মসজিদে বিস্ফোরণে দগ্ধ ফটোসাংবাদিক নাদিম আর নেই

 



নিহত ফটোসাংবাদিক নাদিম আহমেদ নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলার পশ্চিম তল্লা এলাকায় মসজিদে বিস্ফোরণের ঘটনায় গুরুতর দগ্ধ অবস্থায় হাসপাতালে মারা গেছেন ফটোসাংবাদিক নাদিম আহমেদ (৪৫)। শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) রাত সোয়া ১০টায় তিনি ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে মারা যান।

নাদিমের ভাই হেলাল জানান, শুক্রবার রাত সাড়ে ৮টার দিকে তল্লার ওই মসজিদে ভয়াবহ বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। নাদিমের বাড়ি খানপুর ব্যাংক কলোনি এলাকায় হলেও সে ওখানে গিয়েছিল একটি সংবাদ সংগ্রহ করতে। কাজের ফাঁকে বায়তুস সালাত জামে মসজিদে এশার নামাজ পড়তে গিয়ে বিস্ফোরণে দগ্ধ হয়। বিস্ফোরণে গুরুতর দগ্ধ নাদিমকে প্রথমে নারায়ণগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। পরে সেখান থেকে পাঠানো হয় ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে। আশঙ্কাজনক অবস্থায় বার্ন ইউনিটে চিকিৎসাধীন ছিলেন নাদিম। সর্বশেষ স্থানীয় ইউটিউবভিত্তিক টেলিভিশন ন্যান টিভিতে কর্মরত ছিলেন নাদিম।
রবিবার (৬ সেপ্টেম্বর) জোহরের নামাজের পরে খানপুর চিলড্রেন পার্কে নাদিম আহমেদের জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। জানাজায় জেলা প্রশাসক জসিম উদ্দিন, জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আব্দুল হাই, সাধারণ সম্পাদক আবু হাসনাত মোহাম্মদ শহীদ বাদল, সহ-সভাপতি ইকবাল পারভেজ, মিজানুর রহমান বাচ্চু প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

প্রসঙ্গত, শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) রাতে এশার নামাজের সময় এ বিস্ফোরণ ঘটে। ফরজ নামাজের মোনাজাত শেষে অনেকে সুন্নত ও অন্য নামাজ পড়ছিলেন। এ সময় মসজিদের ভেতরে প্রায় ৪০ জন মুসল্লি ছিলেন। বিস্ফোরণে তাদের প্রায় সবাই দগ্ধ হন। তাদের মধ্যে এ পর্যন্ত প্রায় ২৪ জন মারা গেছেন।
শেখ হাসিনা বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটের প্রধান সমন্বয়ক ডা. সামন্তলাল সেন এর আগে জানিয়েছিলেন, দগ্ধদের মধ্যে বেশিরভাগেরই মেজর বার্ন। অনেকের বার্ন কম থাকলেও শ্বাসনালি পুড়ে গেছে। তাই কেউ আশঙ্কামুক্ত নয়। দগ্ধদের অনেককে আইসিইউতে পাঠানো হয়েছে।