গাজীপুরে মহাসড়ক থেকে অজ্ঞাত লাশ উদ্ধারের ১৩ দিন পর ক্লুলেস এ ঘটনার রহস্য উন্মোচিত হয়েছে। এক রিকশাচালকের সহযোগিতায় তা সম্ভব হয়েছে বলে জানিয়েছে গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশ (জিএমপি)। এ ঘটনায় জড়িত কাভার্ডভ্যনসহ চালক ও হেলপারকে মঙ্গলবার (১ জুন) গ্রেফতার করা হয়েছে। জিএমপির গাছা থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) রাশেদুর রহমান বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
গ্রেফতার দুই জন হলেন কুমিল্লার চৌদ্দগ্রাম উপজেলার বল্লাচৌ গ্রামের মৃত কামাল হোসেনের ছেলে কাভার্ডভ্যানচালক রাশেদ মিয়া (২৩) এবং লক্ষ্মীপুর জেলার রামগঞ্জ উপজেলার হাঁপানিয়া এলাকার বিল্লাল হোসেনের ছেলে চালকের সহকারী (হেলপার) জাবেদ হোসেন (২৬)।
এসআই রাশেদুর রহমান বলেন, গত ১৯ মে ভোররাত ৩টার দিকে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের গাজীপুর সিটি করপোরেশনের গাছা থানার বড়বাড়ি এলাকার পাকসিন ফ্যাক্টরির সামনে থেকে অজ্ঞাত এক ব্যক্তির লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। দুর্বৃত্তরা একটি কাভার্ডভ্যান থেকে লাশটি সেখানে ফেলে পালিয়ে যায় বলে প্রাথমিকভাবে জানা যায়।
এ ঘটনায় গাছা থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করে পুলিশ। মামলা দায়েরের পর নিহতের ফিঙ্গারপ্রিন্ট সংগ্রহের মাধ্যমে তার নাম গাজী ফারুক হোসেন বাবু (৫৫) বলে নিশ্চিত হওয়া গেছে। বাবু ঢাকার দক্ষিণখান থানার ফারদাবাদ এলাকার মৃত আব্দুল কাদিরের ছেলে। তিন দিন পর ২১ মে নিহতের লাশ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়।
তবে মৃত্যুর কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত হতে না পেরে তদন্ত কার্যক্রম অব্যহত রাখে পুলিশ। তদন্তকালে ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী এক রিকশাচালকের সন্ধান পায় পুলিশ। তার দেওয়া তথ্য ও গাড়ির নম্বরের ভিত্তিতে মঙ্গলবার ঢাকা-চট্রগ্রাম মহাসড়কের দাউদকান্দি টোলপ্লাজা এলাকা হতে চালক রাশেদকে দেশ ট্রাভেল এজেন্সির একটি কাভার্ডভ্যানসহ আটক করা হয়। এছাড়া চালকের সহকারী জাবেদকে মোহাম্মদপুর থেকে আটক করে পুলিশ। পরে তাদের থানায় এনে জিজ্ঞাসাবাদের এক পর্যায়ে পথচারী গাজী ফারুক হোসেন বাবুকে চাপা দেওয়ার ঘটনা স্বীকার করেন তারা। গ্রেফতার দুইজন আদালতে ঘটনার বর্ণনা দিয়ে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিও দেন।
পুলিশ কর্মকর্তা আরও জানান, ঘটনার রাতে কাভার্ডভ্যানটি নিয়ে ঢাকায় যাওয়ার পথে ওই ব্যক্তি হঠাৎ পেছনের চাকার নিচে চাপা পড়েন। এতে ঘটনাস্থলেই তিনি নিহত হন। পরে নিহতের লাশ গাড়ির নিচ থেকে বের করে সড়কের এক পাশে রেখে পালিয়ে যান চালক ও হেলপার। ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী রিকশাচালক মুন্না কাভার্ডভ্যানটির নম্বর একটি চিরকুটে লিখে পাশের এক চায়ের দোকানে রেখে যান। সেই সূত্র ধরেই ঘটনার প্রায় ১৩ দিন পর মহাসড়ক থেকে লাশ উদ্ধারের রহস্য উন্মোচন হয়।