ফরিদপুর জেলা ছাত্রদলের সদ্যষোষিত কমিটি থেকে পদত্যাগ করেছেন যুগ্ম সম্পাদক জনি সাদ্দাম। সোমবার (২৩ আগস্ট) রাতে তিনি পদত্যাগপত্র জেলা ছাত্রদলের দফতর সম্পাদকের কাছে দিয়েছেন বলে নিজেই নিশ্চিত করেছেন। এছাড়া সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও তিনি ওই পদত্যাগপত্রের একটি ছবি শেয়ার করেছেন।
জনি এতে উল্লেখ করেছেন, পারিবারিক কারণে তিনি দায়িত্ব পালন করতে পারছেন না। ইতোপূর্বে তিনি শহর ছাত্রদলের সাংগঠনিক সম্পাদক ছিলেন। ছাত্রদলের রাজনীতিতে জড়িয়ে তিনি এ পর্যন্ত ছয়টি রাজনৈতিক মামলার আসামি। সাতবার গ্রেফতার হয়েছিলেন। ছাত্রদলের রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকার অপরাধে শহরের নিউমার্কেটে তাদের পৈতৃক ব্যবসা প্রতিষ্ঠানও বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল। এ নিয়ে সালিশও হয়।
তবে তার পরিচিতরা বলেছেন, এত মামলা-নির্যাতন সহ্য করেও তাকে যথাযথ মূল্যায়ন করা হয়নি। জনির চেয়ে অনেক জুনিয়র কর্মীকেও কমিটিতে সহ-সভাপতি পদে বসানো হয়েছে। এতে জুনিয়রিটি-সিনিয়রিটি সমস্যা তৈরি হয়েছে। এই অভিমান থেকেই পদত্যাগ করেছেন তিনি।
জানা গেছে, গত ২১ আগস্ট ফরিদপুর জেলা ছাত্রদলের পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণা করা হয়। সবমিলিয়ে ২৫১ জনের এই কমিটিতে সহ-সভাপতি পদে ৫২, সহ-সাধারণ সম্পাদক ও যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক পদে ১১৬, সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক পদে ২৯, সম্পাদক ও সহ-সম্পাদক পদে ৩৭ এবং ১৭ জনকে সাধারণ সদস্য করা হয়। এ কমিটি ঘোষণার তিন বছর আগে ২০১৮ সালের ১৯ জুলাই জেলা ছাত্রদল সভাপতি সৈয়দ আদনান হোসেন অনুকে সভাপতি, তানজিমুল হাসান কায়েসকে সাধারণ সম্পাদক এবং মোজাম্মেল হোসেন মিঠুকে সাংগঠনিক সম্পাদক করে তিন সদস্যবিশিষ্ট একটি আংশিক কমিটি ঘোষণা করা হয়। এরপর থেকে জেলা কমিটিতে স্থান পেতে ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের তৎপরতা চলছিলো।
অভিযোগ আছে, এ কমিটিতে সহ-সভাপতি পদে এমন পাঁচ জুনিয়রকে রাখা হয়েছে, তাদেরকে যেসব সিনিয়ররা ওয়ার্ড কমিটিতে পদ দিয়েছিলেন তাদেরকেই টপকে গেছেন। এছাড়া সহ-সভাপতি পদে ২০ জন বিবাহিত রয়েছেন। পুরো কমিটিতে বিবাহিতের সংখ্যা প্রায় শতাধিক। জেলা ছাত্রদল সভাপতি আদনান হোসেন অনু রাজনৈতিক মামলায় গ্রেফতার হয়ে জেলে যাওয়ার পর এই কমিটির খসড়া তৈরি করা হয়। সে সময়ে কেন্দ্র থেকে আসা টিমকে ভুল বুঝানো হয়। এর নেপথ্য বিশেষ মহল কাজ করেছে। কমিটিতে পদ পাওয়া অন্তত ২০ জন বিদেশে থাকেন। সিনিয়রদের চেয়ে জুনিয়রদের বড় পদ দেওয়া হয়েছে। এতেই পদবঞ্চিত কিংবা কাঙ্ক্ষিত পদ না পেয়ে অনেকের মাঝে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, স্থানীয় ছাত্রদল নেতারা যেভাবে নামের সঙ্গে পদের সুপারিশ করেছিলেন, পূর্ণাঙ্গ কমিটিতে তা সেভাবে অনুসরণ করা হয়নি। এখানে তদবিরের সুবাদে অনেককে ভালো পদ দেওয়া হয়েছে। আর কমিটি ঘোষণার প্রায় ১০ দিন আগেই জেলা সভাপতি কারামুক্ত হয়েছেন। কিন্তু কমিটি প্রকাশের আগে জেলা নেতৃবৃন্দকে তার চূড়ান্ত খসড়া দেখানো হয়নি। এসব বিষয় নিয়ে তারা বিব্রত।
কমিটি ও বিবাহিতদের থাকার বিষয়ে জানতে চাইলে জেলা ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি বেনজির আহমেদ তাবরীজ বলেন, ‘অবশ্য কমিটি ভালোই হয়েছে। বিরোধী দলে থাকাকালে এতো বড় কমিটি উপহার দেওয়াটাও বড় বিষয়। আর যেকোনও কমিটি করতে গেলে সবাইকে খুশি রাখা সম্ভব না।’
জনি সাদ্দামের পদত্যাগের বিষয়ে জেলা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক তানজিমুল হাসান কায়েস বলেন, ‘কমিটি তো কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ স্বাক্ষর করে প্রকাশ করেছে। তাই তার পদত্যাগপত্র গ্রহণ করার এখতিয়ার আমাদের নেই। পদত্যাগ করতে হলে কেন্দ্রীয় কমিটির কাছে জমা দিতে হবে। কমিটি তৈরির জন্য গঠিত সুপার ফাইভ টিম একসঙ্গে সমন্বয় করে কমিটি করতে পারেনি বিধায় কেন্দ্রীয় হস্তক্ষেপে এই কমিটি জমা দেওয়া হয়েছে।’
জেলা ছাত্রদল সভাপতি সৈয়দ আদনান হোসেন অনু বলেন, ‘এর আগে আমরা একটি পূর্ণাঙ্গ কমিটি দিয়েছিলাম অনুমোদনের জন্য। এরপর সম্প্রতি কারাগারে যাওয়ার দুই-একদিন আগে বর্তমান কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি খোকন ভাই ও সেক্রেটারি শ্যামল ভাইদের অনুরোধে স্থানীয় ডেডিকেটেড ছাত্র নেতাদের কথা উল্লেখ করেছিলাম। কারাগারে থাকতে কমিটি হয়ে গেলেও হয়তো প্রিন্টিং মিসটেকের কারণে ৫-৭ জন কষ্ট আমার ওপর কষ্ট পেয়েছেন। সভাপতির জায়গা থেকে দায় মেনে নেওয়াটাই সৌজন্য। তবুও আমরা ওই কয়েকজনের জন্য প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখবো। যেহেতু আমাদের যোগ্যতাসম্পন্ন টিম আছে।’