বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, ‘আওয়ামী লীগ ও এরশাদ বারবার বিএনপিকে ধ্বংস করতে চেয়েছে। কিন্তু বিএনপি ফিনিক্স পাখির মতো বরাবরই ধ্বংসস্তূপ থেকে জেগে উঠে আকাশে উড়ে যায় এবং সব মানুষকে নিয়ে ক্ষমতায় যায়। আমাদের যে ন্যূনতম গণতান্ত্রিক চর্চা কাউন্সিল করা, মিটিং করা, সভা করা, তাও তারা করতে দিতে চায় না। তারা ভয় পায়। আমাদের এমন কোনও নেতা নেই যাদের বিরুদ্ধে মামলা দেওয়া হয়নি। সেই অবস্থাতেই আমরা শক্ত হাতে শক্ত পায়ে দাঁড়িয়ে আছি।’
মঙ্গলবার (১৯ এপ্রিল) গাজীপুর জেলা বিএনপির দ্বি-বার্ষিক সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘যারা আজ দেশকে, গণতন্ত্রকে ধ্বংস করছে, স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বকে বিলীন করছে, তারাই আমাদের বড় শত্রু। তাদের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াতে হবে। এ জন্য আমাদের মধ্যে এখন জাতীয় ঐক্য সৃষ্টি করতে হবে। যারা গণতন্ত্র হত্যা করে, কথায় কথায় মানুষ গুম ও হত্যা করে সেই দানবীয় শক্তির সরকারকে পরাজিত করতে হবে। এ জন্য আমাদেরকে সর্বশক্তি নিয়ে জাতীয় ঐক্য সৃষ্টি করে দাঁড়াতে হবে।’
তিনি বলেন, ‘আমরা দুর্নীতির বিরুদ্ধে আন্দোলন করছি। কিছুদিন আগে আইনমন্ত্রী ও সরকারের উপদেষ্টা সালমান এফ রহমানের যে টেলিফোন আলাপ ফাঁস হয়েছে- সেখানে যে কথাগুলো হয়েছে সে কথাগুলোর মধ্যে সজিব ওয়াজেদ জয়ের নাম এসেছে। সেই কথাগুলোর মধ্যে বিচার বিভাগের নাম এসেছে। আমরা জানতে চাই কথাগুলোর অর্থ কী? সেই কথাগুলোতে যা বলা হয়েছে তার তদন্ত করে জনগণের সামনে তুলে আনা হোক। এ জন্য আমরা ইতোমধ্যে দুর্নীতি দমন কমিশনের কাছে চিঠি দিয়েছি।’
মির্জা ফখরুল তথ্যমন্ত্রী হাছান মাহমুদের এক বক্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে বলেন, ‘সাবেক প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানকে পাকিস্তানের অনুচর বলে দাবি করেছেন তথ্যমন্ত্রী। এ বিষয়ে আমরা দৃঢ় কণ্ঠে বলতে চাই, যারা জিয়াউর রহমানকে অস্বীকার করে, তারা বাংলাদেশের স্বাধীনতার বিরুদ্ধে, তারাই হচ্ছে পাকিস্তানের অনুচর। আওয়ামী লীগ আজ যা করছে, তা পাকিস্তানের চেয়ে কোনও অংশে কম নয়, আরও বেশি করছে।’
তিনি বলেন, ‘দেশে বর্তমানে দুর্নীতি চরম পর্যায়ে পৌঁছেছে। ইউনিয়নের ওয়ার্ড পর্যায় থেকে সর্বত্র আজ দুর্নীতির আখড়ায় পরিণত হয়েছে। এমন কোনও সেক্টর নেই যেখানে দুর্নীতি হচ্ছে না। কোভিড টিকা ক্রয়ে ২৩ হাজার কোটি টাকার লুটপাট করা হয়েছে। গাজীপুরের টঙ্গী থেকে জয়দেবপুর চৌরাস্তা পর্যন্ত সড়ক নির্মাণে প্রতি কিলোমিটারে ব্যয় ধরা হয়েছে ২১৩ কোটি টাকা। যা পৃথিবীর কোনও দেশে নেই। দেশের সর্বত্র আজ দুর্নীতিতে ছেয়ে গেছে। দুর্নীতির বিরুদ্ধে আমরা দুর্নীতি দমন কমিশনে চিঠি দিয়েছি।’
মির্জা ফখরুল আরও বলেন, ‘বিএনপি সব মানুষের কাছে তাদের প্রিয় রাজনৈতিক দল হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে। বিএনপি জনগণ ও গণতন্ত্রের কথা বলে। পক্ষান্তরে আওয়ামী লীগ বিপরীত কথা বলে। তারা গণতন্ত্র ধ্বংস করে মানুষের অধিকার হরণ করে দেশে একদলীয় গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করতে চায়। তাই দেশের সাধারণ মানুষ চায়, বিএনপি ক্ষমতায় এসে রাষ্ট্র পরিচালনা করুক। তাহলে এ দেশের মানুষ শান্তি ও নিরাপদে থাকবে।’
গাজীপুর মহানগরের নগপাড়ায় সাগর সৈকত কনভেনশন সেন্টারে জেলা বিএনপির আহ্বায়ক ফজলুল হক মিলনের সভাপতিত্বে ও সদস্য সচিব কাজী ছাইয়েদুল আলম বাবুলের সঞ্চালনায় সম্মেলনে বক্তব্য রাখেন বিএনপির ঢাকা বিভাগীয় সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক অ্যাডভোকেট আব্দুস সালাম আজাদ, বেনজির আহমেদ টিটু, শ্রম বিষয়ক সহ-সম্পাদক হুমায়ূন কবীর খান, স্বাস্থ্য বিষয়ক সহ-সম্পাদক অধ্যাপক ডা. এস এম রফিকুল ইসলাম বাচ্চু, মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক সালাহ উদ্দিন সরকার, সদস্য সচিব সোহরাব উদ্দিন, জেলা বিএনপি নেতা মেয়র মজিবুর রহমান, হুমায়ূন কবীর মাস্টার, শাহজাহান ফকির, শাহ রিয়াজুল হান্নান, সাখাওয়াত হোসেন সবুজ, ভিপি হেলাল উদ্দিন, অ্যাডভোকেট কাজী খান, জয়নাল আবেদীন রিজভী, জেলা যুবদলের আহ্বায়ক আতাউর রহমান মোল্লা, জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি হাসিবুর রহমান মুন্না, জেলা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক ইয়াসিন মোল্লা প্রমুখ।
বিকালে সম্মেলনের দ্বিতীয় পর্বে দলের কাউন্সিলরদের প্রত্যক্ষ ভোটে বিএনপির জেলা কমিটি নির্বাচিত হয়। নির্বাচনে সভাপতি পদে এ কে এম ফজলুল হক মিলন ও সাধারণ সম্পাদক পদে শাহ রিয়াজুল হান্নান নির্বাচিত হন।