ধর্ষণ মামলায় কাউন্সিলর খোরশেদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা

বিয়ের আশ্বাসে ধর্ষণের অভিযোগে নারীর করা মামলায় নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের ১৩নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর ও মহানগর যুবদলের সাবেক সভাপতি মাকসুদুল আলম খন্দকার খোরশেদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেছেন আদালত।

বুধবার (১৭ নভেম্বর) দুপুরে নারায়ণগঞ্জ নারী ও শিশু নির্যাতন দমন বিশেষ ট্রাইব্যুনালের বিচারক নাজমুল হক শ্যামলের আদালত এ পরোয়ানা জারি করেন। মামলার বাদীপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট জসিম উদ্দীন এবং নারায়ণগঞ্জ কোর্ট পুলিশের ইন্সপেক্টর আসাদুজ্জামান বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

চলতি বছরের ২৫ আগস্ট কাউন্সিলর খোরশেদের বিরুদ্ধে মামলাটি করা হয়। মামলা তদন্তে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনকে (পিবিআই) দায়িত্ব দেওয়া হয়। পিবিআই তিন মাসের বেশি সময় ধরে তদন্ত শেষে অভিযোগের সত্যতা পায়।

পিবিআই নারায়ণগঞ্জের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মনিরুল ইসলাম জানান, তদন্তে খোরশেদের বিরুদ্ধে ওই নারীকে ধর্ষণের অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেছে। গত ৪ নভেম্বর ট্রাইব্যুনালে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এসআই তৌহিদুল ইসলাম প্রতিবেদন দাখিল করেন। আদালত অভিযোগপত্র আমলে নিয়ে আসামির বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেন।

অভিযুক্ত কাউন্সিলর মাকসুদুল আলম খোরশেদের দাবি, ‘সিটি করপোরেশন নির্বাচন সামনে রেখে আমার রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ ওই নারীকে নিয়ে নোংরা খেলায় মেতেছে। এতে ইন্ধন দিচ্ছে আমার দলের কতিপয় নেতা। এসব ষড়যন্ত্র।’

মামলার এজাহারে ওই নারী উল্লেখ করেন, তার প্রথম বিয়ের পর সেই সংসারে তিনটি সন্তান রয়েছে। বনিবনা না হওয়ায় প্রথম স্বামীর সঙ্গে তার বিচ্ছেদ হয়। এরপর থেকে কাউন্সিলর খোরশেদ তার সঙ্গে ভালোবাসার সম্পর্ক গড়ে তোলেন। একপর্যায়ে গত বছরের ২ আগস্ট বিকালে এক লোককে সঙ্গে নিয়ে ভুক্তভোগীকে কাঁচপুরের এসএস ফিলিং স্টেশনে নিয়ে যান খোরশেদ। ওই লোককে কাজী পরিচয় দিয়ে ভুক্তভোগীকে বিয়ে করেন অভিযুক্ত কাউন্সিলর। এরপর সেই কাজী রেজিস্টারে স্বাক্ষর নিয়ে বলেন, আপনারা বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হয়েছেন। ওই দিন রাত ১১টায় ভুক্তভোগীর বাসায় বাসরের নামে খোরশেদ তাকে কয়েকবার ধর্ষণ করেন। এরপর থেকে প্রায়ই তাদের মধ্যে স্বামী-স্ত্রীর দাবিতে ধর্ষণের ঘটনা ঘটেছে। এরমধ্যে খোরশেদের কাছে একাধিকবার কাবিননামা চান ভুক্তভোগী। কাবিননামা না দিয়ে চলতি বছরের ১৯ জানুয়ারি রাত ১১টায় আবারও বাসায় গিয়ে তাকে ধর্ষণ করেন। এজাহারে খোরশেদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অজুহাতে ৫০ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগও আনা হয়।