নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলার আলীরটেকে সাবেক ও বর্তমান চেয়ারম্যান সমর্থকরা সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েন খোদ স্থানীয় প্রভাবশালী সংসদ সদস্য সেলিম ওসমানের উপস্থিতিতেই। এতে অন্তত পাঁচজন আহত হন।
সংঘর্ষের পর উভয়পক্ষই ধারালো দেশীয় অস্ত্র নিয়ে এলাকাতে মহড়া দেন। সেলিম ওসমান অস্ত্রের মহড়ার খবর পাওয়ার পর এলাকা ত্যাগ করেন। ঘটনাস্থলে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন রয়েছে।
নারায়ণগঞ্জ সদর মডেল থানার পরিদর্শক (তদন্ত) শাহজালাল জানান, অপ্রীতিকর ঘটনার আশঙ্কায় পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
পুলিশ সূত্র জানায়, সোমবার সকাল ১১টায় কুড়েরপাড় আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়ের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন অনুষ্ঠানে উপস্থিত সেলিম ওসমান। অনুষ্ঠানের তদারকে ছিলেন আলীরটেক ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান মতিউর রহমান মতি। এসময় চেয়ারম্যান জাকির হোসেনের লোকজন অনুষ্ঠানস্থলে হাজির হন।
এ পর্যায়ে সেলিম ওসমান বর্তমান চেয়ারম্যান জাকির হোসেনকে মঞ্চে ডাকলে তাকে উঠতে বাধা দেন সাবেক চেয়ারম্যান মতিউরের সমর্থকরা। এ ঘটনা পরে সংঘর্ষ ও অস্ত্রের মহড়ায় রূপ নেয়। সংঘর্ষ ডিক্রিরচর খেয়াঘাটসহ পার্শ্ববর্তী এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে।
সেলিম ওসমান বলেন, অনুষ্ঠানে দোয়া চলাকালে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির চেষ্টা করা হয়েছিল। সে চেষ্টা আমি কঠোরভাবে দমন করে জাকির হোসেনকে মঞ্চে নিয়ে বসিয়ে সম্মান দিয়েছি। কিন্তু অনুষ্ঠান শেষে জাকির নামাজ পড়ার কথা বলে চলে গিয়ে তার লোকজনসহ অস্ত্র নিয়ে অবস্থান নেয়।
সেলিম ওসমান আরও বলেন, আমি লোক পাঠিয়ে বিষয়টি সত্য জেনে জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার ও সদর মডেল থানার ওসিকে বিষয়টি জানিয়ে এলাকাবাসীর নিরাপত্তার স্বার্থে পুলিশ এনে পরিস্থিতি শান্ত করিয়েছি। ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দিয়েছি।
সাবেক চেয়ারম্যান মতিউর রহমান মতি বলেন, শান্তিপূর্ণভাবে অনুষ্ঠান চলাকালে জাকির হোসেনের লোকজন হামলা করলে আমাদের চারজন কর্মী আহত হন। কিন্তু আমরা কোনও প্রতিবাদ করিনি এমপি সাহেবের (শামীম ওসমান) কথায়।
বর্তমান চেয়ারম্যান জাকির হোসেনের মোবাইলে একাধিকবার ফোন করা হয়। তিনি রিসিভ করেননি।
/এইচকে/