গাজীপুরে চোর সন্দেহে নারীকে পিটিয়ে হত্যা

গাজীপুরে মোবাইলফোন চোর সন্দেহে মানসিক ভারসাম্যহীন নারী এসনেহারকে (৪০) পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। ওই নারী ভোলা জেলার লালমোহন এলাকার সুলতান মিয়ার মেয়ে এবং ভ্যানচালক হোসেন আলীর স্ত্রী। এ ঘটনায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য কয়েকজনকে আটক করেছে পুলিশ। শুক্রবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) মহানগরীর গাছা থানার কুনিয়া পাছর এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের (জিএমপি) গাছা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ইসমাইল হোসেন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।

ওসি ইসমাইল হোসেন বলেন, রিকশা ভ্যানচালক হোসেন আলীর স্ত্রী এসনেহার সকালে মহানগরীর গাছা থানার কুনিয়া পাছর এলাকার সোনাবাড়ি কবরস্থান সড়কের বাড়িতে যায়। ওই বাড়িটির মালিক গাজীপুর মহানগর আওয়ামী লীগের নেতা মোহাম্মদ শহিদুল্লাহ। সিঁড়ি দিয়ে নিচে নামার সময় এসনেহারকে চোর সন্দেহে আটক করে বাড়ির লোকজন। তারা এসনেহারের বিরুদ্ধে ওই বাড়ির ষষ্ঠ তলার এক ভাড়াটিয়ার কক্ষ থেকে মোবাইলফোন চুরির চেষ্টা করার অভিযোগ তুলেন। পরে বাড়ির লোকজন হাত-পা বেঁধে এসনেহারকে বেধড়ক মারধর করেন। খবর পেয়ে পুলিশ গুরুতর আহত অবস্থায় এসনেহারকে তালাবদ্ধ একটি কক্ষ থেকে উদ্ধার করে প্রথমে স্থানীয় তায়েরুন্নেছা মেমোরিয়াল হাসপাতালে নিয়ে যায়। পরে তার অবস্থার অবনতি হলে তাকে দুপুরে টঙ্গীর শহীদ আহসান উল্লাহ মাস্টার জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক এসনেহারকে মৃত ঘোষণা করেন।

ওসি নিহতের স্বামীর বরাত দিয়ে দিয়ে জানান, এসনেহার গত কয়েকদিন ধরে মানসিকভাবে ভারসাম্যহীন অবস্থায় ছিল। নিহতের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য সন্ধ্যায় গাজীপুর শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে বলে জানান তিনি।

তিনি আরও জানান, এ ঘটনায় কয়েকজনকে আটক করে থানায় এনে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।