প্রাণঘাতী করোনা রোগ নিরাময়ে কার্যকর একটি ইমিউনিটি বুস্টার উদ্ভাবনের দাবি করেছেন সিঙ্গাপুর প্রবাসী মানিকগঞ্জের সিংগাইরের চিকিৎসক এম এ হুসেন। রবিবার (৮ আগস্ট) বিকালে মানিকগঞ্জ প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করে তিনি এ দাবি করেন।
২০০০ সালে ন্যাশনাল ইউনিভারসিটি অব সিঙ্গাপুর থেকে আণবিক জীববিজ্ঞানে পিএইচডি ডিগ্রি নেওয়া এম এ হুসেন ২০০৭ সালে সিঙ্গাপুরের আণবিক কোষ বিজ্ঞান ইনস্টিটিউট থেকে উদ্ভিদ জেনেটিক্সে পোস্ট ডক্টরেট সম্পন্ন করেন। এর আগে, ভারতের পাঞ্জাব বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ১৯৯৩ সালে জৈব রসায়নে বিএসসি এবং ১৯৯৫ সালে এমএসসি ডিগ্রি নেন তিনি। বর্তমানে তিনি পরিবারসহ সিঙ্গাপুরে বসবাস করছেন।
সংবাদ সম্মেলনে গবেষক ডা. হুসেন বলেন, ২০২০ সালের জানুয়ারি মাসে করোনা মহামারি চরম আকার ধারণ করলে অনুমান করি যে এ ভাইরাসটির বিরুদ্ধে কার্যকর প্রতিষেধক বের করা ওষুধ শিল্পের জন্য কঠিন হতে পারে। এ কারণে, ২০০৭ সালের গবেষণায় কোভিডের মতো উপসর্গের সর্দি, কাশি, গলাব্যথা, জ্বর ইত্যাদি রোগ নিরাময়ে ভিটামিন, মিনারেল ও ভেষজ উপাদানের সমন্বয়ে ইমিউনিটি বুস্টিং ফর্মুলা অনুকরণে নতুন বুস্টার উদ্ভাবন করি। প্রথমে আমি নিজে তা সেবন করি এবং নিরাপদ অনুভব করি। পরে ফর্মুলা অনুযায়ী বুস্টার বাংলাদেশ, সিঙ্গাপুর, ইংল্যান্ড, আমেরিকা ও অস্ট্রেলিয়ায় বসবাসকারী পরিচিত আগ্রহীদের দেই। গত বছরের মে মাসে করোনায় আক্রান্ত কয়েকজন এই বুস্টার সেবন করে উপকার পেয়েছেন। এরপর, আমি আরও গবেষণা চালিয়ে ফর্মুলাটিকে অধিক সমৃদ্ধ ও শক্তিশালী করতে থাকি এবং চলতি বছরের জুন মাসে ফর্মুলাটি নিয়ে দেশে ফিরে আসি।
এই গবেষকের দাবি, তার উদ্ভাবিত ইমিউনিটি বুস্টার ব্যবহারে মানিকগঞ্জ এবং ঢাকার বিভিন্ন অঞ্চলের ৪০ জন করোনা রোগী দ্রুত সুস্থ হয়ে উঠেছেন। দেশে আসার আগেও এই বুস্টারটি সেবন করে ৬০ জন করোনা রোগী সুস্থ হয়েছেন। সুস্থ হওয়া রোগীর মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের ১০ জন এবং ভারতেরও তিন জন রয়েছেন।
বাংলাদেশে করোনা মহামারির কঠিন পরিস্থিতিতে ইমিউনিটি বুস্টারটি সহায়ক ভূমিকা রাখবে বলে বিশ্বাস করেন এই গবেষক। বাংলাদেশের স্বাস্থ্য বিভাগ এই করোনা পরিস্থিতিতে ইমিউনিটি বুস্টারটি কাজে লাগাতে আগ্রহী হলে সার্বিক সহযোগিতার কথা বলেন ডা. এম এ হুসেন।
তিনি বলেন, ‘ফর্মুলা অনুযায়ী ভিটামিন এ ও মিনারেলগুলোকে এফডিএ (যুক্তরাষ্ট্র) এবং সিঙ্গাপুর স্বাস্থ্য অধিদফতরের নির্দেশনা অনুসারে যোগ করা হয়েছে। আর ভেষজ উপাদানগুলোকে বৈজ্ঞানিক গবেষণায় উল্লেখিত কিংবা প্রচলিত ব্যবহারের বিবেচনায় নিরাপদ পরিমাণে যোগ করা হয়েছে।’
সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন সিঙ্গাইর উপজেলা পরিষদের সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান আনোয়ারা খাতুন, বুস্টার সেবনে সুস্থ হওয়া সিঙ্গাইরের ধল্লার ইদ্রিস আলীসহ কয়েকজন রোগী।