হরতাল সমর্থনে হেফাজত নেতাকর্মীদের তাণ্ডবের পর এবার যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা শহরে গ্যাস সরবরাহ বন্ধ রয়েছে। গতকাল রবিবার (২৮ মার্চ) রাত ১১টা থেকে আবাসিক ও বাণিজ্যিক গ্যাস সরবরাহ বন্ধ রয়েছে। এতে করে অন্তত ৩০ হাজার আবাসিক ও বাণিজ্যিক গ্রাহক চরম দুর্ভোগে পড়েছেন। পাশাপাশি সিএনজি পাম্পগুলোতে গ্যাস সরবরাহ বন্ধ থাকায় কয়েক শত পরিবহন মালিক চরম দুর্ভোগে পড়েছেন।
ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা শহরে বাখরাবাদ গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেড কর্তৃপক্ষ আবাসিক ও বাণিজ্যিক গ্রাহকদের মাঝে পাইপের মাধ্যমে প্রাকৃতিক গ্যাস সরবরাহ করে থাকেন।
ব্রাহ্মণবাড়িয়া শহরের পাইক পাড়া এলাকার বাসিন্দা শম্পা রায় ও ঈশিতা চক্রবর্তী জানান, গতকাল রাত থেকে গ্যাস সরবরাহ বন্ধ রয়েছে। তাৎক্ষনিক জ্বালানি ব্যবস্থা না থাকায় খাবার রান্নায় সমস্যা হচ্ছে।
কান্দিপাড়া এলাকার বাসিন্দা আফরিনা আক্তার জানান, গ্যাস না থাকার বিষয়টি রাত সাড়ে ১১টার দিকে টের পান তিনি। গ্যাস না থাকার ফলে রান্নার কাজ করতে সমস্যা হচ্ছে।
এ ব্যাপারে জানতে চাইলে বাখরাবাদ গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানির ব্রাহ্মণবাড়িয়ার উপ-মহাব্যবস্থাপক প্রকৌশলী রবিউল হক বলেন, যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে গ্যাস সরবরাহ আপাতত বন্ধ রয়েছে। কখন গ্যাস সরবরাহ শুরু হবে, সে বিষয়ে এখন বলা যাচ্ছে না।
এর আগে রবিবার হরতাল চলাকালে হেফাজত কর্মীরা ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা পরিষদ কার্যালয়, ব্রাহ্মণবাড়িয়া পৌরসভা কার্যালয়, পৌর মিলনায়তন, শহীদ ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত ভাষা চত্বর, সুর সম্রাট আলাউদ্দিন সংগীতাঙ্গন, সদর উপজেলা সহকারী কমিশনারের (ভূমি) কার্যালয়, জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আল মামুন সরকারের কার্যালয় ও বাড়ি এবং জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি রবিউল হোসেন রুবেল ও সাধারণ সম্পাদক শাহাদাৎ হোসেনের বাড়িতে হামলা চালিয়ে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করে। এছাড়া হরতালকারীরা ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রেসক্লাব ভবনে ভাঙচুর করে এবং ক্লাবের সভাপতি রিয়াজ উদ্দিন জামির ওপর হামলা করে তাকে গুরুতর আহত করে।