মুন্সীগঞ্জের লৌহজং এর মাওয়ায় অবস্থিত কন্সট্রাকশন ইয়ার্ডের স্টিল ট্রাস জেটি থেকে সকাল সাড়ে ৯টায় স্প্যান ১-ডি বহন করে পৃথিবীর সবচয়ে বড় ভাসমান ক্রেন তিয়ান-ই রওনা দেবে । আবহাওয়া ও নদীর স্রোত অনুকূলে থাকলে শনিবারই সেতুর পিয়ার-৪ ও পিয়ার-৫ এর উপর স্থাপন করা হবে স্প্যানটি। পদ্মা সেতুর নির্বাহী প্রকৌশলী ও প্রকল্প ব্যবস্থাপক দেওয়ান মো. আব্দুল কাদের এ খবর নিশ্চিত করেন।
তিনি জানান, ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান এরই মধ্যে বাংলাদেশ সেতু বিভাগকে চিঠি দিয়ে স্প্যান বসানোর কথা জানিয়েছে। তারা নির্বিঘ্নে স্প্যান বসানোর জন্য ভাসমান ক্রেনের দুই পাশে পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা রাখতে অনুরোধ করেছে, যাতে করে উজানভাটির কোনও পাশ থেকে কোনও জলযান চলাচল করতে না পারে।
তিনি আরও জানান, এরইমধ্যে সেতুর ৩১টি স্প্যান বসানো হয়ে গেছে। বাকি রয়েছে মাওয়া প্রান্তের ১০টি স্প্যান। এগুলোর মধ্যে ৯টি স্প্যান প্রস্তুত সম্পন্ন হয়েছে।
জানা গেছে, বাকি দশটি স্প্যান অক্টোবরের প্রথম দিকে বসানোর কথা ছিল। কিন্তু, বর্ষা মৌসুমে পদ্মার পানি ৬ মিটারের বেশি বৃদ্ধি পাওয়ায় স্রোতের তীব্রতা বেড়ে যায়। তীব্র স্রোতে ভাসমান ক্রেন নোঙর করতে অসুবিধা হয়। এতে সিডিউল অনুযায়ী স্প্যান বসানো যায়নি। তবে, প্রকৌশলীরা আশা করছেন আগামী ডিসেম্বর নাগাদ সবগুলো স্প্যান বসানোর কাজ সম্পূর্ণ করা যাবে।
এদিকে, সেতুর অন্য কাজও এগিয়ে চলছে। সংশোধিত সময় অনুযায়ী মূল সেতু সমাপ্তির শেষ তারিখ আগামী বছরের ৩০ জুন। ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২০ তারিখ পর্যন্ত মূল সেতুর ৯০ ভাগ কাজ শেষ হয়েছে। উল্লেখযোগ্য কাজের মধ্যে মূল সেতুর ২৯১৭টি, রোডওয়ে স্ল্যাবের মধ্যে ১০২৮টি এবং ২৯৫৯টি রেলওয়ে স্ল্যাবের মধ্যে ১৫৭৬ টি স্ল্যাব বসানো হয়েছে। মাওয়া ও জাজিরা ভায়াডাক্টে ৪৮৪টি সুপার-টি গার্ডারের মধ্যে ২১৬টি বসানো হয়েছে। নদী শাসন কাজের বাস্তব অগ্রগতি ৭৪ দশমিক ৫০ ভাগ।
৩০ হাজার ১৯৩ দশমিক ৩৯ কোটি টাকা ব্যয়ে গৃহীত এই প্রকল্পের সার্বিক অগ্রগতি ৮১ দশমিক ৫০ ভাগ। ৬.১৫ কিলোমিটার দৈর্ঘ্যের পদ্মা সেতু প্রকল্পের দ্বিতল মূল সেতুটি নির্মাণ করছে চায়না রেলওয়ে মেজর ব্রিজ ইঞ্জিনিয়ারিং গ্রুপ কো. লিমিটেড (এমবিইসি)।