ফরিদপুরের মধুখালী উপজেলার রায়পুর ইউনিয়নে উদ্বেগজনক হারে বেড়েছে গরু চুরির ঘটনা । প্রায় প্রতিরাতেই গরু চুরি কিংবা চুরির চেষ্টা চলছে। এ পর্যন্ত চোরদের ব্যবহৃত একটি ট্রাক জব্দ করা ছাড়া এলাকাবাসী ও পুলিশ কোনও গরুচোরকে আটক করতে পারেনি। এক ইউনিয়নের দুটি গ্রাম থেকে গত তিন মাসে ২৮টি গরু চুরি হয়েছে। নিরুপায় হয়ে অনেক গৃহস্থ রাত জেগে গরু পাহারা দিচ্ছেন।
উপজেলার রায়পুর ইউনিয়নের লক্ষ্মীনারায়ণপুর গ্রামের বাসিন্দা মো. জিন্নাত আলী বলেন, গত এক সপ্তাহে আমার নিজের দুটি এবং চাচা মো. আবু বক্কর খানের একটিসহ মোট তিনটি গরু চুরি হয়েছে।
স্থানীয়রা অভিযোগ করেন, উপজেলার বিভিন্ন স্থান ছাড়াও ইউনিয়নের লক্ষ্মীনারায়ণপুর ও শ্রীরামপুর গ্রামে এ চুরির ঘটনা সবচেয়ে বেশি।
গ্রামের আরেক বাসিন্দা মো. আজম খান বলেন, গত প্রায় তিন মাসের মধ্যে ওই দুই গ্রাম থেকে মো. হাসমত মোল্লা ও মো. নিয়ামত হোসেনের পাঁচটি করে ১০টি গরুসহ অন্তত ১২ জন গৃহস্থের ২৮টি গরু চুরি হয়েছে। চুরি হওয়া গরুর বেশিরভাগই গাভী। কৃষকদের এতে প্রায় ৪০ লাখ টাকার বেশি ক্ষতি হয়েছে।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, গরু চুরির হিড়িক পড়ায় চুরির ভয়ে দুই গ্রামের লোকজন অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছেন। বিশেষত মধুখালী-গোপালদী আঞ্চলিক সড়ক পথে ট্রাক নিয়ে এসে গরুগুলো চুরি করে পালিয়ে যায় চোরের দল। গত বুধবার (১১ জানুয়ারি) দিবাগত রাত আড়াইটার দিকে মধুখালী-গোপালদী আঞ্চলিক সড়কের লক্ষ্মীনারায়ণপুর চৌরাস্তা এলাকায় একটি ট্রাক যেতে দেখে এলাকাবাসী ধাওয়া দেয়। পরে ট্রাকের চালকসহ লোকজন ট্রাকটির ইঞ্জিন চালু রাখা অবস্থায় পালিয়ে যায়।
পরদিন বৃহস্পতিবার (১৩ জানুয়ারি) ভোরে এলাকাবাসী ট্রাকটি মধুখালী থানার পুলিশের কাছে হস্তান্তর করে। এই গরু চোর চক্রকে দ্রুত ধরার দাবি জানিয়েছেন ক্ষতিগ্রস্তরা ও এলাকাবাসী।
এ বিষয়ে মধুখালী থানার ওসি মো. শহীদুল ইসলাম বলেন, সম্প্রতি বেশকিছু গরু চুরির ঘটনা ঘটেছে। চুরির ঘটনায় ইতোমধ্যে থানায় একাধিক মামলা হয়েছে। গত বৃহস্পতিবার ভোরে চোরচক্রের ব্যবহৃত একটি ট্রাক আটক করা হয়। ওই ট্রাকের মালিকসহ চোরচক্রকে ধরতে জোরালোভাবে কাজ চলছে। চোর ধরতে পুলিশি টহল ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে বলেও জানান তিনি।