ফরিদপুরের ভাঙ্গা থানায় পরিকল্পিত হামলা!

পরিকল্পিতভাবে ফরিদপুরের ভাঙ্গা থানায় হেফাজতে ইসলাম ও চরমোনাই পীরের অনুসারিরা অতর্কিত হামলা চালিয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, বেলা ২টার দিকে জোহরের নামাজের পর ভাঙ্গা থানা সংলগ্ন জামিয়া ইসলামিয়া কাসেমুল উলুম ঈদগাহ মাদ্রাসা থেকে একটি মিছিল বের হয়। মিছিলটি ভাঙ্গা বাজার ঘুরে বিশ্বরোড এলাকায় যায়। পরে বিশ্বরোড থেকে ফিরে মিছিলের জনতা ভাঙ্গা থানার কাছে ঈদগাহ মাদ্রাসা মাঠে ফের জড়ো হয়। মিছিলকারীরা ওই মাঠ থেকে লাঠি ও কাঠের বাটাম সংগ্রহ করে বেলা সোয়া ২টার দিকে ২/৩ শ' মানুষ ভাঙ্গা থানায় হামলা করে বলে অভিযোগ উঠেছে।

হামলাকারীরা ভাঙ্গা থানার গেট এবং ভেতরে ঢুকে দুটি মোটরসাইকেল ভাঙচুর করে। এ সময় হামলাকারীরা থানার দিকে লক্ষ্য করে ব্যাপকহারে ইট-পাটকেল ছুড়তে থাকে। এ হামলা ঠেকাতে গিয়ে দুই এসআই ও এক এএসআইসহ ছয় পুলিশ সদস্য আহত হন। পরে পুলিশ ব্যারাক থেকে পুলিশ এসে শর্টগানের ৪৫টি গুলি ছুড়ে পৌনে এক ঘণ্টা পর পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

এ ঘটনায় আহত হন ভাঙ্গা থানার এসআই মো. শহীদুল্লাহ (৪৭), আবুল কালাম আজাদ (৩৪), এএসআই আজিজুল রহমান (৩২), কনস্টেবল জয়নাল আবেদিন (৩৫), শাহ জালাল (২৭) ও মতিউর রহমান (৪৬)। তাদের ভাঙ্গা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়।

খবর পেয়ে ফরিদপুরের পুলিশ সুপার মো. আলিমুজ্জামান ভাঙ্গায় গিয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। তিনি সাংবাদিকদের বলেন, এ হামলা পরিকল্পিত। আমরা বিভিন্ন মাদ্রাসায় আগে থেকেই যোগাযোগ করেছিলাম। তারা কথা দিয়েছিল কোনও ঝামেলা করবে না। কিন্তু কথার বরখেলাপ করে অতর্কিত এ হামলা চালিয়েছে তারা।

পুলিশ সুপার আরও বলেন, ভাঙ্গা বর্তমানে একটি গুরুত্বপূর্ণ জায়গা। ভারতের প্রধানমন্ত্রীর নরেন্দ্র মোদির গোপালগঞ্জ সফরের পর ভিআইপিদের ঢাকা-খুলনা মহাসড়ক ও এক্সপ্রেসওয়ে দিয়ে ঢাকায় ফেরা পণ্ড করার জন্যই এ ঘটনা পরিকল্পিতভাবে ঘটানো হয়েছে।

পুলিশ সুপার আলিমুজ্জামান সাংবাদিকদের আরও বলেন, আমরা জানতে পেরেছি, হেফাজতে ইসলাম ও চরমোনাই পীরের অনুসারীরা এ ঘটনা ঘটিয়েছেন। এখন পর্যন্ত তাদের কোনও নেতা এ ঘটনায় জড়িত বলে স্বীকার করেননি। তবে যারা এ আন্দোলন সংঘবদ্ধ করেছেন, তাদের পরিচয় শনাক্ত করতে পেরেছি।

তিনি বলেন, এ বিষয়ে পুলিশ মামলা করবে। মামলার পর সংঘবদ্ধ হামলাকারীদের পরিচয় প্রকাশ করতে পারবো।

এদিকে শনিবার (২৭ মার্চ) দুপুরের পর থেকে ফরিদপুরে দুই প্লাটুন (৪০ জন) বিজিবি মোতায়েন করা হয়েছে। ফরিদপুরে এসেই তারা ভাঙ্গার উদ্দেশে রওনা দেন। ভাঙ্গাসহ স্পর্শকাতর জায়গায় বিজিবির টহল শুরু হয়েছে। জেলাজুড়ে তাদের টহল ও নজরদারি থাকবে বলে জানা গেছে। বিজিবির ঝিনাইদহ মহেশপুর ৫৮ ব্যাটালিয়নের নায়েক সুবেদার মো. হাফিজুর রহমানের নেতৃত্বে বিজিবি সদস্যরা ফরিদপুরে এসে পৌঁছান বলে জানা গেছে।


আরও পড়ুন:

থানায় হামলা, ছয় পুলিশ আহত