শীতলক্ষ্যায় কার্গো জাহাজের ধাক্কায় লঞ্চডুবির ঘটনায় নারায়ণগঞ্জ থেকে চলাচলকারী ছোট লঞ্চগুলোকে ঝুঁকিপূর্ণ আখ্যা দিয়ে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। এতে ৭০টি লঞ্চের পাঁচ শতাধিক শ্রমিক বেকার হয়ে মানবেতর জীবন যাপন করছে। এ অবস্থায় আসন্ন ঈদের আগে লঞ্চ চালুর দাবি জানিয়েছেন বাংলাদেশ জাহাজ শ্রমিক ফেডারেশন। অন্যথায় কঠোর আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তারা।
মঙ্গলবার (১৯ এপ্রিল) নারায়ণগঞ্জ লঞ্চ টার্মিনালে শ্রমিক সংগঠনটি অবস্থান ধর্মঘট পালনকালে এ দাবি করা হয়।
কর্মসূচিতে সংগঠনটির কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক মো. সবুজ শিকদার বলেন, ‘লঞ্চডুবির ঘটনার পর থেকে বিআইডব্লিউটিএ নারায়ণগঞ্জ থেকে সব রুটে ছোট লঞ্চ চলাচল বন্ধ করে দেয়। এতে করে লঞ্চ শ্রমিক ও কর্মচারীরা আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছেন। তাদের বিকল্প কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা না করে হঠাৎ করে লঞ্চ চলাচল বন্ধ করে দেওয়া কোনোভাবে ঠিক হয়নি।’
তিনি আরও বলেন, নারায়ণগঞ্জের লঞ্চগুলো চলাচল বন্ধের আগে কিছু সময়সীমা বেঁধে দেওয়া দরকার ছিল। আমাদের দাবি লঞ্চ মালিকদের একটি সময়সীমা বেঁধে দিয়ে লঞ্চগুলোর আকার বড় করে চলাচলের সুব্যবস্থা করা হোক। এতে করে শ্রমিক কর্মচারীরাও কাজে ফিরতে পারবে এবং যাত্রীরাও স্বল্প খরচে চলাচল করতে পারবে।
আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দিয়ে তিনি বলেন, ‘যদি এ বিষয়ে শিগগিরই কোনও সিদ্ধান্ত না নেওয়া হয় তাহলে শ্রমিক কর্মচারীরা কঠোর আন্দোলনে নামতে বাধ্য হবে। সদরঘাটসহ দেশের অন্যান্য নদীবন্দরের লঞ্চ শ্রমিকরা এই আন্দোলনে একাত্মতা প্রকাশ করলে দেশ জুড়ে যে দুর্ভোগের সৃষ্টি হবে এর জন্য সংশ্লিষ্টরা দায়ী থাকবে।’
কর্মসূচিতে আরও বক্তব্য রাখেন সংগঠনের কার্যকরী সভাপতি মো. মঈন মাহামুদ, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মো. জাকির হোসেন চুন্নু, কবির হোসেন প্রমুখ।
এর আগে, রবিবার (১৭ এপ্রিল) দুপুরে সাত দিনের মধ্যে নারায়ণগঞ্চের সবগুলো রুটে লঞ্চ চালুর দাবি জানিয়েছেন বাংলাদেশ নৌযান শ্রমিক ফেডারেশন। অন্যথায় সংগঠনটির সভাপতি মো. শাহআলম ভূইয়া কঠোর আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। বুধবার (১৩ এপ্রিল) দুপুরে নারায়ণগঞ্জ প্রেসক্লাবে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে একই দাবিতে আলটিমেটাম দেয় বাংলাদেশ জাহাজ শ্রমিক ফেডারেশন।
উল্লেখ্য, ২০ মার্চ শীতলক্ষ্যা নদীতে কার্গো জাহাজ রূপসী-৯ এর ধাক্কায় যাত্রীবাহী লঞ্চ এম.এল আফসার উদ্দিন ডুবে ১০ জনের মৃত্যু হয়। ওই ঘটনার পর থেকে দুর্ঘটনা ও প্রাণহানি এড়াতে নারায়ণগঞ্জ থেকে পাঁচ রুটে চলাচলকারী যাত্রীবাহী লঞ্চ চলাচল বন্ধ করে দেয় বিআইডব্লিউটিএ। এই ঘটনার চার দিন পরে নারায়ণগঞ্জ-মুন্সীগঞ্জ নৌপথে একটি সি-ট্রাক চালু করা হয়। এবং নারায়ণগঞ্জ-চাঁদপুর নৌপথে ঢাকা থেকে আগত দুটি লঞ্চ চালু করা হয়। আর নারায়ণগঞ্জের ছোট লঞ্চগুলো অনিরাপদ বলে এখনও চলাচলের অনুমতি দেওয়া হয়নি।
তবে লঞ্চ মালিকপক্ষ দ্রুততম সময়ের মধ্যে লঞ্চ চালু করার দাবি জানালে নৌ-মন্ত্রণালয় তাদের সিদ্ধান্ত জানিয়েছেন। নারায়ণগঞ্জে সানকিং ডেকের লঞ্চ চলাচল করতে পারবে না সাফ জানিয়ে দেওয়া হয়েছে।