁচ শিফটে টেস্ট করানো হচ্ছে, অথচ খানপুর তিনশ' শয্যা হাসপাতালে কেন নয়। খানপুর হাসপাতাল চার থেকে পাঁচ শিফটে করোনার টেস্ট করানোর দাবি জানিয়েছেন নগরবাসী।

জানা যায়, নারায়ণগঞ্জের সরকারি ও বে-সরকারি দু'টি পিসিআর ল্যাবে করোনার উপসর্গ নিয়ে আসা রোগীদের টেস্ট করা হচ্ছে। দু'টি পিসিআর মেশিনের পরীক্ষার সক্ষমতা একই। রূপগঞ্জের কাঞ্চনে বেস্টওয়ে সিটিতে অবস্থিত গাজী কোভিড-১৯ পিসিআর ল্যাবে ইউএস বাংলা হাসাপাতালের সহযোগিতায় প্রতিদিন চার থেকে পাঁচ শিফটে ৩৭৬ থেকে ৪৭০টি পর্যন্ত নমুনা পরীক্ষা করা হয়। কিন্তু একই সক্ষমতার খানপুর তিনশ' শয্যা হাসপাতালের পিসিআর ল্যাবে সরকারি সব সুযোগ-সুবিধা থাকার পরও তারা সর্বোচ্চ নমুনা পরীক্ষা করেছে ২৮২টি। সক্ষমতা থাকার পরও কম টেস্ট করার কারণে প্রতিদিনই মানুষকে ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে।

করোনা টেস্ট কেন্দ্রখানপুর হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ সূত্রে জানা যায়, খানপুর তিনশ' শয্যা হাসপাতালে প্রতিদিন নমুনা পরীক্ষা করার জন্য হাসপাতালের নির্ধারিত তিনটি মোবাইল নম্বরে কমপক্ষে ৪শ' থেকে ৫শ' এসএসএস আসে। কিন্তু হাসাপাতাল কর্তৃপক্ষ ১৫০ থেকে ১৬০ জনের নমুনা পরীক্ষার জন্য ফিরতি এসএমএস পাঠায়। সিভিল সার্জন অফিস ও নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের দু'টি বুথে যে নমুনা সংগ্রহ করা হয়, তা এই পিসিআর ল্যাবে পাঠানো হয়। সব মিলিয়ে খানপুর তিনশ' শয্যা হাসপাতাল ১৮৮ থেকে ২৮২টি টেস্ট করে।

নগরীর চাষাঢ়ার বাসিন্দা আফজাল হোসেন জানান, প্রতিদিনই নারায়ণগঞ্জে করোনা সংক্রমণ নিয়ে রোগীরা পরীক্ষার জন্য দ্বারে দ্বারে ঘুরছেন। কিন্তু, পরীক্ষা করার জন্য সিরিয়াল দিয়ে পাঁচ থেকে ছয় দিন অপেক্ষা করতে হচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, 'রূপগঞ্জে বে-সরকারি গাজী কোভিড-১৯ হাসাপাতাল যদি প্রতিদিন গড়ে ৪শ' করে টেস্ট করাতে পারে, তবে খানপুর তিনশ' শয্যা সরকারি হাসপাতালে সব সুযোগ-সুবিধা পেয়েও কেন এত অল্প টেস্ট করছে?'

নমুনা নেওয়ার কাজে ব্যস্ত চিকিৎসকরা এ ব্যাপারে নারায়ণগঞ্জ নাগরিক কমিটি সভাপতি অ্যাডভোকেট এ বি সিদ্দিক বলেন, 'নারায়ণগঞ্জের খানপুর তিনশ' শয্যা পিসিআর ল্যাবে করোনার নুমনা পরীক্ষা বাড়ানোর দাবিতে মাববন্ধনসহ বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করেছি। কিন্তু হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের অবহেলায় টেস্টের হার কম হচ্ছে।'

তিনি আরও বলেন, 'অতিদ্রুত আইসিইউ চালু এবং টেস্টের হার বাড়ানো জন্য সরকারের কাছে জোর দাবি জানাচ্ছি। কেননা নারাযণগঞ্জে কেরোনা রোগীর সংখ্যা প্রতিদিনই বাড়ছে।' টেস্টের হার বাড়ানোর পাশাপাশি আরও একটি পিসিআর ল্যাব নারায়ণগঞ্জে বসানোর জন্য সরকারের কাছে দাবি জানান তিনি। 

গাজী পিসিআর ল্যাব এর পরিচালক ডা. সফিকুল ইসলাম জানান, রূপগঞ্জের বে-সরকারি গাজী কভিড-১৯ পিসিআর ল্যাবে সোনারগাঁও, রূপগঞ্জ ও আড়াইহাজার স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সসহ বিভিন্ন এলাকা থেকে আসা নমুনা পরীক্ষা করা হয়। ইউএস বাংলা মেডিক্যাল কলেজের ভাইরোলজিস্ট, টেকনিশিয়ান দিয়ে প্রতিদিন চার থেকে পাঁচ শিফটে ৩৭৬ থেকে ৪৭০টি পর্যন্ত নমুনা পরীক্ষা করা হয়।'

এ ব্যাপারে খানপুর তিনশ' শয্যা হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. গৌতম রায় জানান, দুই শিফটের জনবল দিয়ে তারা প্রতিদিন তিন শিফটের কাজ করাচ্ছেন। প্রতিদিন এই হাসপাতাল থেকে সর্বোচ্চ ২৮২টি নমুনা পরীক্ষা করানো হচ্ছে। নির্ভুল ও পরীক্ষার গুণগত মান বজায় রাখার জন্য তারা এভাবে পরীক্ষা করাচ্ছেন। একইসঙ্গে দেশে যেহেতু কিটের একটি সংকট রয়েছে, সেই বিষয়টি মাথায় রেখেই তাদের কাজ করতে হচ্ছে।