অবিলম্বে মুন্সীগঞ্জের হৃদয় চন্দ্র মণ্ডল, ব্রাহ্মণবাড়িয়ার রসরাজ দাস ও সুনামগঞ্জের ঝুমন দাসসহ অন্যান্যের বিরুদ্ধে সাম্প্রদায়িক ষড়যন্ত্রমূলক সকল মামলা প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছে একাত্তরের ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটি। সেই সঙ্গে হৃদয় মণ্ডল ও তার পরিবারের সার্বিক নিরাপত্তা দেওয়ার দাবি জানানো হয়েছে।
শুক্রবার (১৫ এপ্রিল) সকালে ‘মৌলবাদী সাম্প্রদায়িক বিদ্বেষ ও সন্ত্রাস প্রতিহতকরণে সরকার ও নাগরিক সমাজের করণীয়’ শীর্ষক মুন্সীগঞ্জ নাগরিক সমাজের নেতৃবৃন্দের সঙ্গে এক মতবিনিময় সভায় এই দাবি জানানো হয়। সভায় লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটির সভাপতি শাহরিয়ার কবির।
তিনি বলেন, সাম্প্রদায়িক হামলার শিকার ভুক্তভোগীদের ন্যায়বিচার প্রদান ও অপরাধীদের শাস্তি নিশ্চিতকরণে সংখ্যালঘু সুরক্ষা আইন প্রণয়ন করতে হবে। সাম্প্রদায়িক বৈষম্য বিদ্বেষ ও সন্ত্রাস মোকাবিলায় অবিলম্বে বিচারিক ক্ষমতা সম্পন্ন জাতীয় সংখ্যালঘু কমিশন গঠন করতে হবে।
আরও পড়ুন: কারামুক্তির পর রাষ্ট্রের কাছে নিরাপত্তা চাইলেন শিক্ষক হৃদয় মণ্ডল
শাহরিয়ার কবির আরও বলেন, যেসব ওয়াজের ধর্ম ব্যবসায়ী মোল্লা বক্তারা ভিন্ন ধর্ম, ভিন্ন মত ও ভিন্ন জীবনধারার অনুসারীদের প্রতি অনবরত বিষেদাগার করে মৌলবাদী ও সাম্প্রদায়িক সন্ত্রাসের জমি উর্বর করছেন, তাদের গ্রেফতার ও শাস্তির আওতায় আনতে হবে। বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও প্রশাসনের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সাম্প্রদায়িক উসকানিমূলক বক্তব্য ও কর্মকাণ্ড নিরুৎসাহীত করতে ইতিপূর্বে চিহ্নিত ব্যক্তিদের শাস্তির আওতায় আনতে হবে।
সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন মুন্সীগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ সদস্য ও আওয়ামী লীগের মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক সম্পাদক অ্যাডভোকেট মৃণাল কান্তি দাস, মৌলবাদ ও সাম্প্রদায়িকতা বিরোধী দক্ষিণ এশিয় গণসম্মেলনের সভাপতি ও অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি শামসুদ্দিন চৌধুরী মানিক, বঙ্গবন্ধু অধ্যাপক মুনতাসীর মামুন, শিক্ষাবিদ শহীদজায়া শ্যামলী নাসরিন চৌধুরী, সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব বীর মুক্তিযোদ্ধা নাসির উদ্দিন ইউসুফ বাচ্চু, মুক্তিযুদ্ধ গবেষক মফিদুল হক, ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটির সাধারণ সম্পাদক কাজী মুকুল, ব্যারিস্টার তুহিন আফরোজ, ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটির মুন্সীগঞ্জ সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা এম এ কাদের মোল্লা প্রমুখ।