গত ২২ সেপ্টেম্বর গাজীপুরের মেয়র জাহাঙ্গীর আলমের ঘরোয়া আলোচনার একটি রেকর্ড ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়ে। ঘটনার পর থেকেই গাজীপুর আওয়ামী লীগের একটি অংশ জাহাঙ্গীরের বিরুদ্ধে দলীয় ও আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার দাবিতে বিক্ষোভ শুরু করে। ওই সময়ে দেশের বাইরে ছিলেন মেয়র জাহাঙ্গীর। দেশে ফিরে ২৪ অক্টোবর তিনি টঙ্গীতে পাল্টা সমাবেশ ডেকে নিজের শক্তি দেখান। ক্ষোভ-বিক্ষোভের মধ্যে গত ৩ অক্টোবর কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগ থেকে জাহাঙ্গীরের কাছে ফাঁস হওয়া রেকর্ডের ব্যাখ্যা চেয়ে ১৫ দিন সময় দেওয়া হয়। নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে তিনি দলের নির্বাহী কমিটি বরাবর লিখিত ব্যাখ্যা দেন।
ব্যাখ্যায় দলের সভানেত্রী শেখ হাসিনার ওপর আস্থা রেখে তিনি বলেন, ‘আমার যিনি প্রধান, আমার গার্ডিয়ান (অভিভাবক), উনি যেটা ভালো মনে করেন সেটাই হবে। দল আমার বিরুদ্ধে যে ব্যবস্থা নেবে, আমি দলের সিদ্ধান্ত মেনে নেবো।’
এ অবস্থায় শুক্রবার (১৯ নভেম্বর) আওয়ামী লীগের সর্বোচ্চ নীতি-নির্ধারণী ফোরাম কার্যনির্বাহী সংসদের সভায় বঙ্গবন্ধু ও মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে কটূক্তির দায়ে গাজীপুর মহানগর আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলমকে দল থেকে আজীবনের জন্য বহিষ্কার করা হয়। দলীয় প্রধান শেখ হাসিনা বহিষ্কারের নির্দেশ দিয়ে বলেন,‘ভবিষ্যতে এমন ধৃষ্টতা যাতে কেউ দেখাতে না পারে—জাহাঙ্গীরের বিরুদ্ধে এমন ব্যবস্থাই নেওয়া হবে।’
রাত ৮টার দিকে থানার বিভিন্ন এলাকা থেকে ছোট ছোট দলে মিছিল নিয়ে নেতাকর্মীরা টঙ্গী আওয়ামী লীগের কার্যালয়ে জড়ো হন। এ সময় তারা জাহাঙ্গীরের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার জোর দাবি জানান।
জাহাঙ্গীর আলমকে দল থেকে বহিষ্কারের খবর ছড়িয়ে পড়লে গাজীপুর সিটি করপোরেশনের বিভিন্ন এলাকাতেও নেতাকর্মীরা আনন্দ মিছিল ও মিষ্টি বিতরণ করেন। সন্ধ্যার পর মহানগরের ১৯ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আলমগীর হোসেনের নেতৃত্বে সালনা এলাকায় আনন্দ মিছিল হয়।
তিনি আরও বলেন, গাজীপুরের মানুষ দলের সিদ্ধান্তে আনন্দিত। কারণ তাদের অন্তরের জ্বালা ছিল এ বক্তব্যের পরে। সে জন্য এর বহিঃপ্রকাশ গাজীপুরের বিভিন্ন ওয়ার্ডে শুরু হয়ে গেছে। নেতাকর্মীরা তথা গাজীপুরবাসী দলের সিদ্ধান্তে খুশি।
মেয়রকে দল থেকে বহিষ্কারের ঘটনায় ক্ষমতাসীন দলে স্থানীয় পর্যায়ে বিভেদ তৈরি হবে কিনা, এমন প্রশ্নে গাজীপুর মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি অ্যাডভোকেট আজমত বলেন, গাজীপুর মহানগর আওয়ামী লীগে অতীতেও কোনও বিভেদ ছিল না, এখনও নেই। আওয়ামী লীগ একটি গণতান্ত্রিক দল। এ দলের একটি গঠনতন্ত্র রয়েছে। সে গঠনতন্ত্র মাফিক দল পরিচালিত হয় ।
দলের কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সভায় সিদ্ধান্ত হওয়ার পর একাধিকবার মেয়র জাহাঙ্গীর আলমকে ফোন দিলেও তিনি রিসিভ করেননি। এ কারণে তার কোনও বক্তব্য পাওয়া যায়নি।