কাউন্সিলরের শিশুসন্তানকে ধর্ষণ, হাসপাতালে ভর্তি

নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে স্থানীয় এক পৌর কাউন্সিলরের আট বছর বয়সী মেয়েকে ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে। গুরুতর অবস্থায় শিশুটিকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের ওয়ান-স্টপ ক্রাইসিস সেন্টারে (ওসিসি) ভর্তি করা হয়েছে।

শনিবার (১১ ডিসেম্বর) রাতে ভুক্তভোগী শিশুর বাবা বাদী হয়ে অজ্ঞাতদের আসামি করে থানায় মামলা করেছেন। রবিবার (১২ ডিসেম্বর) বিকাল সাড়ে ৪টায় এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত কাউকে গ্রেফতার করতে পারেনি পুলিশ।

মামলা সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার (১০ ডিসেম্বর) সন্ধ্যা ৬টার দিকে ভুক্তভোগী শিশু (৮) ও তার মামাতো বোন (৭) উপজেলার হাটাব সিটি মার্কেটের সামনে ঘোরাঘুরি করছিল। সেখানে অজ্ঞাত পরিচয়ের ২-৩ জন ব্যক্তি খাবারের প্রলোভন দেখিয়ে তাদের মার্কেটের পেছনে নির্জন স্থানে নিয়ে যায়। এ সময় তাদের দুজনকে ধর্ষণের চেষ্টা করা হলে অজ্ঞাত একজনের হাতে কামড় দিয়ে মামাতো বোন দৌড়ে পালিয়ে বাড়িতে চলে যায়। অপর শিশুটিকে ধর্ষণ করা হয়। পালিয়ে চলে আসা শিশু বাড়ির লোকজনকে জানালে তারা ছুটে গিয়ে রক্তাক্ত অবস্থায় শিশুটিকে উদ্ধার করে। অবস্থার অবনতি হলে তাকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

মামলার বাদী ভুক্তভোগী শিশুর বাবা জানান, তার মেয়ের শারীরিক অবস্থা গুরুতর বলে জানিয়েছেন চিকিৎসক। অনেক রক্তক্ষরণ হয়েছে। রক্ত দিতে হবে। শিশুটি স্থানীয় একটি কিন্ডার গার্টেনে তৃতীয় শ্রেণিতে পড়ে। 

বাবা জানান, গত রাতে শিশুটির সঙ্গে কথা বলেছেন বাবা-মা। কিন্তু শিশুটি আসামির নাম-পরিচয় বলতে পারেনি। তবে দেখলে চিনবে বলে জানিয়েছে।

এই ঘটনার সুষ্ঠু বিচার দাবি করে ভুক্তভোগীর বাবা বলেন, ‘আমি পৌরসভার কাউন্সিলর। পুলিশ এখন পর্যন্ত কোনও আসামিকে চিহ্নিত করতে পারেনি। ছোট্ট একটা শিশুর ওপর যারা পাশবিক নির্যাতন করেছে তারা পশুর চেয়ে অধম। আমি ওদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই।’

ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ পরিদর্শক বাচ্চু মিয়া বলেন, ‘ধর্ষণের শিকার শিশুটি ওসিসিতে চিকিৎসাধীন রয়েছে।’

রূপগঞ্জ থানার পরিদর্শক হুমায়ুন কবির মোল্লা বলেন, ‘অজ্ঞাত আসামিদের বিরুদ্ধে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা হয়েছে। আসামিদের চিহ্নিত করে তাদের গ্রেফতারের চেষ্টা চালাচ্ছে পুলিশ। ভুক্তভোগী শিশুটি ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে।’

রূপগঞ্জ থানার ওসি এএফএম সায়েদ বলেন, ‘শিশুটির পরিবারের সঙ্গে আমরা সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রাখছি। শিশুটির শারীরিক অবস্থা উন্নতি হলে সন্দেহভাজনদের শিশুটিকে দেখানো হবে। কারণ, সে কারও নাম বলতে পারছে না। দেখলে চিনবে বলে জানিয়েছে। আমরা দ্রুতই আসামিদের আইনের আওতায় নিয়ে আসতে পারবো।’