ময়মনসিংহের গফরগাঁওয়ের বাশিয়া উচ্চ বিদ্যালয়ে সোমবার এ ঘটনা ঘটে।
জানা যায়, বিদ্যালয়ের পোশাক হচ্ছে সাদা শার্ট ও কালো প্যান্ট। তবে সোমবার কালো প্যান্ট না পরে শুধু সাদা সার্ট পরেই স্কুলে চলে আসে দশম শ্রেণির ছাত্র মাহমুদুল হক, বিপ্লব, সাকিল ও শরিফসহ বিভিন্ন ক্লাসের ১৫ শিক্ষার্থী। এই ‘অপরাধে’ তাদের বেধরক পেটান প্রধান শিক্ষক আব্দুল মোমেন। এ সময় অন্য শিক্ষকরা প্রধান শিক্ষককে থামানোর চেষ্টা করেও ব্যর্থ হন।
খবর পেয়ে আহত শিক্ষার্থীর অভিভাবকরা স্কুলে এসে তাদের উদ্ধার করে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে বাড়ি নিয়ে যান। তাদের মধ্যে গুরুতর আহত মাহমুদুল হককে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে ব্যান্ডেজ করে বাড়ি নেওয়ার পর মঙ্গলবার তার অবস্থার অবনতি হয়েছে বলে জানিয়েছেন অভিভাবকরা।
আহত শিক্ষার্থী মাহমুদুল হকের বাবা বামনখালী সিনিয়র ফাজিল মাদ্রসার কৃষি বিভাগের জ্যেষ্ঠ শিক্ষক আব্দুল মোমেন বলেন, ‘শুধু স্কুলড্রেস না পরার কারণে নির্দয়ভাবে পিটিয়ে আহত করা কোনওভাবেই উচিত হয়নি প্রধান শিক্ষকের।’
স্থানীয় টাঙ্গাব ইউপি চেয়ারম্যান মোফাজ্জল হোসেন সাগর বলেন, ‘কোনও শিক্ষার্থী স্কুলড্রেস পরে না আসলে তাকে প্রধান শিক্ষক শাসন করতেই পারেন। তবে এভাবে ১৫ শিক্ষার্থীকে বেদম প্রহার করা কোনওভাবেই কাম্য নয়।’
এ ব্যাপারে বাশিয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আব্দুল মোমেন শিক্ষার্থীদের পিটিয়ে আহত করার বিষয়টি স্বীকার করে বলেন, ‘রাগের মাথায় এটি করে ফেলেছি। এবারের মতো ক্ষমা সুন্দর দৃষ্টিতে দেখবেন। ভবিষ্যতে এমন ভুল আর হবে না।’
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সিদ্ধার্থ শংকর কুণ্ডু বলেন, ’মঙ্গলবার বিকেলের দিকে ঘটনাটি শুনেছি। অভিযুক্ত শিক্ষকের বিরুদ্ধে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
/জেবি/এফএস /এএইচ /