এ ঘটনায় মোবাইল শো রুমের মালিক কবির আহম্মেদ লিটন রবিার দুপুরে ফতুল্লা মডেল থানায় সাধারণ ডায়েরি করেন। একই সঙ্গে সার্কিট হাউজের সিসি ক্যামেরার ভিডিওফুটেজ দেখার অনুমতি চেয়ে জেলা প্রশাসকের কাছে একটি দরখাস্তও দেন।
সাধারণ ডায়েরি সূত্রে জানা গেছে, শনিবার রাত সোয়া ৭টার দিকে নারায়ণগঞ্জ শহরের মার্ক টাওয়ারের দি মোবাইল-২-শো রুমে উপস্থিত হয়ে আরিফুর রহমান নিজেকে বাংলাদেশ সেক্রেটারিয়েট আমেরিকা উইং মিনিস্ট্রি অব ফরেন অ্যাফায়ার্সের ডেপুটি সেক্রেটারি হিসেবে পরিচয় দেন। এ সময় তিনি সপরিবারে নারায়ণগঞ্জ সার্কিট হাউজের ভিআইপি কক্ষ-২-এ অবস্থান করছেন বলেও জানান। একইসঙ্গে তার একটি ভিজিটিং কার্ডও ধরিয়ে দেন।
অভিযোগে বলা হয়, আরিফুর রহমান জানান, তারা কোনও একটি বিয়ের অনুষ্ঠানে যাবেন। সেখানে উপহার হিসেবে কিছু মোবাইল সেট দিতে চান। শো রুমের মালিক তার চাহিদামতো মোবাইল সেট দোকানে নেই বলে জানান। তখন আরিফুর রহমান ০১৮৮২ ২৩ ৯১ ৫৩ নম্বরের মোবাইল নম্বরসহ ২ হাজার টাকা অগ্রিম দিয়ে বলেন, ৫টি মোবাইলসেট সংগ্রহ করে তাকে ফোন দিতে।
কবির আহম্মেদ লিটন ৫টি মোবাইল সংগ্রহ করে ফোন করেন আরিফুর রহমানকে। তখন আরিফুর রহমান জানান, তিনি সার্কিট হাউজেই রয়েছেন। মোবাইল সেটগুলো সার্কিট হাউজে নিয়ে যেতে বলেন। কথামতো দুজন কর্মচারীসহ লিটন রাত সোয়া ৯টার দিকে সার্কিট হাউজে যান। মোবাইল সেটগুলো আরিফুর রহমানের কাছে দিলে, তিনি পাশের রুমে তার পরিবারের লোকজনকে দেখানোর কথা বলে নিয়ে যান। এরপর পার হয়ে যায় প্রায় ১৫ মিনিট। এরপরও আরিফুর রহমান ফিরে না আসায় লিটন সার্কিট হাউজের পিয়ন নয়নের কাছে জানতে চান আরিফুর রহমানের বিষয়ে। নয়ন জানান, আরিফুর রহমান কিছুক্ষণের মধ্যে আসার কথা বলে প্রাইভেট কার নিয়ে বের হয়ে গেছেন। তখন আরিফুর রহমানের মোবাইলে কল দেন লিটন। কিন্তু ফোন রিসিভ করেননি আরিফুর রহমান। কিছুক্ষণ পর মোবাইলটি বন্ধ পাওয়া যায়।
এ বিষয়ে পিয়ন নয়ন জানান, সার্কিট হাউজের দায়িত্বে থাকা নেজারত ডেপুটি কালেক্টর (এনডিসি) আব্দুল্লাহ আল জাকি তার ব্যবহৃত মোবাইল থেকে ফোন করে ওই ব্যক্তিকে রুম দিতে বলেছেন। তাই দিয়েছি।
এনডিসি আব্দুল্লাহ আল জাকি জানান, শনিবার রাতে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের উপ-সচিব পরিচয় দিয়ে আরিফুর রহমান আমার কাছে সার্কিট হাউজের একটি রুম চাইলে, একজন পিয়নকে সেটা দেওয়ার জন্য বলি। মাত্র একঘণ্টা বিশ্রামের জন্য চাওয়ায় রেজিস্ট্রারও মেনটেইন করা হয়নি।
তিনি জানান, সার্কিট হাউজের সিসি ক্যামেরা পরীক্ষা করা হচ্ছে।
ফতুল্লা মডেল থানার ওসি আসাদুজ্জামান অভিযোগ পাওয়ার কথা স্বীকার করে বলেন, অভিযোগের বিষয় তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
/এমএনএইচ/