১৯৭১ সালের ৭ মার্চের অনন্য ভাষণের মধ্য দিয়ে মুক্তিযুদ্ধ ও স্বাধীনতার ডাক দিয়েছিলেন জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। ঐতিহাসিক সেই ভাষণের প্রায় দুই সপ্তাহ পরেই শুরু হয়ে যায় মহান মুক্তিযুদ্ধ। সেদিনের সেই ভাষণটি যারা ক্যামেরায় ধারণ ও পরবর্তী সময়ে অতিযত্নে সুরক্ষিত রেখেছিলেন তাদেরই একজন আমজাদ আলী খন্দকার। মুক্তিযুদ্ধে বিশেষ অবদানের জন্য তিনি এবার পেয়েছেন একুশে পদক। সে সময় তিনি তথ্য মন্ত্রণালয়ের অধীন চলচ্চিত্র বিভাগে ক্যামেরাম্যান হিসেবে কাজ করতেন।
এরপর জিনজিরা বাসস্ট্যান্ড থেকে একটি বাসের ছাদে উঠে বক্সগঞ্জ নামে বাসস্ট্যান্ডে নামেন। সেখানে কোনও যানবাহন না থাকায় একটি ঘোড়ার পিঠে ট্রাংক নিয়ে হাঁটতে হাঁটতে এগোন। প্রায় ৪ থেকে ৫ কিলোমিটার পৌঁছানোর পর দোহার থানার জয়পাড়া গ্রামের মজিদ দারোগার বাড়িতে ট্রাংকটি রাখা হয়। পরে তাকে খুঁজতে পেছনে পেছনে গিয়ে সেখানে পৌঁছান পরিচালক খায়ের। এরই মধ্যে দোহার থানায় পাকিস্তানি সেনাবাহিনী পৌঁছে যাওয়ায় নিরাপত্তার জন্য দোহার থেকে আরও ভেতরে চরকোষা গ্রামের অমেদ খাঁ এবং দানেশ খাঁ নামে দুই ভাইয়ের বাড়ির বড় ধানের গোলার ভেতরে ট্রাংকটি লুকিয়ে রাখা হয়। এর পরের দিন খায়ের সাহেব ভারতে গিয়ে ভারতীয় হাইকমিশন এবং মুক্তিবাহিনীর সঙ্গে যোগাযোগ করেন। এরপর সেই ধানের গোলা থেকে ট্রাংকটি মুক্তিবাহিনীর মাধ্যমে ভারতে নিয়ে যাওয়া হয়। মুক্তিযুদ্ধের সময়টায় বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চ ভাষণের ভিডিও ক্যাসেট ভারতেই ছিল। দেশ স্বাধীন হওয়ার পর খায়ের সাহেব দেশে ফিরে আসার সময় বঙ্গবন্ধুর সেই ৭ মার্চের ভাষণও সঙ্গে নিয়ে আসেন।
স্বাধীন দেশে ১৯৭৫ সালে বঙ্গবন্ধুকে ১৫ আগস্ট হত্যার পর বুকের ভিতর আগুন নিয়ে দীর্ঘ ২১ বছর বিটিভিতে পেশাগত জীবনে ভাষণের রেকর্ড ও রক্ষার বিষয়টি কাউকে বলেননি। এরপর থেকে মুক্তিযুদ্ধে অবদানের স্বীকৃতি পাওয়ার জন্য অনেক মন্ত্রণালয়ে ঘুরলেও হয়েছেন বঞ্চিত। তবে জীবনের শেষ বয়সে এসে একুশে পদক পাওয়ায় এখন আমজাদ আলী অনেক খুশি।
আমজাদ আলীর গ্রামের বাড়ি মানিকগঞ্জের হরিরামপুরের মুন্সীডাঙ্গা গ্রামে। তবে তিনি বর্তমানে সাভারের গেন্ডা এলাকায় পরিবারের সদস্যদের নিয়ে বসবাস করেন। স্বাধীনতার পর তিনি বঙ্গবন্ধুর ক্যামেরাম্যান হিসেবে কাজ করতেন। বঙ্গবন্ধুকে হত্যার পর ৯ মাস বাড়িতে ছিলেন। এরপর ১৯৭৯ সালে বিটিভিতে ক্যামেরাম্যান হিসেবে যোগ দেন।