সেতুর অপেক্ষায় ৪৫ বছর!

বাঁশের সাঁকো দিয়ে পার হচ্ছেন লোকজনস্বাধীনতার পর থেকে মানিকগঞ্জের ঘিওর উপজেলার বানিয়াজুরী-বাঠুইমুড়ি বেড়িবাঁধের ৫ কিলোমিটার রাস্তার বেহাল দশা। একটু বৃষ্টি হলেই সাধারণ মানুষের দুর্ভোগের সীমা থাকে না। বছরের প্রায় ৬ মাস ওই তিনটি স্থানে পানি থাকে। এই রাস্তায় তিনটি সেতুর অভাবে ৪৫ বছর ধরে লাখো মানুষ ভোগান্তি পোহাচ্ছে। অথচ এই তিনটি সেতু নির্মাণ করা হলে জেলার হরিরামপুর, ঘিওর, দৌলতপুর, শিবালয় ও মানিকগঞ্জ সদর উপজেলার সঙ্গে যোগাযোগ সহজ হবে। স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদফতর কর্তৃপক্ষ ওই রাস্তায় সেতু নির্মাণের আশ্বাস দিলেও তা কার্যকরী হতে দেখা যায়নি। আবারও আশ্বাসের কথা জানালেন ঘিওর উপজেলা প্রকৌশলী সাজ্জাকুর রহমান। তিনি জানালেন, চলতি অর্থবছরেই তিনটি সেতু নির্মাণ করা হবে।

সরেজমিন বানিয়াজুরী-বাঠুইমুড়ি বেড়িবাঁধ ঘুরে দেখা গেলো, মানুষের দুর্ভোগের চিত্র। ৫ কিলোমিটার বেড়িবাঁধের এই পথে নেই কোনও পাকা সেতু। বেড়িবাঁধের তাড়াইল, নয়াচর ও বানিয়াজুরী অংশে তিনটি জায়গায় পানি প্রবাহের জন্য পথ রাখা হলেও ৪৫ বছরেও সেখানে কোনও সেতু নির্মাণ করা হয়নি। ফলে বর্ষা মৌসুমে বাঁশের সেতু, না হয় নৌকায় পার হয়ে মানুষজন গন্তব্যে পৌঁছান।

বাঁশের সাঁকো দিয়ে পার হচ্ছেন লোকজন

তাড়াইল এলাকার বাঁধের ওপরে প্রায় ১৫-১৬ বছর ধরে ছোট্ট একটি ছাপড়া ঘরে চায়ের দোকান করছেন ৭৫ বছর বয়সী বৃদ্ধ রাজু খান। তিনি বলেন, একসময় হরিরামপুর উপজেলার ঐহিত্যবাহী ঝিটকা হাটে যাতায়াতের অন্যতম রাস্তা ছিল বানিয়াজুরী-বাঠুইমুড়ি বেড়িবাঁধটি। বিশেষ করে ঘিওর, দৌলতপুর, শিবালয় এমনকি অন্যসব জেলার হাজার হাজার মানুষজন এই বেড়িবাঁধের রাস্তা ব্যবহার করে ঝিটকা হাটে বিকিকিনির জন্য আসা যাতায়াত করতো।

কিন্তু বেড়িবাঁধের যোগাযোগ ব্যবস্থা এতোই নাজুক হয়ে পড়েছে যার ফলে সামান্য বৃষ্টি হলেই অচল হয়ে পড়ে মানুষের যাতায়াত। আর বর্ষার সময় বাঁধের তাড়াইল, নয়াচর ও বানিয়াজুরী অংশের পানি প্রবাহের তিনটি জায়গা পানিতে ভরপুর থাকায় প্রায় ৬ মাস মানুষের দুর্ভোগের সীমা থাকে না। তিনটি ব্রিজ নির্মাণ করা হলে হাজার হাজার মানুষের দুর্ভোগ থাকবে না।

বাঁশের সাঁকো দিয়ে পার হচ্ছেন লোকজন

ঘিওর উপজেলা এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী সাজ্জাকুর রহমান বলেন, বানিয়াজুরী-বাঠুইমুড়ি বেড়িবাঁধ রাস্তায় তিনটি সেতুর অনুমোদন আমরা পাওয়া গেছে। সয়েল টেস্ট করার পর ডিজাইন ও সেতু নির্মাণের বাজেট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হয়েছে।