ইভ্যালির নামে প্রতারণা: এখনও মামলা হয়নি

793d39b0b1d6c7bca5d8737942f08520-5f43c2e0974ccটাকা নিয়ে গ্রাহককে সময়মতো পণ্য না দেওয়াসহ নানা অভিযোগের ভিত্তিতে গত সোমবার (২৪ আগস্ট) মানিকগঞ্জের সিংগাইরে কথিত ‘ইভ্যালি’র একটি শাখা থেকে প্রায় ৩৯ লাখ নগদ টাকা এবং প্রতিষ্ঠানটির স্থানীয় ম্যানেজারসহ তিন জনকে আটক করা হয়। টাকাগুলো থানা পুলিশের জিম্মায় রয়েছে। আটক তিন ব্যক্তিকে সোমবার রাতে স্থানীয় চেয়ারম্যানের জিম্মায় দেওয়া হলেও মঙ্গলবার (২৫ অক্টোবর) তাদের তিন জনকে পুলিশে সোপর্দ করেছে উপজেলা নির্বাহী অফিসার  (ইউএনও)রুনা লায়লা। তবে এ ঘটনায় এখন কারও বিরুদ্ধে কোনও মামলা হয়নি। 

নির্বাহী অফিসার রুনা লায়লা জানান, আটক ব্যক্তিরা প্রতারণার উদ্দেশ্যে ওই প্রতিষ্ঠানটি পরিচালনা করেছিল, যা দণ্ডবিধি ১৮৬০ এর ৪০৬ ও ৪২০ ধারায় অপরাধ। এর পেছনে আরও বড় ধরনের কোনও চক্র কাজ করছে কিনা তা খতিয়ে দেখতে অধিকতর তদন্তের প্রয়োজন। দণ্ডবিধি ৪০৬ ও ৪২০ ধারা মোবাইল কোর্ট আইন-২০০৯ এর দ্বারা বিচার্য নয় বিধায়, মোবাইল কোর্ট আইন ২০০৯ এর ৬(১) ধারা মোতাবেক আসামিদের তাৎক্ষণিক দণ্ড দেওয়ার সুযোগ নেই। এ জন্য মোবাইল কোর্ট আইনের ৬(৫) ধারা মোতাবেক জব্দ তালিকা ও জব্দকৃত মালামালসহ অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে উপযুক্ত আদালতে মামলা দায়ের পূর্বক প্রতিবেদন জেলা ম্যাজিস্ট্রেট বরাবর পাঠানোর জন্য এবং অভিযোগটি এজাহার হিসেবে গণ্য করার জন্য ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা, সিংগাইর থানাকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

তবে সিংগাইর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রকিবুজ্জামান জানান, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা যে অভিযোগটি এজাহার হিসেবে গণ্য করার আদেশ দিয়েছেন সেটি নিয়ে আইনি জটিলতা রয়েছে। তিনি জানান, যে ব্যক্তি ওই প্রতিষ্ঠানের দ্বারা প্রতারিত হয়েছেন, তাকেই বাদী হয়ে মামলা করতে হবে। এ কারণে এ ঘটনায় এখনও মামলা করা সম্ভব হয়নি।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, সিংগাইরের ইভ্যালি ই-কর্মাস নামের প্রতিষ্ঠানের মালিক হেনা আক্তার ঘটনার পর থেকে পলাতক রয়েছেন। তিনি স্থানীয় একটি বেসরকারি ব্যাংকে (মধুমতি ব্যাংক) নিজের নামে একটি সঞ্চয়ী হিসাব খুলে গত এক মাসে দেড় কোটিরও বেশি টাকা জমা রেখেছেন। সর্বশেষ গত ২৪ আগস্ট পর্যন্ত তার পুরো টাকা কয়েক দফায় উত্তোলন করে নিয়ে গেছেন।

উপজেলা নির্বাহী অফিসার রুনা লায়লা জানান, ইভ্যালি নামের ওই প্রতিষ্ঠান বলধরা এলাকার পারিল বাজারে একটি অফিস বসিয়ে তারা গ্রাহককে বেশি মুনাফার প্রলোভন ও বিভিন্ন পণ্যের আকর্ষণীয় অফার দিয়ে পণ্য বিক্রি ও চাহিদাকৃত পণ্য সময় মতো  না দিয়ে গ্রাহকের সঙ্গে বেশ কয়েক মাস ধরে প্রতারণা করে আসছে। এলাকাবাসীর অভিযোগের ভিত্তিতে উপজেলা নির্বাহী অফিসার রুনা লায়লা সোমবার দুপুরে কথিত ইভ্যালির অফিস থেকে নগদ ৩৮ লাখ ৮৯ হাজার ৩শ’ টাকাসহ অফিসটির ব্যবস্থাপক বলধরা গ্রামের সুরুজ মিয়ার ছেলে বিপ্লবকে (২৫) আটক করে। একইসঙ্গে সহকারী ব্যবস্থাপক পারিল গ্রামের ওয়াজ উদ্দিনের ছেলে ববিদুল ইসলাম (২৫) এবং পারিল নওধা গ্রামের ফজলুল হকের ছেলে জামালকে (৩৮) আটক করা হয়।

আটককৃতরা জানান, তারা ইভ্যালির নামে বিভিন্ন ব্যক্তির কাছ থেকে মোবাইলে কিংবা অনলাইনে নানান ধরনের প্রোডাক্ট অর্ডার নেন। পরে তা গ্রাহকদের কাছে পৌঁছে দিয়ে থাকেন।

কিন্তু এর আড়ালে ওই প্রতিষ্ঠানটি অল্প দিনে অধিক মুনাফার প্রলোভন দেখিয়ে প্রতিদিন বলধরা শাখায় এক থেকে দেড় কোটি টাকা বিকাশ ও নগদে গ্রহণ করতো। উপজেলা নির্বাহী অফিসার এ তথ্য নিশ্চিত করে জানান, ঘটনাস্থলে গিয়ে অভিযোগকারীরা তাকে জানিয়েছেন প্রতিষ্ঠানটি প্রতিদিন বিকাশ ও নগদে প্রায় এক থেকে দেড় কোটি টাকা গ্রহণ করেন। কিন্তু প্রতিষ্ঠানটির কোনও ব্যাংক অ্যাকাউন্ট নেই। সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত টাকা কালেকশন করে ব্যাগ ভর্তি করে ব্যবস্থাপক নিয়ে যান।

মানিকগঞ্জের সরকারি এক চাকরিজীবীকে এই ইভ্যালির পারিল শাখা থেকে প্রলোভন দেখানো হয়েছিল চার লাখ টাকা এখানে বিনিয়োগ করলে মাত্র পনেরো দিনে তাকে ছয় লাখ টাকা দেওয়া হবে। নাম প্রকাশ না করার শর্তে ওই সরকারি কর্মকর্তা জানান, প্রতিষ্ঠানটির প্রলোভনের মাত্রা এতোটাই বেশি ছিল যে, তা নিয়ে যেকোনও শিক্ষিত ব্যক্তির সন্দেহ হবে। এ জন্য তিনি ইভ্যালির প্রলোভন থেকে সরে আসেন।

জানা গেছে, প্রতিষ্ঠানটির শাখা প্রধান হেনা আক্তার স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের ট্রেড লাইসেন্স দিয়ে এই ভয়াবহ প্রতারণার ব্যবস্থা পরিচালনা করতেন। স্থানীয় প্রভাবশালীরা বিষয়টি জানলেও প্রতিষ্ঠানটি তাদের ম্যানেজ করেই এই অপকর্ম করতো বলে অভিযোগ রয়েছে।

আরও পড়ুন...

ইভ্যালির নামে প্রতারণা: ৩৯ লাখ টাকাসহ আটক ৩