ফরিদপুরে সপ্তম শ্রেণির এক শিক্ষার্থীকে (১২) রাতের আঁধারে তুলে নিয়ে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের অভিযোগে তিন জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। মঙ্গলবার (৯ নভেম্বর) বিকালে আসামিদের আদালতের মাধ্যমে জেল হাজতে পাঠানো হয়েছে। ওই শিক্ষার্থী বর্তমানে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে।
কোতয়ালি থানায় এক প্রেস ব্রিফিংয়ে ফরিদপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অপরাধ) জামাল পাশা জানান, রবিবার রাত ১০টার দিকে ওই স্কুলছাত্রী টয়লেটে যাওয়ার জন্য বাইরে বের হয়। সে সময় ওত পেতে থাকা আকাশ শেখ (১৮) ও তার তিন-চার জন সহযোগী মেয়েটিকে মুখ চেপে ধরে ইজিবাইকে করে পার্শ্ববর্তী চর মাধবদিয়া ইউনিয়নের আছিরউদ্দিন মুন্সীডাঙ্গী গ্রামের ক্ষেতের শ্যালো মেশিনঘরে নিয়ে পালাক্রমে ধর্ষণ করে।
তিনি আরও জানান, ধর্ষণের পর আকাশ ও তার সহযোগীরা মেয়েটিকে মুমূর্ষু অবস্থায় ফাঁকা মাঠে ফেলে রেখে যায়। পরে মেয়েটি কিছুটা সুস্থ হলে বাড়িতে গিয়ে মায়ের কাছে সব ঘটনা বলে। তার মা স্বজনদের সহায়তায় তাকে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করেন। এ ঘটনায় মেয়ের বাবা বাদী হয়ে সোমবার সন্ধ্যায় কোতোয়ালি থানায় মামলা করেন।
সোমবার রাতেই অভিযুক্ত আকাশকে টেপাখোলা বেড়িবাঁধ এলাকা থেকে গ্রেফতার করা হয়। জিজ্ঞাসাবাদে সে জানায়, সে এবং তার সঙ্গে থাকা রনি শেখ (১৮), শিপন শেখ (১৯), সোহাগ (১৯) ও অজ্ঞাত অটোচালক পালাক্রমে ওই স্কুলছাত্রীকে অপহরণের পর ধর্ষণ করে।
আকাশের দেওয়া তথ্যে সোমবার দিবাগত রাতে সদর উপজেলার ডিক্রিরচর ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে আইজুদ্দিন মাতুব্বরের ডাঙ্গী গ্রামের আব্দুস সালাম শেখের ছেলে রনি শেখ (১৮) এবং একই গ্রামের মোহাম্মদ রাজ্জাকের ছেলে শিপন শেখকে (১৯) গ্রেফতার করা হয়। অন্যদের গ্রেফতারে অভিযান চলছে।