সরকারি উদ্ধারযানের ব্যর্থতার পর পাটুরিয়া ফেরিঘাটে অর্ধডুবন্ত রো-রো ফেরি আমানত শাহ উদ্ধার প্রায় সম্পন্ন করেছে বেসরকারি প্রতিষ্ঠান জেনুইন এন্টারপ্রাইজ। সবকিছু ঠিক থাকলে মঙ্গলবার (৯ অক্টোবর) সকালের মধ্যে ফেরিটিকে পদ্মায় ভাসানো সম্ভব হবে। ইতোমধ্যে ৮৫ শতাংশ উদ্ধার কাজ শেষ হয়েছে।
জেনুইন এন্টারপ্রাইজের ব্যবস্থাপক অজয় দেবনাথ সোমবার রাত ৯টার দিকে এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানিয়েছেন, ইতোমধ্যে ফেরি উদ্ধারকাজ ৮৫ ভাগ সম্পন্ন হয়েছে। তাদের উদ্ধারকারী দলের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ফেরির তলায় এ পর্যন্ত তিরিশটি ছিদ্র ধরা পড়েছে। সেগুলোর অধিকাংশ মেরামত করা হয়েছে। বাকিগুলো রাতের মধ্যে মেরামত করা হবে।
বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআইডব্লিউটিএ) এবং উদ্ধারকারী প্রাইভেট প্রতিষ্ঠান জেনুইন কর্তৃপক্ষ জানায়, দুর্ঘটনার পাঁচ দিন পর গত ১ নভেম্বর ফেরিটি উদ্ধারে প্রতিষ্ঠানটির একটি উইন্স বার্জ ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। কাত হয়ে ডুবে যাওয়া ফেরিটির নিচের অংশ নদীর প্রায় ছয় ফুট গভীরে অবস্থান করছে। প্রতিষ্ঠানটির ডুবুরি দলের কর্মীরা যন্ত্রের মাধ্যমে ফেরির তলদেশের নিচ দিয়ে মোটা তারের মাধ্যমে বেঁধে ফেলেন। এর আগে গত ২৯ অক্টোবর ফেরিটি উদ্ধারে প্রাথমিক কাজের অংশ হিসেবে অনুসন্ধান কার্যক্রম শুরু করে জেনুইনের ডুবুরি দল।
সোমবার দুপুরে সরেজমিন দেখা গেছে, পৃথক পাঁচটি উইন্স বার্জের মাধ্যমে কাত হয়ে থাকা ফেরিটি ৮৫ ভাগ সোজা করা হয়। পরে ওয়্যারিং তারের মাধ্যমে বার্জ দিয়ে ফেরির সামনের অংশ ওঠানো হয়। এরপর ফেরির হ্যাজে লোহার পাত ছিদ্র করে ভেতরে শক্তিশালী পাম্পযন্ত্রের পাইপ প্রবেশ করানো হয়। পাম্পযন্ত্র দিয়ে পাইপের মাধ্যমে উঁচু করা অংশের হ্যাজ থেকে পানি অপসারণ করা হচ্ছে। সূত্র জানিয়েছে, ফেরিটিতে দশটি বাল্কহেড রয়েছে।
এ বিষয়ে জেনুইন এন্টারপ্রাইজের ব্যবস্থাপক বলেন, ‘সকাল থেকে বিকাল ৫টা পর্যন্ত ফেরিটির চারটি হ্যাজ থেকে পানি অপসারণ করা হয়। সোমবার রাতের মধ্যে উদ্ধারের চূড়ান্ত কাজ শেষ করার চেষ্টা করা হবে। সবকিছু ঠিকঠাক থাকলে মঙ্গলবারের মধ্যে ফেরিটি উদ্ধার করা সম্ভব হবে। এরপর ফেরিটি স্বাভাবিক অবস্থায় ভাসছে কিনা তা পর্যবেক্ষণ করা হবে।’
বিআডব্লিউটিএ’র যুগ্ম-পরিচালক (উদ্ধার) মো. ফজলুল রহমান বলেন, ‘বাল্কহেড বা হ্যাজ থেকে সম্পূর্ণ পানি অপসারণ এবং ছিদ্র বন্ধ করার পর ফেরিটি উদ্ধার শেষ পর্যায়ে পৌঁছাবে। এখন পানি অপসারণের পাশাপাশি ছিদ্র বন্ধের কাজ চলছে।’
ফেরি সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, গত বুধবার (২৭ অক্টোবর) সকাল পৌনে ১০টার দিকে দৌলতদিয়া থেকে সতেরোটি পণ্যবাহী যানবাহনসহ কয়েকটি মোটরসাইকেল নিয়ে আমানত শাহ ফেরিটি পাটুরিয়া ৫নং ফেরিঘাটের কাছে এসে ডুবে যায়।
এরপর ডুবে যাওয়া যানবাহন উদ্ধারে কাজ শুরু করে ‘হামজা’। পরে রুস্তম যোগ দিলেও সফল না হওয়ায় দুই কোটি টাকার চুক্তিতে চট্টগ্রামের প্রাইভেট কোম্পানি জেনুইন এন্টারপ্রাইজকে দিয়ে ফেরিটির উদ্ধার কাজ চালানো হচ্ছে।
আরও খবর: পণ্যবাহী সব যান ডাঙায়, ফেরি উদ্ধারে সক্ষমতা নেই হামজা-রুস্তমের