গাজীপুরের শ্রীপুরে সামাজিক বনায়ন কর্মসূচির আওতায় অর্ধশতাধিক উপকারভোগেীরা তাদের লভ্যাংশ পায়নি। প্রায় এক বছর আগে গাছপালা বিক্রি ও সেসব কেটে নেওয়া হয়েছে। বন বিভাগের স্থানীয় কর্মকর্তাদের পরামর্শ অনুযায়ী উপকারভোগেীরা তাদের নিজ নামে ব্যাংক হিসাব খুলেছেন। কিন্তু এখনও টাকা পাননি।
শ্রীপুর উপজেলার সাতখামাইর বন বিটের আওতাধীন উপকারভোগী ইদ্রিস আলী এবং সহযোগী পোষাইদ এলাকার উপকারভোগীরা জানান, সাত বছর আগে ওই বিটের ২৪ জন উপকারভোগী ২৪টি প্লট বরাদ্দ দিয়ে বনায়ন করেন। স্থানীয় বন বিভাগ প্রতিটি প্লট ১ হেক্টর করে উপকারভোগীদের সঙ্গে চুক্তিভিত্তিক দেখভালের দায়িত্ব দেন। উপকারভোগীরা রাতে দিনে পাহাড়া দিয়ে বন দেখাশুনা করে আসছেন। অপেক্ষাকৃত দরিদ্র শ্রেণির খেটে খাওয়া মানুষজন উপকারভোগী হিসেবে অন্তর্ভুক্ত হয়েছেন। প্রায় এক বছর আগে দরপত্র আহ্বানের মাধ্যমে বন বিভাগ ওইসব বাগান বিক্রি করেন। একইসঙ্গে উপকারভোগীদের লভ্যাংশ বুঝে নিতে ব্যাংক হিসাব খুলতে পরামর্শ দেন। ইতোমধ্যে কার্যাদেশ পাওয়া ঠিকাদারেরা ওইসব বন কেটেও নিয়ে গেছেন।
সাতখামাইর বিটের পোষাইদ গ্রামের উপকারভোগী কাজল জানান, বন বিট (ফরেস্ট) অফিসে যোগাযোগ করলে আজ নয় কাল-এ সপ্তাহ নয় পরের সপ্তাহ এভাবে তারিখ দেওয়া হয়।
উপকারভোগীরা জানান, বনের বিক্রি করা গাছ কাটার পর আবার নতুন করে বনায়ন করা হয়েছে। সেগুলোও তারা দেখভাল করছেন। কিন্তু গাছ বিক্রির প্রায় এক বছর পেরিয়ে গেলেও তারা লভ্যাংশের অর্থ বুঝে পাচ্ছেন না।
শ্রীপুর-মাওনা সড়কের সামাজিক বনায়নের কমপক্ষে ২৫ উপকারভোগী রয়েছেন। তাদের অনেকেই জানান, ব্যাংক হিসাব খুলে নিয়মিত ব্যাংকে খোঁজ খবর রাখছেন। এখনও পর্যন্ত লভ্যাংশের কোনও টাকা তাদের ব্যাংক হিসাবে জমা হয়নি।
তবে বন বিভাগের আরেকটি সূত্র জানায়, করোনার কারণে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র আপডেট করতে বিলম্ব হওয়াতে সাময়িক সমস্যা দেখা দিয়েছে। অচিরেই তার সমাধান করা হবে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে ঢাকা বিভাগীয় বন কর্মকর্তা ইছব জানান, স্থানীয় রেঞ্জ কর্মকর্তারা বিষয়টির সমাধান দিতে পারবেন।
শ্রীপুর ফরেস্ট রেঞ্জ কর্মকর্তা আনিছুর রহমান জানান, উপকারভোগীদের কাছ থেকে কাগজপত্র সংগ্রহ এবং প্রসেসিং করতে বিলম্ব হওয়াতে সময় চলে গেছে। তিনি উপকারভোগীদেরকে বন বিটের কর্মকর্তার (ফরেস্টার) সঙ্গে সমন্বয় করে তার কার্যালয়ে সাক্ষাতের পরামর্শ দেন।