নরসিংদী জেলা গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশের উপ-পরিদর্শক আব্দুল গাফ্ফারের বিরুদ্ধে মো. আব্দুর রব দেওয়ান নামে এক শিল্পপতিকে হয়রানির অভিযোগ পাওয়া গেছে।
অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে, আব্দুর রব দেওয়ান মাধবদীস্থ দেওয়ান টেক্সটাইল মিলের মালিক। গত ২৫ জানুয়ারি সোমবার রাত সোয়া ১০ টায় আব্দুল গাফ্ফার নামে এক ব্যক্তি ডিবি’র এস.আই পরিচয়ে ০১৭১১৬৬৪০৮৯ নম্বর থেকে রব দেওয়ানকে ফোন করেন। আবদুল গাফ্ফার শিল্পপতি রব দেওয়ানকে জিজ্ঞেস করেন বাবুল নামে কোনও ব্যক্তিকে চেনেন কী না। রব দেওয়ান তাকে চেনেন বলে জানালে উপ-পরিদর্শক গাফ্ফার বলেন, বাবুল আপনার কাছে ৫০ লাখ টাকা পাবেন।এ টাকা পরিশোধের তাগিদ দেন ওই পুলিশ কর্মকর্তা।
এ সময় রব দেওয়ান বাবুলের সঙ্গে তার কোনও লেনদেন নেই বলে জানালে আব্দুল গাফ্ফার বলেন,‘আমি ৬ মাস যাবত আপনাদের ব্যাপারে তদন্ত করেছি। তদন্তে কোন ডকুমেন্টস পাইনি। কিন্তু বাবুলের দুই সহযোগীকে আটক করার পর তাদের জবানবন্দি অনুযায়ী জানতে পারি যে বাবুলের দেওয়া ডাকাতির মালামালের ৫০ লাখ টাকা আপনার (রব দেওয়ান) কাছে জমা রয়েছে। এসময় রব দেওয়ান আরও তদন্ত করার জন্য বললে ইন্সপেক্টর আব্দুল গাফ্ফার এ ব্যাপারে পরে কথা বলবেন বলে ফোন রেখে দেন।’
পরে রাত আনুমানিক সাড়ে ৪ টায় গাফফার তার সহযোগীসহ মাধবদীস্থ দেওয়ান টেক্সটাইল মিলের গেইটে গিয়ে জোরে ধাক্কাতে থাকেন এবং ডাকাডাকি করতে থাকেন। এসময় গেইটের দারোয়ান মনির হোসেন গেইটের কাছে এলে ডিবি পরিচয়দারী লোকজন দারোয়ানকে অকথ্য ভাষায় গালাগাল করে গেইট খুলতে বলেন।
দারোয়ান গেইট খুলে দেওয়ার পর আব্দুল গাফ্ফার দারোয়ান মনিরকে বলেন, ‘গাড়ির মধ্যে দুজন ডাকাত ধরে নিয়ে এসেছি, দেখে যা। ওদের কাছ থেকে তোর মালিক আব্দুল রব দেওয়ান ডাকাতির মালামাল ক্রয় করেছে। তোর মালিককে ফোন করেছিলাম, সে কল রিসিভ করেনি। আগামীকালের মধ্যে আমার সঙ্গে দেখা করে ফয়সালা করতে বলবি। অন্যথায় তোর মালিকের বিরুদ্ধে ৮০ লাখ টাকার মামলা দেওয়া হবে এবং তাকে গ্রেফতার করে নিয়ে যাবো।’
পরদিন দারোয়ান এ ঘটনা শিল্পপতি রব দেওয়ানকে জানালে তিনি বিষয়টি নরসিংদী চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি’র নেতাদের জানান। পরে চেম্বারের এক নেতা বিষয়টি নিয়ে আব্দুল গাফ্ফারের সঙ্গে কথা বললে তিনি বলেন, রব দেওয়ানের বিরুদ্ধে ১৬৪ ধারা নিয়েই দেখা করবো। এ ঘটনায় হয়রানির আশংকায় শিল্পপতি রব দেওয়ান নরসিংদীর পুলিশ সুপার আমেনা বেগমের কাছে লিখিত অভিযোগ দাখিল করেছেন।
এ ব্যাপারে উপ-পরিদর্শক আব্দুল গাফফার বলেন,‘তদন্তে বের হয়ে এসেছে রব দেওয়ান নরসিংদী ও নারায়ণগঞ্জে বিভিন্ন সময় ডাকাতি হওয়া মালামাল ক্রয় করেছেন। অহেতুক তাকে হয়রানির প্রশ্নই আসে না।’
/টিএন/
/আপ-এএ/