শরীয়তপুর সদর উপজেলায় আঙ্গারিয়া ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে নৌকা প্রার্থীর নির্বাচনি প্রচারণা কেন্দ্রে ভাঙচুর ও বোমা বিস্ফোরণের অভিযোগ উঠেছে। বর্তমান চেয়ারম্যান স্বতন্ত্র প্রার্থী আনোয়ার হোসেন হাওলাদারের সমর্থকরা এমনটা করেছেন বলে অভিযোগ প্রতিপক্ষের। মঙ্গলবার (২ নভেম্বর) এ ঘটনা ঘটে। ক্ষতিগ্রস্ত প্রচারণা কেন্দ্রটি পরিদর্শন করেছেন পালং থানার ওসি আকতার হোসেন। এ ঘটনায় চার জন আহত হয়েছেন। তাদের প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে বাড়িতে পাঠানো হয়।
জানা যায়, ১১ নভেম্বর সদর উপজেলার আঙ্গারিয়া ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচন। এ উপলক্ষে চেয়ারম্যান ও মেম্বার প্রার্থীরা বিভিন্ন এলাকায় নির্বাচনি অফিস গড়ে তোলেন। এসব অফিস থেকেই প্রচারণা চালিয়ে আসছেন প্রার্থীরা। প্রতিটি পাড়া মহল্লায় আওয়ামী লীগ মনোনীত দলীয় প্রার্থী আসমা আকতারেরও রয়েছে একাধিক নির্বাচনি অফিস। মঙ্গলবার দক্ষিণ ভাসানচর এলাকায় অবস্থিত নির্বাচনি অফিসে ভাঙচুর, বোমা বিস্ফোরণ ও কর্মী-সমর্থকদের মারধর করা হয় বলে অভিযোগ করেছেন আসমা।
জেলা আওয়ামী লীগের মহিলা বিষয়ক সম্পাদক আসমা আকতার আরও বলেন, আওয়ামী লীগ অফিসে বসে আমার সমর্থকরা আলোচনা করছিল। আমি অন্য এলাকায় ছিলাম। দুপুরের দিকে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন বঞ্চিত স্বতন্ত্র প্রার্থী আনোয়ার হোসেন হাওলাদারের লোকজন এসে নির্বাচনি অফিসে ও নৌকার কর্মীদের বাড়িতে হামলা ও ভাঙচুর চালায়। মান্নান মোড়লসহ চার জন কর্মীকে মারধর করে। আমার জনপ্রিয়তায় ঈর্ষান্বিত হয়ে প্রতিপক্ষ এ ঘটনা ঘটিয়েছে। আমি বিষয়টি ওসি সাহেবকে জানিয়েছি।
এদিকে বর্তমান চেয়ারম্যান ও জেলা আওয়ামী লীগের সদ্য বহিষ্কৃত সদস্য, স্বতন্ত্র প্রার্থী আনোয়ার হোসেন হাওলাদার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, নির্বাচনি প্রচারণার সময় ৫ নম্বর ওয়ার্ডের দক্ষিণ ভাসানচর এলাকায় আওয়ামী লীগ প্রার্থী আসমা আকতারের সমর্থকরা হামলা চালায়। স্থানীয়দের সহযোগিতায় সেখান থেকে আমি বেঁচে ফিরেছি। এখন উল্টো আমাকেসহ আমার কর্মী-সমর্থকদের নামে মামলার চেষ্টা চলছে। তারা তাদের অফিস ভাঙচুর করে, আমাদের নাম বলছে। আমরা কোনও ধরনের বিস্ফোরণের ঘটনার সঙ্গেও জড়িত না। আমি পুলিশকে বিষয়টা জানিয়েছি।
পালং থানার ওসি আকতার হোসেন বলেন, আমি খবর পেয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি। এখন পরিস্থিতি শান্ত আছে। কোনও পক্ষ অভিযোগ করেনি। অভিযোগ করলে তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।