চুরির অভিযোগে যুবককে হাত-পা বেঁধে নির্যাতন

মুন্সীগঞ্জ পৌরসভার দক্ষিণ ইসলামপুর এলাকায় চুরির অভিযোগে মুরাদ হাসান রনি (২৭) নামের এক যুবককে দিনদুপুরে হাত-পা বেঁধে মধ্যযুগীয় কায়দায় নির্যাতন করেছেন স্থানীয় কাউন্সিলর। বাসা থেকে ডেকে নিয়ে ওই যুবকের হাত-পা বেঁধে প্রকাশ্যে তাকে নির্যাতন করা হয়। এ ঘটনার ৪০ সেকেন্ডের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ভাইরাল হয়েছে।

ভিডিওতে দেখা যায়, হাত-পা বাঁধা অবস্থায় যুবককে ৮ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর আওলাদ হোসেন লাঠি দিয়ে আঘাত করছেন ও লাথি দিচ্ছেন।

স্থানীয়দের কাছ থেকে জানা গেছে, বাড়ি থেকে স্বর্ণ ও টাকা চুরির ঘটনায় রনিকে সন্দেহ করে প্রতিবেশী মনির হোসেন। এরপর মনির কাউন্সিলর আওলাদ হোসেনকে নিয়ে তাকে বাসা থেকে বের করে নির্যাতন করা হয়।

ভিডিওতে দেখা যায়, স্থানীয় প্রতিবেশীদের সবার সামনে হাত ও পা বেঁধে কাউন্সিলর আওলাদ হোসেন তাকে লাঠি দিয়ে শরীরে আঘাত করেন। এরপর লাথি দেন। তাকে চুরির ঘটনাটি স্বীকার করাতে মারধর করতে দেখা যায়।

এ ঘটনায় নির্যাতনের শিকার রনি বাদী হয়ে সদর থানায় কাউন্সিলর আওলাদ হোসেন (৬০) এবং দুই ভাই মনির হোসেন (৪০) ও কালাচাঁন মিয়াসহ (৫০) অজ্ঞাতনামা আরও ২-৩ জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন। পরে পুলিশ মনির হোসেন ও কালাচাঁন মিয়াকে গ্রেফতার করলেও আওলাদ হোসেন পলাতক আছেন।

নির্যাতনের শিকার মুরাদ হোসেন রনির বাড়ি

নির্যাতনের শিকার রনি ওই এলাকার মৃত মোরশেদ মিয়ার ছেলে। তার মা প্রবাসী। তারা দুই ভাই ও এক বোন। তিনি ফার্নিচারের বার্নিশের কাজ করেন। তার ছোট ভাই অষ্টম শ্রেণিতে পড়ে। বোনের বিয়ে হয়ে গেছে।

সোমবার (১২ জুলাই) সকাল ৯টায় মনির হোসেনের বাড়ির কাছে এ মারধরের ঘটনা ঘটেছে। এরপর রাত ১টায় মামলা দায়ের হয় সদর থানায়।

ভুক্তভোগী রনি বলেন, গতকাল সকাল ৯টায় কাউন্সিলর আওলাদ হোসেন, মনির হোসেন, কালাচাঁন বাসায় এসে আমাকে ডেকে নিয়ে যান। এরপর মনিরের বাড়ির উঠানে হাত-পা বেঁধে চুরির অপবাদ দিয়ে লাঠি দিয়ে মারধর শুরু করেন। লাথি দিয়েও শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত করেন। প্রায় ১৫ মিনিট ধরে আমাকে মারধর করা হয়। তারপর আমাকে বেঁধে রাখেন। আমার ভাই মারুফ দৌড়ে থানায় গিয়ে অভিযোগ দায়ের করলে তখন পুলিশ এসে উদ্ধার করে। কাউন্সিলর ঘটনাস্থল ত্যাগ করে। পুলিশ তখন মোবাইলে কাউন্সিলরকে জিজ্ঞাসাবাদ করলে তিনি অস্বীকার করেন। এরপর পুলিশ ঘটনাস্থল ত্যাগ করে। তখন হাসপাতাল গিয়ে নিজ খরচে চিকিৎসা নিয়ে বাসায় আসি।

নির্যাতনের শিকার এ যুবক আরও বলেন, এরপর ঘটনার দিন রাতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে আমাকে মারধরের ভিডিও ভাইরাল হয়। তখন রাত সাড়ে ৮টায় পুলিশ আবার এলাকায় এসে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করে। এরপর মামলা হয়।

মুন্সীগঞ্জ সদর থানার উপরিদর্শক ও মামলার তদন্ত কর্মকর্তা (আইও) জাভেদ পারভেজ জানান, ভিকটিম রনি নিজেই মামলা দায়ের করেছেন। এ ঘটনায় অভিযুক্ত দুইজনকে পৌরসভা এলাকা থেকে গ্রেফতার করা হয়েছে। অভিযুক্ত কাউন্সিলর মো. আওলাদ হোসেন পলাতক আছেন। তাকে গ্রেফতারে কাজ করছে পুলিশ।

এদিকে ঘটনার বিষয়ে জানতে ৮ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর আওলাদ হোসেনের মোবাইল ফোনে একাধিকবার কল দিলেও তিনি ধরেননি।