মেম্বার স্ত্রীর ষড়যন্ত্রে ‘মৃত’ শফিকের নিজেকে জীবিত প্রমাণে ধরনা

মানিকগঞ্জের শিবালয়ের শফিকুল ইসলাম (৬৩) নিজেকে জীবিত প্রমাণে ঘুরছেন বিভিন্ন দফতরে। ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যানের সনদে তাকে মৃত বলে উল্লেখ করা হয়েছে। অভিযোগ উঠেছে, ইউপি মেম্বার স্ত্রীর সঙ্গে যোগসাজশে চেয়ারম্যান চার মাস আগে শফিকের মৃত্যু হয়েছে বলে সনদ দিয়েছেন। ঘটনাটি মানিকগঞ্জের শিবালয় উপজেলার শিবালয় মডেল ইউনিয়নের নবগ্রাম গ্রামের। শফিকুল ওই এলাকার মৃত আরশেদ আলীর ছেলে এবং ওই ইউনিয়নের নারী মেম্বার শারমিন বেগমের স্বামী।

এ ঘটনায় গত ৩০ সেপ্টেম্বর ভুক্তভোগী শফিকুল ইসলাম বাদী হয়ে শিবালয় থানায় মামলা করেছেন। মামলায় ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. আলাল উদ্দিন (৩৯), ৮নং ওয়ার্ডের মেম্বার আব্দুর রউফ খান (৬০) এবং স্ত্রী ৭, ৮, ৯নং ওয়ার্ডের নারী মেম্বার শারমিন আক্তারকে আসামি করা হয়েছে।

মামলা সূত্রে জানা গেছে, ভুক্তভোগী শফিকুল ইসলাম গত মাসের ২৭ তারিখে শিবালয় উপজেলার সমাজসেবা অফিসে লোন ওঠানোর জন্য যান। সে সময় কাগজপত্র দেখে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা জানান, এই নামের ব্যক্তি মারা গেছেন। মৃত্যুর প্রমাণ হিসেবে শিবালয় ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আলাল উদ্দিনের স্বাক্ষরিত মৃত্যু সনদ দেখানো হয়। যার স্বারক নম্বর শিবা/ইউ:/পি-২০২১.০১.৪৮। সনদে তার জীবিত মাকেও মৃত দেখানো হয়েছে। মৃত্যু সনদে উল্লেখ আছে ৮নং ইউপি সদস্যের সুপারিশে এই সনদ দেওয়া হলো। এই সনদের কারণে তার বয়স্কভাতা বন্ধ হয়ে গেছে বলে জানতে পারেন তিনি।

পরে বিষয়টি মেম্বার-চেয়ারম্যানকে অবগত করলে তারা তাকে হত্যার হুমকি দিয়ে লাশ গুম করবে বলে কাউকে না জানানোর জন্য ভয়ভীতি দেখায়। আসামিরা প্রভাবশালী হওয়ায় ভয়ে বর্তমানে নিজ বাড়িতে বসবাস করতে পারছিল না বলেও ভুক্তভোগী মামলায় উল্লেখ করেন।

ভুক্তভোগী শফিকুল ইসলাম বলেন, ‘স্ত্রী নারী মেম্বার দীর্ঘদিন ধরে আমাকে শারীরিক ও মানসিকভাবে নির্যাতন করে আসছে। এ ছাড়া সে মেম্বার হওয়ার কারণে চেয়ারম্যান আলাল ও রউফ মেম্বারের যোগসাজশে বিভিন্ন সময়ে হুমকি দিয়ে আসছিল। পরে বিষয়টি নিয়ে এলাকায় গণ্যমান্য বক্তিরা বসেও সমাধান করতে পারেনি। পরে জানতে পারি, গত বছরের ২৬ মে আমি অসুস্থ হয়ে মৃত্যুবরণ করেছি। জীবিত থাকার পরও আমাকে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে কেন মৃত দেখানো হলো? আমি এর বিচার চাই।’

এ ব্যাপারে শিবালয় উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা মো. পলাশ হুসাইন জানান, শফিকুল ইসলাম নামে একটি বয়স্কভাতার কার্ড ছিল। পরর্বতী সময়ে যাচাই-বাছাইয়ের সময় বয়স কম ধরা পড়ায় বিধি মোতাবেক তার কার্ডটি বাতিল করা হয়। তবে তার মৃত্যুর সনদটি কীভাবে অফিসে আসলো তা তার জানা নেই। তবে জীবিত ব্যক্তির মৃত্যুর সনদের বিষয়টি অবগত হওয়ার পর সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতনদের মৌখিকভাবে অবগত করা হয়েছে বলে জানান তিনি।

এ বিষয়ে শিবালয় মডেল ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান আলাল উদ্দিনের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, নিয়ম অনুযায়ী স্থানীয় ইউপি সদস্যের সুপারিশে তিনি এই মৃত্যু সনদে স্বাক্ষর করেছেন। পরে জীবিত থাকার বিষয়টি তিনি অবহিত হওয়ার পর ওই সনদটি পৃথক একটি নোটিশের মাধ্যমে ইতোমধ্যে বাতিল করেছেন। 

এ ঘটনায় মামলার বিষয়ে শিবালয় থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ফিরোজ কবির বলেন, ‘শফিকুল ইসলামকে জীবিত থাকার পরও স্ত্রীর যোগসাজশে চেয়ারম্যান-মেম্বার মৃত্যু সনদ দিয়েছেন। এরপর বিষয়টি নিয়ে কাউকে জানালে তাকে হত্যার হুমকি দেওয়া হয়। প্রাথমিক তদন্তে এই অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে আসামিদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

মানিকগঞ্জ জেলা প্রশাসক মুহাম্মদ আব্দুল লতিফের কাছে বিষয়টি নিয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘কেউ আমাকে লিখিত বা মৌখিকভাবে অবগত করেনি। অভিযোগ পেলে বিধি মোতাবেক তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’