বিতর্কিত বক্তা আবু ত্বহাকে ফরিদপুরে মাহফিলে ওয়াজ করতে না দেওয়ায় বিক্ষুব্ধদের পুলিশ ফাঁড়িতে হামলার ঘটনায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে। এ দিকে নিরাপত্তার জন্য সোমবার (১৩ ডিসেম্বর) ওই এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। তবে নতুন করে কোনও সংঘাতের ঘটনা ঘটেনি।
রবিবার (১২ ডিসেম্বর) রাত সাড়ে ৯টা থেকে সোয়া ১২টা পর্যন্ত ফরিদপুর সদরের কানাইপুর ইউনিয়নের লক্ষ্মীপুরে আমজাদ সরদারের জুট মিল মাঠ এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
করিমপুর হাইওয়ে পুলিশ ফাঁড়ির দায়িত্বরত কর্মকর্তা পরিদর্শক আব্দুল্লাহ আল মামুন শাহ বলেন, পুলিশ ফাঁড়িতে হামলা, ভাঙচুর ও পুলিশ সদস্যদের আহত হওয়ার ঘটনায় পুলিশ বাদী হয়ে মামলার প্রস্তুতি নিচ্ছে।
এ সময় ঢাকা-খুলনা মহাসড়ক অবরোধ করার ঘটনাও ঘটে। পুলিশ ২২টি শটগানের গুলি ছুড়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
ওই মাঠে মারকাযুত তাকওয়া ইসলামি মাদ্রাসা ও সরদার বাড়ি জামে মসজিদের উদ্যোগে বার্ষিক এ ওয়াজ মাহফিলের আয়োজন করা হয়। ওই মহফিলে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেওয়ার কথা ছিল বিতর্কিত ইসলামি বক্তা আবু ত্বহা মুহাম্মদ আদনানের।
রবিবার সন্ধ্যা থেকে ওয়াজ মাহফিল শুরু হয়। রাত সাড়ে ৯টার দিকে মহফিলের মঞ্চে থেকে ঘোষণা দেওয়া হয় প্রশাসনের আপত্তির কারণে আবু ত্বহা মুহাম্মদ বক্তব্য দেবেন না। পরে ওয়াজ মাহফিল সমাপ্ত ঘোষণা করা হয়।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, ওই সময় ওয়াজ মাহফিলের মাঠে প্রায় ১০ হাজার শ্রোতা উপস্থিত ছিলেন। এ ঘোষণায় শ্রোতাদের কিছু অংশ বিক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন। বিক্ষুব্ধ জনতা পাশের ঢাকা-খুলনা মহাসড়কে এসে বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন এবং মহাসড়কে সকল ধরনের যানবাহন চলাচল বন্ধ করে দেন। ওই সময় বিক্ষোভকারীদের একটি অংশ ঘটনাস্থল থেকে প্রায় আধা কিলোমিটার দূরে অবস্থিত করিমপুর পুলিশ ফাঁড়িতে আক্রমণ করে। বিক্ষুব্ধরা ইট ছুড়ে এবং ফাঁড়িতে থাকা পুলিশের দুটি গাড়ি ও একটি অ্যাম্বুলেন্সের কাচ ভেঙ্গে ফেলে।
পরে ফরিদপুর থেকে দাঙ্গা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে শটগানের গুলি ছুড়ে রাত সোয়া ১২টার দিকে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। এ ঘটনায় তিনজন পুলিশ সদস্য আহত হন।
এ ওয়াজ মাহফিল আয়োজনের সার্বিক তত্ত্বাবধানে ছিলেন আমজাদ সরদারের ছেলে রকিব আল হাসান সরদারর। ঘটনা সম্পর্কে রকিব জানান, আবু ত্বহার ব্যাপারে পুলিশ সীমিত পরিসরে ঘরোয়াভাবে আমাদের এ অনুষ্ঠান করার অনুমতি দিয়েছিল। তবে রবিবার ওয়াজ মাহফিল চলাকালে রাত সাড়ে ৮টার দিকে ফরিদপুর কোতয়ালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ফোন করে বাবাকে বলেন, আবু ত্বহাকে মঞ্চে উঠানো যাবে না। পরে আমরা ওয়াজ মাহফিলে আগতদের উদ্দেশ্যে মাপ চেয়ে নিলে সমবেতদের মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।
রকিব আল হাসান সরদার আরও বলেন, যারা ফাঁড়িতে হামলা করেছে, সড়ক অবরোধ করেছে, তারা গুটিকয়েক উগ্রপন্থী। এদের সঙ্গে ওয়াজ মাহফিলের আয়োজকদের কোনও সম্পর্ক নেই। তিনি বলেন, পুলিশ ফাঁড়ির সিসি ক্যামেরার ফুটেজ দেখেই হামলাকারীদের শনাক্ত করে গ্রেফতার করতে পারবে। তিনি বলেন, এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে মামলার নামে সাধারণ মানুষকে হয়রানি করা ঠিক হবে না।
ফরিদপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) সুমন রঞ্জন সরকার বলেন, ওয়াজ মাহফিল করতে হলে উপজেলা থেকে অনুমতি নিতে হয়। ত্বহাকে আনার ব্যাপারে কোনও অনুমতি প্রশাসন দেয়নি। তিনি বলেন, ওই ওয়াজ মাহফিলের ব্যাপারে কোন অনুমতি ছিল না।
ফরিদপুর কোতয়ালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এম এ জলিল বলেন, বর্তমানে ওই এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়নে করা হয়েছে। তিনি বলেন, এ ঘটনায় করিমপুর হাইওয়ে পুলিশ ফাঁড়ির দায়িত্বরত কর্মকর্তা পরিদর্শক আব্দুল্লাহ আল মামুন শাহ মামলার প্রস্তুতি নিচ্ছেন।