বাদীর সঙ্গে তদন্ত কর্মকর্তার প্রেম, স্ত্রী-সন্তানের খোঁজ চান স্বামী

একটি মামলার তদন্ত করতে গিয়ে বাদীর সঙ্গে প্রেমের সম্পর্কে জড়ান পুলিশের এক উপপরিদর্শক (এসআই)। তার প্রেমে পড়ে দুই সন্তানকে নিয়ে স্বামীর কাছ থেকে দূরে রয়েছেন ওই নারী। 

গাজীপুরের কাপাসিয়া থানার ঘটনা এটি। এ ঘটনায় প্রতিকার চেয়ে জেলা পুলিশ সুপারের কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন ওই নারীর স্বামী। অভিযুক্ত এসআই কাপাসিয়া থানায় কর্মরত ছিলেন। বর্তমানে ফরিদপুর জেলা পুলিশে কর্মরত।

লিখিত অভিযোগে ওই নারীর স্বামী উল্লেখ করেছেন, ‘আট বছর ও ১০ মাসের দুই কন্যাসন্তান রয়েছে তাদের। স্ত্রী ও দুই সন্তান নিয়ে উত্তরা এলাকায় বসবাস করতেন। প্রতিবেশীর সঙ্গে মারামারির ঘটনাকে কেন্দ্র করে গত বছরের ১২ ফেব্রুয়ারি উত্তরা পূর্ব থানায় একটি মামলা করেন। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা নিযুক্ত হন ওই এসআই। তদন্তের প্রয়োজনে ওই ব্যক্তির স্ত্রীর সঙ্গে প্রায়ই কথা বলতেন পুলিশ কর্মকর্তা। একপর্যায়ে দুজনের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। এ সময়ে এসআই কাপাসিয়া থানায় বদলি হয়ে চলে আসেন। সেই সঙ্গে ওই নারীকে বিয়ের প্রলোভন দেখান। মামলা নিষ্পত্তি হওয়ার পরও তাদের যোগাযোগ হতো। বিষয়টি স্বামীর কাছে অস্বাভাবিক মনে হওয়ায় স্ত্রীর মোবাইল ফোনের মেসেঞ্জারে উভয়ের কথোপকথন দেখে প্রেমের বিষয়টি নিশ্চিত হন। পরে মোবাইল ও মেসেঞ্জারের কথোপকথনের লিস্ট প্রিন্ট করে মৌখিকভাবে কাপাসিয়া থানায় জানান। থানার ওসি জিজ্ঞাসাবাদ করলে বিষয়টি স্বীকার করেন ওই এসআই। ভবিষ্যতে এমন কাজে না জড়ানোর প্রতিশ্রুতি দেন। কিন্তু প্রতিশ্রুতি দিয়েও ওই নারীর সঙ্গে কথোপকথন ও যোগাযোগ চালিয়ে যান।’ 

ওই নারীর স্বামী বলেন, ‘গত ১৩ আগস্ট ছোট মেয়েকে নিয়ে তার বাবার বাড়িতে বেড়াতে যায় আমার স্ত্রী। বড় মেয়েকে নিয়ে আমার গ্রামের বাড়ি বেড়াতে যায়। এরপর ১৮ আগস্ট থেকে স্ত্রী আমার সঙ্গে যোগাযোগ বন্ধ করে দেয়। মোবাইল ফোনেও আমার নম্বর ব্লক করে রেখেছে। এ অবস্থায় স্ত্রীর মোবাইল ফোনের কললিস্ট উদ্ধার করে দেখি, এসআইয়ের সঙ্গে যোগাযোগ রয়েছে। পরে এসআইয়ের সঙ্গে কথা বলে বোঝানোর চেষ্টা করি। কিন্তু এসআই আমাকে অশ্লীল-অসংলগ্ন কথাবার্তা বলেছেন। নিরুপায় হয়ে দুই শিশুর নিরাপত্তা ও বাবা-মায়ের আদর প্রাপ্তির অধিকারের নিশ্চয়তা পেতে পুলিশ সুপারের কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছি। অভিযোগের সঙ্গে তাদের কথোপকথন ও বার্তাসমূহের প্রিন্ট কপি সংযোজন করেছি। আমি জানি না স্ত্রী-সন্তান কোথায় আছে। তাদের সন্ধান চাই।’

এ বিষয়ে জানতে চাইলে মোবাইল ফোনে অভিযুক্ত এসআই বলেন, আমার স্ত্রী-সন্তান আছে। এ বিষয়ে কোনও কিছুই জানি না। আমি এখন ছুটিতে বাড়িতে আছি।

জানতে চাইলে গাজীপুরের পুলিশ সুপার (এসপি) শফিউল্লাহ শফিক বলেন, ওই নারীর স্বামীর অভিযোগ পেয়েছি। বিষয়টি নিয়ে তদন্ত চলছে। এ ঘটনায় ওই পুলিশ কর্মকর্তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। তবে নারীকে এখনও জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়নি। তার বক্তব্য নিয়ে প্রতিবেদন তৈরি হবে। অভিযোগ প্রমাণ হলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।