নিজেকে সরকারের ডেপুটি সেক্রেটারি পরিচয় দিয়ে নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রশাসনের সার্কিট হাউজ ব্যবহার করা প্রতারকের ছবি পাওয়া গেছে। সার্কিট হাউজে থাকা সিসি ক্যামেরা থেকে প্রতারকের ছবি ও ব্যবহৃত গাড়ির ছবি পাওয়া গেলেও পুলিশ এখনও পর্যন্ত তাকে গ্রেফতার করতে পারেনি।
অন্যদিকে ঘটনার ৭ দিন অতিবাহিত হলেও ১ লাখ ৮৫ হাজার টাকার ৫টি মোবাইল উদ্ধার না হওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন প্রতারণার শিকার মোবাইল দোকান মালিক।
ঘটনার দিন (২৩ জানুয়ারি) নারায়ণগঞ্জ সার্কিট হাউজে থাকা সিসি ক্যামেরার ভিডিও ফুটেজ থেকে প্রাপ্ত ছবিগুলো শনিবার বিকেলে বাংলা ট্রিবিউনের কাছে এসেছে। এতে দেখা যায়, একটি প্রাইভেটকারে করে সানগ্লাস পরিহিত ওই প্রতারক সার্কিট হাউজে এসে নামে। এ সময় তার ডান পাশের কাঁধে ছিল একটি ব্যাগ। গাড়ি থেকে নেমে লাল শার্ট পরা এক ব্যক্তির সঙ্গে কথা বলেন তিনি। অবশ্য পরে জানা গেছে, লাশ শার্ট পরিহিত ওই ব্যক্তির নাম নয়ন মিয়া। তিনি সার্কিট হাউজের পিয়ন হিসেবে কর্মরত।
ঘটনার পর সার্কিট হাউজের দায়িত্বে থাকা পিয়ন নয়ন মিয়া জানান, সার্কিট হাউজের দায়িত্বে থাকা ম্যাজিস্ট্রেট আব্দুল্লাহ আল জাকির তার ব্যবহৃত মোবাইল থেকে ফোন করে জানালে ওই ব্যক্তিকে রুম দেওয়া হয়।
জানা গেছে, ২৩ জানুয়ারি সন্ধ্যা সোয়া ৭টার দিকে নারায়ণগঞ্জ শহরের মার্ক টাওয়ারের দি মোবাইল-২ শো রুমে একজন লোক এসে নিজেকে বাংলাদেশ সেক্রেটারিয়েট; আমেরিকা উইং মিনিস্ট্রি অব ফরেন অ্যাফেয়ার্সের ডেপুটি সেক্রেটারি আরিফুর রহমান পরিচয় দিয়ে বলেন, তিনি নারায়ণগঞ্জ সার্কিট হাউজের ভিআইপি কক্ষ-২-এ সপরিবারে অবস্থান করছেন। এ বিষয়ে তার একটি ভিজিটিং কার্ডও দেন।
এ সময় তিনি জানান, তারা বিবাহের অনুষ্ঠানে যোগদান করবেন- এ কারণে উপহার হিসেবে তার কিছু মোবাইল লাগবে। তখন শো রুমের মালিক তার চাহিদামত মোবাইল দোকানে নেই এবং অন্য দোকান থেকে এনে দিতে পারবেন বলে জানায়। তখন আরিফুর রহমান ০১৮৮২২৩৯১৫৩ নম্বরের মোবাইল নাম্বার এবং ২ হাজার টাকা অগ্রিম দিয়ে ৫টি মোবাইল সংগ্রহ করে ফোন করতে বলে। পরে ৫টি মোবাইল সংগ্রহ করে ফোন করা হলে আরিফুর রহমান জানান, তিনি সার্কিট হাউজে আছেন এবং মোবাইলগুলো সার্কিট হাউজে নিয়ে যেতে বলেন।
মোবাইলগুলো নিয়ে দোকান মালিক আরও দু’জন কর্মচারীকে নিয়ে রাত সোয়া ৯টার দিকে সার্কিট হাউজে যান। পরে ৫টি মোবাইল আরিফুর রহমানের কাছে দিলে সে পাশের কক্ষে তার পরিবারের লোকজনকে দেখানোর কথা বলে নিয়ে যান। ১০/১৫ মিনিট হয়ে গেলে সার্কিট হাউজের পিয়ন নয়নকে জিজ্ঞাসা করলে নয়ন জানায়, তিনি কিছুক্ষণের মধ্যে আসার কথা বলে তার প্রাইভেট কার নিয়ে বের হয়ে গেছেন। তখন ওই আরিফুর রহমানের মোবাইলে কল করা হলে তিনি রিসিভ করেননি। পরে মোবাইলটি বন্ধ পাওয়া যায়।
সার্কিট হাউজের দায়িত্বে থাকা নেজামত ডেপুটি কালেক্টর (এনডিসি) আব্দুল্লাহ আল জাকি জানান, ২৩ জানুয়ারি রাতে আরিফুর রহমান আমার মোবাইলে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের উপসচিব পরিচয় দিয়ে সার্কিট হাউসের একটি কক্ষ চাইলে একজন পিয়নকে সেটা দেওয়ার জন্য বলি। তিনি আরও জানান, যেহেতু একঘণ্টা বিশ্রামের জন্য চাওয়া হয়েছে তাই রেজিস্ট্রার মেনটেইন করা হয়নি।
এ বিষয়ে মোবাইল শো রুমের মালিক কবির আহম্মেদ লিটন ২৪ জানুয়ারি দুপুরে ফতুল্লা মডেল থানায় সাধারণ ডায়েরিসহ জেলা প্রশাসক বরাবর সিসি ক্যামেরা দেখার অনুমতি চেয়ে পৃথক দুটি লিখিত অভিযোগ দেন।
এদিকে ৩০ জানুয়ারি সিসি ক্যামেরার ভিডিও ফুটেজ থেকে ওই প্রতারকের ছবি পাওয়া গেছে। কিন্তু তাকে গ্রেফতারে তেমন কোনও উদ্যোগ দেখা যাচ্ছে না।
অভিযোগের তদন্তকারী কর্মকর্তা ফতুল্লা মডেল থানার এসআই নাহিদ আহমেদ জানান, মোবাইলের কললিস্টের সূত্রসহ ছবি দেখে অভিযুক্তকে গ্রেফতারে অভিযান চলছে।
/আরএ/এমপি/