গাজীপুর সিটি করপোরেশনের মেয়র অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলমকে আওয়ামী লীগ থেকে আজীবনের জন্য বহিষ্কার করা হয়েছে। এ খবর শুক্রবার (১৯ নভেম্বর) সন্ধ্যার পর থেকে ছড়িয়ে পড়লে রাত ৯টায় গাজীপুর শহরে আনন্দ মিছিল বের করেছেন দলের ও অঙ্গ সংগঠনের অর্ধশতাধিক নেতাকর্মী। মিছিলটি শহরের রাজবাড়ি সড়কসহ গুরুত্বপূর্ণ এলাকা প্রদক্ষিণ করে দলীয় কার্যালয়ের সামনে গিয়ে শেষ হয়। তারা সেখানে সংক্ষিপ্ত সমাবেশও করেন।
এ সময় মহানগর আওয়ামী লীগের সদস্য আব্দুল হাদী শামীম, মহানগর স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি সঞ্জিত মল্লিক বাবু, সাইফুল ইসলাম ভোলা, ছাত্রলীগ নেতা মেহেদী হাসান নাহিদ মোড়ল, ইঞ্জিনিয়ার আব্দুর রশিদ ঢালীসহ আওয়ামী লীগ ও অঙ্গসংগঠনের অনেক নেতাকর্মী।
এদিকে, গাজীপুর মহানগরের টঙ্গীতে অনুরূপ আনন্দ মিছিল ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। এতে মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি অ্যাডভোকেট আজমত উল্লাহ খানসহ দলের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। এছাড়াও মহানগরীর বোর্ডবাজারসহ কয়েক স্থানে আনন্দ মিছিল ও সমাবেশ হয়েছে বলে খবর পাওয়া গেছে। এ সময় জেলা শহরসহ বিভিন্ন স্থানে পটকা ফাটানো হয়।
চলতি বছরের ২২ সেপ্টেম্বর মেয়র জাহাঙ্গীরের একটি ঘরোয়া আলোচনার চার মিনিটের একটি অডিও-ভিডিও ফেসবুকে ভাইরাল হয়। এর একটি অংশ ছিল ভিডিও, একটি অংশ ছিল অডিও। সেখানে তিনি মুক্তিযুদ্ধে শহীদের সংখ্যা ও বঙ্গবন্ধুর দেশ স্বাধীন করার উদ্দেশ্য নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন। এরপর আওয়ামী লীগের একটি অংশ জাহাঙ্গীরের বিরুদ্ধে দলীয় ও আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার দাবিতে বিক্ষোভে নামে। সে সময় মেয়র ছিলেন দেশের বাইরে। মেয়র জাহাঙ্গীরের শাস্তির দাবিতে সেপ্টেম্বরের শেষ সপ্তাহে গাজীপুর ছিল উত্তপ্ত। ক্ষোভ-বিক্ষোভের মধ্যে গত ৩ অক্টোবর জাহাঙ্গীরের ব্যাখ্যা চায় আওয়ামী লীগ। এতে তাকে ১৫ দিন সময় দেওয়া হয়। ১৮ অক্টোবর সময়সীমা শেষ হওয়ার আগেই মেয়র ব্যাখ্যা দেন।
তবে তার ব্যাখ্যা তাকে রক্ষা করতে পারেনি। শুক্রবার (১৯ নভেম্বর) বিকাল ৪টায় অনুষ্ঠিত বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সংসদের বৈঠকে তাকে দল থেকে আজীবনের জন্য বহিষ্কার করা হয়।