মুন্সীগঞ্জের গজারিয়া উপজেলার চর বাউশিয়া এলাকায় ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক সংলগ্ন একটি বাগান থেকে এক তরুণের লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। তার নাম জাহিদ হোসেন (২১)। বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর সৈনিক পদে নিয়োগের জন্য জাহিদ নির্বাচিত হয়েছিলেন বলে পরিবার ও পুলিশ জানিয়েছে।
বুধবার (৯ ফেব্রুয়ারি) বিকালে গজারিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. রইছ উদ্দিন জানান, গত ৪ ফেব্রুয়ারি জাহিদের সেনাবাহিনীতে যোগদান করার কথা ছিল, কিন্তু ৩১ জানুয়ারি ভোর থেকে তিনি নিখোঁজ ছিলেন। শরীরচর্চার উদ্দেশ্যে বাড়ি থেকে বের হয়ে আর ফিরে আসেননি। এ ঘটনায় গত ২ ফেব্রুয়ারি গজারিয়া থানা একটি ডায়েরি করা হয়।
জাহিদ উপজেলার টেংগারচর গ্রামের কৃষক আবুল কালামের ছেলের।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, গত দুই দিন ধরে নাবিস্কো কোম্পানির বাগান থেকে দুর্গন্ধ আসছিল। দুর্গন্ধের তীব্রতা আরও বাড়তে থাকলে বুধবার দুপুর সাড়ে ১২টায় স্থানীয় কয়েকজন বাগানের ভেতরে ঢুকে এর উৎস খুঁজতে থাকেন। তারা সেখানে ঝুলন্ত অবস্থায় এক যুবকের অর্ধগলিত লাশ দেখতে পান। পরে খবর দিলে পুলিশ লাশটি উদ্ধার করে নিয়ে যায়।
নিহত জাহিদের বাবা দরিদ্র কৃষক আবুল কালাম জানান, দুপুর ১টার দিকে পুলিশের ফোন পেয়ে তারা থানায় আসেন। লাশটি অর্ধগলিত হওয়ায় প্রথমে লাশের ছবি দেখে তারা শনাক্ত করতে পারেননি। পরে লাশ দেখে এবং গায়ে থাকা চাদর ও পায়ের জুতা দেখে তারা নিশ্চিত হয়েছেন লাশটি জাহিদের। তার ছেলেকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করে লাশ ঝুলিয়ে রাখা হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।
শোকে মুহ্যমান মা মনোয়ারা বেগম বলেন, ‘গত ৪ ফেব্রুয়ারি সেনা সদস্য হিসেবে চাকরিতে যোগদানের কথা ছিল জাহিদের। আমাদের সব শেষ হয়ে গেলো।’ জাহিদকে হত্যা করা হয়েছে উল্লেখ করে হত্যাকারীদের দ্রুত গ্রেফতার করে সর্বোচ্চ শাস্তি দাবি করেন তিনি।
গজারিয়া থানার ওসি বলেন, ‘পুলিশ একটি লাশ উদ্ধার করেছে। স্বজনরা শনাক্ত করেছে লাশটি টেংগারচর গ্রাম থেকে নিখোঁজ যুবক জাহিদের। লাশটির গায়ে আঘাতের চিহ্ন এবং লাশটি যেভাবে ঝুলিয়ে রাখা হয়েছে তা দেখে প্রাথমিকভাবে বিষয়টি হত্যাকাণ্ড বলে ধারণা করা হচ্ছে।’
ওসি আরও জানান, জাহিদের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য মুন্সীগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। এ ব্যাপারে এখনও কোনও মামলা হয়নি। কাউকে প্রাথমিকভাবে সন্দেহ করা হচ্ছে না। তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।